রাণীনগরে নানা অজুহাতে বাহিরে বের হচ্ছে মানুষ, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

ঢাকা, বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০ | ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

রাণীনগরে নানা অজুহাতে বাহিরে বের হচ্ছে মানুষ, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

সুকুমল কুমার প্রামানিক, রাণীনগর (নওগাঁ) ১:১০ অপরাহ্ণ, মে ২০, ২০২০

print
রাণীনগরে নানা অজুহাতে বাহিরে বের হচ্ছে মানুষ, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় মানা হচ্ছে না লকডাউন। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বার বার ঘরে থাকার নির্দেশনা প্রদান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা ও মাইকিং করা হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

এতে করে বাড়ছে করোনার ঝুঁকি। লকডাউনেও সকালে ভিড় বিকালে ফাঁকা। ফলে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা করছেন সচেতন মহল।

রাণীনগর উপজেলায় ১৩ জন করোনা রোগী সনাক্ত হলেও লকডাউন মানছে না সাধারণ মানুষ। প্রাণঘাতি করোনার মরণ ছোবলকে তোয়াক্কা না করে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে নানা অজুহাতে ঘরের বাহিরে রাস্তায় ও বাজারে বের হচ্ছে মানুষ। খুলছে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চলছে কেনাকাটা।

জানা গেছে, সারা দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রনের জন্য সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছেন। গত ১৫ এপ্রিল নওগাঁ জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। তবে নওগাঁর জেলার রাণীনগর উপজেলাকে লকডাউন ঘোষণা করা হলেও এই উপজেলায় করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সর্ম্পকে ধারণা ও জনসচেতনতা সৃষ্টি না হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা বা নিয়মনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছেনা মানুষ। এছাড়া গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় করোনা ভাইরাস সর্ম্পকে ধারণা না থাকার কারণেও গুরুত্ব দিচ্ছে গ্রাম ও মফস্বলের সাধারণ মানুষ। বুধবারও রাণীনগর উপজেলার সদর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দোকানপাট ছাড়া বিভিন্ন দোকানপাট খোলা ছিল এবং জনসাধারনের অবাধ চলাচল ছিল বলে জানা গেছে।

কাঁচা বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে সকালে ভিড় জমানো হয়। আবার বিকালে ফাঁকা এবং বিকালে দোকানপাট বন্ধ থাকে। এতে করে খুলছে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, চলছে কেনাকাটা। দিনদিন বাড়ছে জনসমাগম, বাড়ছে করোনার ঝুঁকি।

সদরের বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় ছিল মানুষ, ভ্যান, ইজিবাইক আর সিএনজির চলাচল। অধিকাংশ দোকানপাটের ঝাঁপ আংশিক খোলা ছিল। অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখে সামনে বসে থেকে ব্যবসা করছিলেন। কোন ক্রেতা গেলে চাহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করছেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক ব্যবসায়ী বিভিন্ন কৌশলে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার গোল চত্বর, স্টেশন এলাকা, বিজয়ের মোড়, বটতলী এলাকা ও রেলগেট এলাকাসহ বিভিন্ন রাস্তায় ছিল ভ্যান, ইজিবাইক ও মানুষের অবাধ চলাচল।

দোকান খোলা রাখার বিষয়ে রাণীনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি ছারোয়ার মিনা বটুর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।

রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, যারা সরকারি আইনকে ও লকডাউন উপেক্ষা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।