নওগাঁয় কুঁচিয়া শঙ্কায় চাষি

ঢাকা, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২০ | ১৮ চৈত্র ১৪২৬

নওগাঁয় কুঁচিয়া শঙ্কায় চাষি

আব্দুর রউফ পাভেল-নওগাঁ ৯:২৫ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০২০

print
নওগাঁয় কুঁচিয়া শঙ্কায় চাষি

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রের আওতায় বিলুপ্তপ্রায় স্বাদুপানির কুঁচিয়া মাছের চাষ করে আসছে নওগাঁ ও সান্তাহারের আশেপাশের মাছ চাষিরা। এই কুঁচিয়া মাছ মূলত দেশের কিছু ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিকরা খেলেও এই মাছের প্রধান বাজার হচ্ছে চায়নাসহ বিশ্বের আরও কিছু দেশ। কিন্তু সম্প্রতি করোনা ভাইরাসের কারণে এই বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কুঁচিয়া মাছ চাষীরা। নওগাঁর পাশে সান্তাহারে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট প্লাবন ভূমি উপকেন্দ্রটি।

এই কেন্দ্র থেকে সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে অধিক লাভজনক বিলুপ্তপ্রায় স্বাদুপানির এই কুঁচিয়া মাছ চাষ করে আসছে নওগাঁ ও সান্তাহারের আশেপাশের বেশকিছু মাছ চাষীরা। দেশে এই মাছের বাজার না থাকায় প্রধানত চীন, জাপান, কোরিয়া, থাইলান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে এই অধিক লাভজনক মাছ রপ্তানি করা হয়। তাই এই মাছে লাভের পরিমাণ বেশি। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের মহামারির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে বিদেশের কুঁচিয়া মাছের বাজার।

দেশে এই মাছের বাজার ও গ্রাহক না থাকায় এই অঞ্চলে উৎপাদিত কুঁচিয়া মাছ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে চাষিরা। করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে লাভজনক কুঁচিয়া চাষিদের গলার কাটায় পরিণত হয়েছে। বিলুপ্ত প্রায় স্বাদুপানির এই কুঁচিয়া মাছ চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন অনেক মাছ চাষী।

সান্তাহারের উপর পোঁওতা গ্রামের কুঁচিয়া চাষি জাহাঙ্গীর বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বর্তমানে এই কুঁচিয়া মাছ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি। বিগত সময়ে পাইকাররা এসে পুকুর থেকে এই কুঁচিয়া মাছ নিয়ে যেতো। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে বিদেশের বাজার বন্ধ হওয়ায় পাইকাররা কুঁচিয়া কিনছেন না। একই গ্রমের জহুরুল বলেন, কুঁচিয়া মাছ নিয়ে আমরা বিপাকে পড়েছি। বিক্রি করতে পারছি না। আগামীতে কি করবো আমরা ভেবে পাচ্ছি না।

সান্তাহারের বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের উপকেন্দ্র প্রধান ড. ডেভিট বিন্টু দাস বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ করাসহ সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে এই লাভজনক কুঁচিয়া চাষে উদ্বুদ্ধ করে আসছি। এই মাছ চাষ করে চাষিরাও অনেক লাভবান হয়েছেন।

চাষিদের পাশাপাশি আমরাও এই উপকেন্দ্রে সুস্বাদু বিলুপ্তপ্রায় স্বাদু পানির কুঁচিয়া মাছ বাণিজিক ভাবে উৎপাদন করে আসছি। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে কুঁচিয়া মাছের বিদেশী বাজার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চাষিসহ এই কুঁচিয়া মাছ নিয়ে আমরা চরম বিপাকে পড়েছি।