খাল ও কালভার্ট ভরাট করে চলছে নির্মাণ কাজ

ঢাকা, সোমবার, ১ জুন ২০২০ | ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

খাল ও কালভার্ট ভরাট করে চলছে নির্মাণ কাজ

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১২:০৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৯, ২০২০

print
খাল ও কালভার্ট ভরাট করে চলছে নির্মাণ কাজ

নওগাঁর রানীনগর আবাদপুকুর-কালীগঞ্জ আঞ্চলিক মহা সড়কে রক্তদহ বিলের চারটি খালসহ পানি নিষ্কাশনের প্রায় ১২টি সেতু-কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে ধীরগতিতে চলছে নির্মাণ কাজ। ফলে যে কোন সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে পানিতে তলে রক্তদহবিল এলাকার প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। ফসল বাঁচাতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করে খালসহ সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

জানা যায়, রানীনগর উপজেলা গোল চত্বর থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নতুন করে মজবুত পাকা করণ ও প্রসস্ত এবং চারটি সেতু ও ২৩ টি কালভার্ট ভেঙে নতুন করে নির্মাণ কাজের টেন্ডার দেওয়া হয়। সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করতে ব্যয় ধরা হয় ১০৫ কোটি টাকা।

গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে টেন্ডার শেষে কাজ শুরু করলে প্রথম দিকে শুধু মাত্র চারটি সেতু ও ৫-৬টি কালভার্ট ভেঙে কাজ শুরু করে। সেতু-কালভার্ট ও সড়ক পাকা করণে এসব কাজের সময় সিমা প্রাথমিক ভাবে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও পরে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান আবেদন করে চলতি বছরের ৮ মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময় নেয়।

বছরের পুরো শুষ্ক মৌসুম পার হয়ে গেলেও সেতু কালভার্টের কাজ না করে এখন এসে রক্তদহ বিল থেকে বয়ে আসা রতনডারী খাল, রক্তদহ খাল, সিম্বা খাল ও করজগ্রাম খালের মুখসহ ১২টি সেতু কালভার্টের মুখ মাটি দিয়ে ভরাট করে বন্ধ রেখে চলছে রাস্তা নির্মাণ কাজ। ইতিমধ্যে দুই-একটি কালভার্টের কাজ শেষ হলেও কয়েকটি কালভার্ট এখনো ভাঙা হয়নি।

আবার যেগুলো ভাঙা হয়েছে সেগুলোর কাজ চলছে খুব ধীরগতিতে। রক্তদহ বিলের চারে দিকে রানীনগরের অংশ, সান্তাহার ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার অংশ মিলে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান রয়েছে। আগামজাতের বেশকিছু ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। বিল থেকে পানি নিষ্কাশন বা বের হওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে কোন সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে বিল এলাকার প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। 

বিলপালশা গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান, বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল মমিন, সিম্বা গ্রামের নাছির উদ্দীন, রাজাপুর গ্রামের হবিবর রহমানসহ প্রায় অর্ধশত কৃষক বলেন, রানীনগর উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বগুড়ার আদমদীঘি এবং সান্তাহার অঞ্চলসহ আশেপাশের এলাকা থেকে পানি এসে রক্তদহ বিলে জমা হয়। এই পানি চারটি খাল এবং ১২টি সেতু-কালভার্ট দিয়ে বের হয়ে যায়। পানি বের হওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যে কোন সময় বৃষ্টিপাত হলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে তলে নষ্ট হয়ে যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে না দিলে বৃষ্টিপাতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি এবং উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

নওগাঁ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে কাজ পিছিয়ে গেলো। তার পরেও সমস্যা হবেনা জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সেতু-কালভার্টের মুখে মাটির নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ দেওয়া আছে। যদিও সে রকম অবস্থা দেখা যায় তাহলে পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।