কৃত্রিম সংকটে চড়া দামে সার বিক্রি

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

কৃত্রিম সংকটে চড়া দামে সার বিক্রি

পাঁচবিবি (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ২:৩৮ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০২০

print
কৃত্রিম সংকটে চড়া দামে সার বিক্রি

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে বোরো মৌসুমের শুরুতে কৃত্রিম ডিএপি (ডাই অ্যামোনিয়া ফসফেট) সার সংকট দেখিয়ে ডিলাররা বেশি দামে সার বিক্রি করছে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মৌসুমের শুরুতেই ডিএপি সার না পাওয়ায় বাধ্য হয়েই অনেকেই টিএসপি (ট্রিপুল সুপার ফসফেট) সার ব্যবহার করছেন। ফলে সরকার ডিএপি সারের দাম কমালেও এর সুফল পাচ্ছেন না কৃষক। এতে চলতি ইরি-বোরো আবাদের ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষক। তবে দাম বেশি নেওয়ার কথা অস্বীকার করে সার ডিলাররা বলেন, সরবরাহ না থাকায় কৃষক সার পাচ্ছেন না।

খুচরা ডিলারদের দাবি, টিএসপি সার না কিনলে ডিএপি সার দিচ্ছেন না সার ডিলাররা।

উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ডিএপি সারে নাইট্রোজেনের পরিমাণ ১৮ ভাগ থাকায় কৃষক ডিএপি সার ব্যবহার করেন। আর এ জন্য ফলনও ভালো হয়।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এবার উপজেলায় ২০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। চলতি মাসের বরাদ্দকৃত ৩৯৫ মেট্রিক টন ডিএপি সার ডিলাররা উত্তোলন করেছেন। উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়নে ১২জন ডিলারের মাধ্যমে ৮১ জন সাব-ডিলার সার বিক্রয় করে থাকেন। তবে অনেক ডিলার জানান, তাদের কাছে ডিএপি সার নেই। সে কারণে কৃষকও পাচ্ছেন না। উপজেলার ডুগুরপাড়া এলাকার খুচরা সার ডিলার ফেরদৌস হোসেন বলেন, ‘ডিলাররা সার না দিলে আমরা বিক্রি করব কিভাবে।’

খুচরা সার ডিলার বিরাজ হোসেন বলেন, ‘ডিলারদের কাছে ডিএপি সার থাকলেও তারা দিচ্ছেন না। ডিএপি সার নিতে হলে বেশি করে টিএসপি সার নিতে হবে। আর টিএসপি সারের দাম বেশি হওয়ায় কৃষক বেশি পরিমাণে কিনতেও পারছেন না।’

বীরনগর গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেনসহ একাধিক কৃষকের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, ড্যাপ (ডিএপি) সার না পাওয়ায় ২৪ টাকা কেজি দরে ফসফেট (টিএসপি) সার কিনে জমিতে দিয়েছি।

ধরঞ্জী গ্রামের কৃষক মশিউর রহমান বলেন, আটশ টাকা হলেও সাব ডিলারের কাছ থেকে এক বস্তা ডিএপি সার এক হাজার টাকা দিয়ে কিনেছি।

বাগজানা ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক চঞ্চল সাহা বলেন, আমি বাগজানার কোন সারের দোকানে সার পাইনি অগত্যা পাঁচবিবি থেকে এক বস্তা ডিএপি সার ১১শ টাকায় সংগ্রহ করে জমিতে দিয়েছি।

উপজেলা কৃষি অফিসার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘চাহিদা বেশি থাকায় এ সমস্যা হচ্ছে। ডিএপি সার না থাকলেও কৃষকের সমস্যা হবে না। কৃষক টিএসপি ও ইউরিয়া সার ব্যবহার করতে পারবে।’