খরস্রোতা যমুনায় বালুচর

ঢাকা, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৪ আশ্বিন ১৪২৭

খরস্রোতা যমুনায় বালুচর

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ ৯:২২ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০২০

print
খরস্রোতা যমুনায় বালুচর

বর্ষাকালে রুদ্ররূপ ধারণ করলেও কার্যত এখন পানিশূন্য হয়ে পড়েছে যুমনা নদী। ড্রেজিং এবং খনন না করায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে পলি জমে সরু নালায় পরিণত হয়েছে নদীটি। সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদীর বুকজুড়ে এখন জেগে উঠেছে বালুচর।

তবে যুমনার বালুচর একদিকে আশীর্বাদ হলেও অন্যদিকে আবার অভিশাপ। কারণ বছরের এই সময়টাতে নদীতে জেগে উঠা চরে স্থানীয়রা বিভিন্ন ধনের ফসলের চাষ করেন। আবার নদীতে পানি না থাকার কারণে হাজার হাজার নৌ-শ্রমিক এবং জেলেরা বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করেন। অনেকে বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে দিয়ে বিভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন।

সরজমিন দেখা গেছে, কাজিপুর সদর, মাইজবাড়ী, গান্ধাইল, শুভগাছা, খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, মনসুরনগর, চরগিরিশ ও নিশ্চিন্তপুর ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত যমুনা নদী এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। এর বুকজুড়ে জেগে উঠেছে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। জমির মালিকরা জেগে ওঠা চরে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করে সংসার পরিচালনা করছেন। কিন্তু ভরা নদীতে যেসব নৌ-শ্রমিক নৌকা চালিয়ে এবং জেলেরা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতেন তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। জেলেরা তাদের উপকরণ নৌকা এবং জাল বিক্রি করে দিয়ে ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়েছেন।

নাটুয়াপাড়া ইউনিয়নের কৃষক সেলিম বলেন, নদীতে যখন পানি পরিপূর্ণ থাকে তখন জমিজমার কোনো হদিস থাকে না। শীত আসলেই নদীর বুকজুড়ে জেগে উঠে হাজার হাজার একর আবাদি জমি। জেগে ওঠা জমিতে বিভিন্ন ফসলের আবাদ করে খুব ভালোভাবে সংসার পরিচালনা করা যায়।

কথা হয় কাজিপুর সদর ইউনিয়নের জেলে বিজয় দাস, নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়নের পরিমলের সঙ্গে। তারা বলেন, পানি নেই যমুনা নদীতে। নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় এখন আর জাল ফেলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছি।

কাজিপুরের মেঘাই নৌ-ঘাটের শ্রমিক আল-আমিন ও বাদশা জানান, আজ থেকে ১০-১২ বছর আগে গোটা বছরই নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতাম। এখন যমুনা নদী বিভিন্ন শাখা নদী এবং নালায় পরিণত হয়েছে। নৌকা চালানোর মত কোনো জায়গা নেই।

কাজিপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী জানান, যমুনা নদীর নাব্য হ্রাস পাওয়ায় ১০টি ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কমপক্ষে এক হাজার নৌ-শ্রমিক এবং জেলে আজ বেকার হয়ে পড়েছেন।

কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দীকী জানান, নব্য সংকট কাজীপুরের জন্য রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের ব্যবস্থা ও সহযোগিতা করা হচ্ছে।