পত্নীতলায় বৈষম্যের শিকার আদিবাসী নারীরা

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭

পত্নীতলায় বৈষম্যের শিকার আদিবাসী নারীরা

ইখতিয়ার উদ্দীন আজাদ, পত্নীতলা (নওগাঁ) ৯:৫৬ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৪, ২০১৯

print
পত্নীতলায় বৈষম্যের শিকার আদিবাসী নারীরা

বরেন্দ্র অঞ্চল নামে খ্যাত নওগাঁয় কৃষি উন্নয়নে অবদান বাড়ছে আদিবাসী নারীদের। ১১টি উপজেলার মধ্যে পত্নীতলা উপজেলায় প্রায় ১৪ হাজার আদিবাসী নারী অন্যের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছে উপজেলা পরিসংখ্যান অফিস। তবে নারী শ্রমিকরা মজুরি বৈষম্যের শিকার হচ্ছে।

আদিবাসী শ্রমিক ও নেতারা জানান, বংশ পরম্পরায় তারা কৃষিকাজ করে আসছেন। আদিবাসী নারীরা অন্য কোনো কাজ করতে না পারায় প্রধান পেশা হিসেবে কৃষিকাজকে বেছে নিয়েছেন। দক্ষতার সঙ্গে কাজ করায় কৃষিকাজে নারী শ্রমিকদের চাহিদাও রয়েছে। পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকরা ভালো কাজ করলেও নারীদের মজুরি প্রদান করা হয় কম। একজন পুরুষ শ্রমিক সমান কাজ করে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেলেও নারী শ্রমিকদের দেওয়া হয় স্থানভেদে ১৩০ থেকে ২০০ টাকা।

পত্নীতলা ইউপি সদস্য দিনোমণি তিগ্যা বলেন, আদিবাসী নারী শ্রমিকরাই বরেন্দ্র অঞ্চলের জঙ্গল পরিস্কার করে সব জমিকে ফসলি জমিতে পরিণত করেছেন। ধানসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে আদিবাসী শ্রমিকদের অবদান রয়েছে সবচেয়ে বেশি। অথচ আদিবাসী শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে ঠকানো হচ্ছে প্রতিনিয়ত। আদিবাসী নারীরা দীর্ঘকাল ধরে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটেনি।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় আদিবাসী কেন্দ্রীয় পরিষদের (রাজশাহী) কোষাধ্যাক্ষ ও পত্নীতলা উপজেলা আদিবাসী পরিষদ শাখার সভাপতি সুধীর তির্কী বলেন, আদিবাসীদের সর্ব প্রথম সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। এছাড়া আদিবাসী নারী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণসহ তাদের জন্য শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে।

পত্নীতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রকাশ চন্দ্র সরকার বলেন, পত্নীতলা উপজেলায় ১৩ হাজারের বেশি নারী কৃষি শ্রমিক রয়েছে। গত চার বছরে প্রায় দেড় হাজার নারী শ্রমিক প্রশিক্ষণসহ কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।