১৪২ শিক্ষার্থীর এক শিক্ষক

ঢাকা, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৬ আশ্বিন ১৪২৭

১৪২ শিক্ষার্থীর এক শিক্ষক

মাহবুবুজ্জামান সেতু, মান্দা (নওগাঁ) ১:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০২০

print
১৪২ শিক্ষার্থীর এক শিক্ষক

নওগাঁর মান্দায় মাত্র একজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পাঁচ নম্বর বাঁকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম। অথচ বিদ্যালয়টিতে রয়েছে প্রায় ১৪২ জন শিক্ষার্থী।

 

অভিভাবকরা বলছেন, যে একজন শিক্ষক রয়েছেন তিনি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটিতে আর কোনো শিক্ষক না থাকায় তিনি একাই সব শ্রেণির ক্লাস নিচ্ছেন। এমনকি মিটিং ও যাবতীয় দাফতরিক কাজে তাকে সব সময় ব্যস্ত থাকতে হয়। সে কারণে বর্তমানে বিদ্যালয়ের পাঠদান ব্যবস্থা খুবই নাজুক।

জানা যায়, মান্দার ভাঁরশো ইউপির প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে স্থানীয় ইউসফ আলী নামে এক ব্যক্তির দান করা ৬৫ শতক জমিতে ১৯৫৯ সালে ৫ নম্বর বাঁকাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। যা পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে সরকারিকরণ হয়। ওই বিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১৪২ জন। শিক্ষকের সংখ্যা পাঁচজন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে মাত্র তিনজন।

অপর দু’জন সহকারী শিক্ষকের মধ্যে মুনমুন বর্মণ আছেন ছয়মাস ধরে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। আরেকজন শিক্ষক আফরোজা আক্তার এক বছরের পিটিআই ট্রেনিংয়ে সম্প্রতি নওগাঁ গেছেন। বাকি দুই শিক্ষকের মধ্যে প্রধান শিক্ষক ও একজন সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বছরের পর বছর বিদ্যালয়টিতে এভাবে শিক্ষক সংকট লেগে থাকে বলে জানান অভিভাবকরা।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল বলেন, আমি বেশকিছু দিন ধরে বিদ্যালয়টিতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বে আছি। কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট লেগে আছে। অনেক ক্ষেত্রে একজন শিক্ষকের পদ শূন্য থাকলে তা স্থানীয়ভাবে খণ্ডকালীন শিক্ষক দিয়ে পূরণ করা যায়। কিন্তু যেখানে একজন সহকারী শিক্ষক ছয়মাস ধরে মাতৃত্বকালীন ছুটিতে এবং আরেকজন শিক্ষক এক বছরের জন্য পিটিআই ট্রেনিংয়ে গেছেন। বাকি দুই শিক্ষকের পদ শূন্য থাকায় পাঠদান ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবেই ব্যহত হচ্ছে। পাঁচটি শ্রেণিতে প্রায় ১৫০ শিক্ষার্থীকে আমার একার পক্ষে পাঠদান কিভাবে সম্ভব? তারপরও বিদ্যালয়তো বন্ধ করে দিতে পারি না, কোনোমতে চলছে। শিক্ষক সংকটের বিষয়ে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত রয়েছেন। এখন বিদ্যালয়ে শিক্ষক বলতে আমি একজনই আছি। এক-দুইজন শিক্ষক দিয়ে বিদ্যালয়ে সুষ্ঠুভাবে পাঠদান কখনো সম্ভব নয়।

মান্দা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোখলেসুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের বিষয়টি আমি জানি না। এখন পর্যন্ত আমাকে কেউ জানায়নি। এই প্রতিষ্ঠান ছাড়াও মান্দা উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের ৬৫টি পদ এবং সহকারী শিক্ষকের ৪৮টি পদ ফাঁকা রয়েছে। যত দ্রুত সম্ভব এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে।