অর্থের বিনিময়ে বিএনপির কমিটি

ঢাকা, বুধবার, ২০ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬

অর্থের বিনিময়ে বিএনপির কমিটি

পুঠিয়া (রাজশাহী) প্রতিনিধি ৬:০২ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৬, ২০১৯

print
অর্থের বিনিময়ে বিএনপির কমিটি

নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটিগুলোতে টাকার বিনিময়ে সমালোচিত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও চারঘাট বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু সাইদ চাঁদ ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সককারের বিরুদ্ধে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে করে ঘরে বসে যুদ্ধাপরাধী ও অগ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে এসব পদে বসানো হয়েছে বলে অভিযোগ তৃণমূলের।

রাজশাহী জেলা বিএনপির চারটি ইউনিটের নতুন আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে কেন্দ্রে নালিশও করেছেন তৃণমূল নেতাকর্মীরা। পুঠিয়া উপজেলা ও পৌরসভা এবং দুর্গাপুর উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি নিয়ে আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে এ নালিশ করা হয়।

গত মঙ্গলবার দলের মহাসচিবকে দেওয়া লিখিত অভিযোগে স্থানীয় নেতাকর্মীরা এসব আহ্বায়ক কমিটি বাতিল তরে পুনর্গঠনের দাবি তুলেছেন। তারা বলেছেন, চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপির আহ্বায়ক কমিটিগুলো। তবে ইতোমধ্যে একটি কমিটির আহ্বায়ক পদত্যাগও করেছেন বলে জানা গেছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর পুঠিয়া ও দুর্গাপুর উপজেলার ইউনিটের ৫৩ সদস্য করে আহ্বায়ক কমিটি দেওয়া হয়। ৩১ সদস্য দিয়ে রাজশাহী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এসব কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিগুলোতে চাঁদের অনুসারীদেরই স্থান দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে রাজশাহী-৫ আসনের বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

ফলে তারাই এসব কমিটির বিরুদ্ধে সম্প্রতি লিখিত অভিযোগ করেছেন কেন্দ্রীয় কমিটিতে। অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, পুঠিয়া বিএনপির আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকের উপজেলা বিএনপির সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অতীতেও ছিল না। তিনি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আর সদস্য সচিব এন্তাজুল হক বাবুও পুঠিয়ায় বসবাস করেন না। অংশ নেন না দলীয় কর্মকাণ্ডে।

অভিযোগের বিষয়ে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নাদিম মোস্তফা বলেন, সাজানো গোছানো বিএনপিকে আওয়ামী লীগের হাতে তুলে দিতে এসব কমিটি দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ ও সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার কমিটি করার জন্য বিভিন্ন উপজেলায় সভা করেছেন। কিন্তু কমিটি দিয়েছেন ঘরে বসে। তাদের মূল উদ্দেশ্যে নাদিম মোস্তফাকে পুঠিয়া-দুর্গাপুর থেকে উচ্ছেদ করা। কিন্তু এতে দলের বড় ক্ষতি হয়ে গেছে। নেতাকর্মীরা হতাশায় ভুগছেন।

তবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার বলেন, আহ্বায়ক কমিটি করতে আমরা সভা করেছি। যাদের পক্ষে উপস্থিতি এবং সমর্থন বেশি পেয়েছি তাদের আহ্বায়ক কমিটিতে দায়িত্ব দিয়েছি। এ কমিটি তো বেশি দিনের জন্য নয়। এক-দুই মাস দায়িত্ব পালন করবে। সুতরাং এ কমিটি নিয়ে অভিযোগ করার কিছু নেই।