রানীনগরে অসচেতন মানুষ

ঢাকা, বুধবার, ৩ জুন ২০২০ | ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

রানীনগরে অসচেতন মানুষ

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ০৬, ২০২০

print
রানীনগরে অসচেতন মানুষ

করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে জনসমাগম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হলেও মানছে না নওগাঁর রাণীনগরের মানুষ। করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা সর্ম্পকে ধারণা না থাকা ও জনসচেতনতা সৃষ্টি না হওয়ায় এবং প্রসাশনের অবহেলায় সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা বা নিয়মনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না সাধারণ মানুষ। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গতকাল রোববার উপজেলার আবাদুপুকরে হাট বসানো হয়। এভাবে চলতে থাকলে ভাইরাস ছড়িয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

সারা দেশে করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। নির্দেশনার প্রথম দিকে শুধুমাত্র একদিন বন্ধ ছিল আবাদপুকুর হাট। এছাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের তৎপরতায় এবং প্রসাশনের কিছুটা টহলে সাপ্তাহিক এ হাট কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গত সপ্তাহ থেকে মাইকিং করেও যেন বন্ধ হচ্ছে না হাট।

নির্দেশনা অনুযায়ী রানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ওষুধের দোকান ব্যাতীত সব ধরনের দোকান পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধের নির্দেশ দেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা শনিবার বিকেলেই হাট, দোকান বন্ধসহ ঘর থেকে প্রয়োজন ছাড়া বের না হতে মাইকিং করে অনুরোধ করেন। এরপরও গতকাল রোববার সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সাপ্তাহিক আবাদপুকুর হাট বসে আগের মতোই।

সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গার্মেন্ট, অফিস, আদালত ছুটির পর থেকে লোকজন গ্রামে ছুটে এসেছে। তারা বাড়িতে না থেকে অবাধে চলাচল করছে। গত সপ্তাহে আবাদপুকুর এলাকার অলঙ্কারদীঘি গ্রামের আল-আমিন (২২) নামে যুবক জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসে।

ওই যুবক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে গ্রামবাসী তাকে গ্রামে উঠতে দেয়নি। পরে ওই দিনই আদমদীঘি, রানীনগর ও নওগাঁ হাসপাতালে নিলেও চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ করেছিল যুবকের পরিবার। অবশেষে ওই দিনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে মারা যায় সে। আল-আমিন মেননসাইটিজ রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে ইউএনও জানিয়েছিলেন। এ ঘটনায় এখনও এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রানীনগর উপজেলার কালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বাবলু ম-ল বলেন, মাইকিং করার পরও লোকজনকে আটকানো যাচ্ছে না। পরে থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশ স্থানীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে হাট ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল-মামুন বলেন, হাট ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তারপরও অভিযান পরিচালনা করা হবে।