বিলুপ্তির পথে হলুদ বিহার

ঢাকা, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২০ | ২০ চৈত্র ১৪২৬

বিলুপ্তির পথে হলুদ বিহার

খালিদ হোসেন মিলু, বদলগাছী, নওগাঁ ১০:৩৪ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২০

print
বিলুপ্তির পথে হলুদ বিহার

নওগাঁর বদলগাছীতে বিলুপ্তির পথে ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নিদর্শন হলুদ বিহার। ধ্বংসাবশেষ নিয়ে টিকে থাকা হলুদ বিহারের জায়গা এখন গোচারণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। এই বিহারটির ওপর কর্তৃপক্ষের তেমন কোনো নজর নেই বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহারের পাশাপাশি হলুদ বিহারেও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পর্যটক আসেন দেখার জন্য। এছাড়া শিক্ষা সফরে দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরাও আসেন। বিহারটিকে সংস্কার করে এর ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষণ করার দাবি এই এলাকার মানুষের।

বিহারের চারদিকে কোন সীমানা প্রাচীর নেই। এ কারণে গরু-ছাগল প্রবেশ করে। সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহকালে জানা যায়, বদলগাছীর বিলাসবাড়ী ইউনিয়নে এই বিহারের অবস্থান। এটি একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ। এটি ছিল জঙ্গলে পূর্ণ উঁচু একটি জায়গা। টিলার মাথায় ছিল একটি বড়ই গাছ, যার নিচে ছিল একটি গভীর পাটকূপ। পাটকূপের কথা এই এলাকাবাসীর সকলেরই জানা। জঙ্গল ও গাছপালা কেটে ফেলার আগেই কূপটি ভরাট হয়ে গেছে।

পরবর্তী সময়ে বিহারের সংস্কারকালে এই কূপের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আশপাশের লোকজন বিহারের চারপাশের মাটি কেটে বাড়িঘর নির্মাণ করেন। মাটি কাটার এক পর্যায়ে বিহারের পূর্ব দিকে ইটের সিঁড়ি বের হয়। তখন এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। তারপরেই এই দ্বীপটি বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে নেওয়া হয়।

হলুদ বিহার গ্রামে ছিল অনেকগুলো বিক্ষিপ্ত ঢিবি, তাতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল পুরনো ইট, ভাঙা মৃতপাত্রের বিভিন্ন নিদর্শন। এ থেকেই এখানে বৌদ্ধ বসতির প্রমাণ মেলে। ১৯৭৬ সালে এই জায়গাটি সংরক্ষিত করা হয়।

১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ প্রথমবারের মত এখানে খনন কাজ শুরু করে। ১৯৯৩ সালে দ্বিতীয়বার খননকালে ১টি মন্দির আবিষ্কৃত হয়। খননকালে বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন সামগ্রী, মানুষের মূর্তি সম্বলিত ভাঙা পোড়ামাটির ফলক, পাথর সামগ্রী ও চূর্ণ যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে হলুদ বিহার গ্রামের বাসিন্দা শাহিনুর ইসলাম শাহিন, রোস্তম আলী, বলরামপুর গ্রামের নাজমুল, রকি ও আরো অনেকে বলেন, বিহারের চারদিকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা জরুরি। সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া এবং এর সংস্কার ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের কাস্টডিয়ান আবু সাঈদ ইনাম তানভিরুলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি জানান, বিহারটি নিয়ে আমাদের অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। এখানে আরো খননের প্রয়োজন আছে।

চতুর্দিকে কাঁটা তার দিয়ে ঘিরতে হবে, যাতে বাইরে থেকে বিহারটি সাধারণ লোকজন দেখতে পায়। বিহারটির ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা আছে। বিহারটি সার্বক্ষণিক দেখাশোনার জন্য আবু বক্কর নামে একজন কর্মী নিয়োজিত আছেন।