গাছ কেটে পুকুর খননের হিড়িক

ঢাকা, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

গাছ কেটে পুকুর খননের হিড়িক

নিজস্ব প্রতিবেদক (রাজশাহী-রাব্বানী) ২:১৬ অপরাহ্ণ, মে ২৫, ২০২০

print
গাছ কেটে পুকুর খননের হিড়িক

রাজশাহীর পুঠিয়া থানাধীন বেলপুকুর ইউনিয়নের দমাদি গ্রামে আম গাছ কেটে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। ইউনিয়নের দমাদি গ্রামে প্রায় ২৫ বিঘা জায়গার ওপর পুকুর খননের প্রস্তুতি হিসেবে ইতিমধ্যেই ২০টি আমের গাছ ও ২০টি খেঁজুর গাছ কেটেছেন জমির মালিক।

গাছ কেটে পুকুর খননকারী জমির মালিক ওয়াহেদ মেম্বার বলেন, ফসল আর ফলের চেয়ে বেশি মুনাফা পুকুরের ব্যবসায়। তাই পুকুর খনন করতেই এ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

বেলপুকুর থানার ওসি জানান, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি জানান।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া চারঘাট থানাধিন শারদা ইউনিয়নের সরকার পাড়ায় প্রায় ১০ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর খনন কাজ শেষের দিকে।

এদিকে দূর্গাপুর পালিবাজারের সাবাসপুর বিলে চ্যালেঞ্জ দিয়ে প্রায় ৬০ বিঘা আয়তনের একটি পুকুর খনন করছে রুহুল নামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি।

অবিযুক্ত রুহুল জানান, পুলিশসহ সকলকেই ম্যানেজ করে পুকুর খনন করছি। টাকা যতই খরচ হোক পুকুর খনন সম্পন্ন করেই ছাড়বো।

এছাড়াও উপজেলার ৬নং মাড়িয়া ইউনিয়নের শাহবাজপুর, ডুমুরকান্দি বিলে, রাত হলেই শুরু হচ্ছে পুকুর খননের কাজ।

স্থানীয় কৃষক ও সাধারণের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের আদেশ অমান্য করেই দিনের পর দিন রাতের আঁধারে প্রতিযোগিতা মূলক চলছে অবৈধভাবে পুকুর খনন কার্যক্রম। জেলার মধ্যে সবচাইতে বেশি পুকুর খনন হচ্ছে দূর্গাপুর উপজেলায়।

সরেজমিন দেখা মিলে তার বাস্তব চিত্র। আর এ সকল অপকর্মের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা, মেম্বার চেয়ারম্যান ও দূগাপুর থানা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক ও স্থানীয়রা জানায়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাস সংকটের মধ্যে বাড়ির আশপাশে কোন জমিই ফাঁকা রাখা যাবেনা। সেখানে ফসলি জমি কেটে মাটি নেয়া হচ্ছে ইট ভাটায়। আর কৃষদের বেকার করে শতশত বিঘা ফসলি জমি খনন করে তৈরি করা হচ্ছে পুকুর।