অসময়ে যমুনায় ভাঙন

ঢাকা, শনিবার, ৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অসময়ে যমুনায় ভাঙন

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি ৫:৫৯ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

print
অসময়ে যমুনায় ভাঙন

অসময়ে যমুনার ভাঙন দেখা দিয়েছে। সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ঘুশুরিয়া হিজুলিয়া ও খাষপুখুরিয়ার ইউনিয়নের কাঁঠালিয়া চরের তিনটি গ্রাম নদীর ভাঙনে বিলিন হচ্ছে। শুকনো মৌসুমে যমুনার ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ফসলি জমি, রাস্তা, মসজিদ ও হুমকির মুখে ঘুশুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হিজুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হিজুলিয়া জামে মসজিদ ঘুশুরিয়া বাজার ও জামে মসজিদ ও ঘুশুরিয়া মোল্লা পাড়া জামে মসজিদ।

তা ছাড়াও বিলীন হয়েছে ঘুশুরিয়া বাজার ও নৌঘাট। এখনও ভাঙন রোধে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দুই সপ্তাহে নদীরগর্ভে চলে গেছে চিনাবাদাম, মাসকলাই, মরিচ, সরিষাসহ কয়েক হেক্টর ফসলি জমি।

বুধবার সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কৃষক ইতি উল্লাহ, আব্বাস আলী, বাদাম মাসকলাই গাছ নিজের ভাগ্যকে হাত দিয়ে টেনে তুলছে। ঘুশুরিয়া বাজারের সভাপতি সেলিম মোল্লা জানান শুষ্ক মৌসুমে যমুনা নদীর এমন ভাঙন এলাকাবাসী আগে কখনও দেখেনি। দুর্গত মানুষের আহাজারি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এবং সরকারি দফতরে পৌঁছে না। কর্তৃপক্ষ ধরেই নিয়েছে, বর্ষা মৌসুম ছাড়া অন্য সময় নদী ভাঙে না।

আশরাফ মেম্বার ও কাঁঠালিয়া চরের আবুল কাসেম মেম্বার ও সাইফুল ইসলাম জানান ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণে কৃষকরা দিন দিন নিঃস্ব হচ্ছে। তারা আক্ষেপ করে জানান, এ চরে আশ্রয় এমন অনেক পরিবার রয়েছে, যারা এক সময় বিঘা বিঘা জমির মালিক ছিল। অথচ এখন তারা অন্যের জমিতে মজুরি খেটে সংসার চালাচ্ছে। টাকার অভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে পারছে না। তবে আমার মতো ভাঙনকবলিত নিঃস্ব মানুষের হাহাকার থেকেই যাবে।

বাঘুটিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকী জানান, নদী শুকিয়ে ছোট বড় চরের সৃষ্টি হয়েছে ও অপরিকল্পিতভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তলনের কারণেই অসময়ে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও যমুনার পূর্ব পাড়ে খাষপুখুরিয়া, রেহাই পুখুরিয়া, চর বিনানই এখনও ভাঙছে।