চিকিৎসক সংকটে মিলছে না সেবা

ঢাকা, রবিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৯ | ৫ কার্তিক ১৪২৬

চিকিৎসক সংকটে মিলছে না সেবা

পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি ৬:০০ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৯, ২০১৯

print
চিকিৎসক সংকটে মিলছে না সেবা

নওগাঁর পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিজেই এক প্রকার অসুস্থ্য। এক্সরে মেশিন, আল্ট্রাসনো ও ইসিজি যন্ত্রও নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রোগীরা রোগ নির্ণয়ের আধুনিক সুবিধা গ্রহণে বঞ্চিত হচ্ছেন।

ফলে রোগীদের বেশি টাকা খরচ করে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো থেকে এসব সেবা নিতে হচ্ছে। এছাড়া চিকিৎসক সংকটের কারণে ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার গরিব ও অসহায় মানুষ। গাইনি চিকিৎসক না থাকায় অন্ত:সত্ত্বা ও জটিল রোগীর অস্ত্রোপচার হয় না দীর্ঘদিন ধরে।

জানা গেছে, পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১১ সালে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করতে প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ফলে ২০১২-২০১৩ অর্থবছরে ৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ভবন নির্মাণের কয়েক বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত ৫০ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি দেওয়া হয়নি। বাড়ানো হয়নি সুযোগ-সুবিধা।

এজন্য গত ৮ বছর ধরে ৩১ শয্যার জনবল ও যন্ত্রপাতি দিয়েই চলছে ৫০ শয্যার কার্যক্রম। আর ৩১ শয্যার হাসপাতালে যে জনবল ও যন্ত্রপাতি থাকার কথা সেটিও এখন নেই। ৫০ শয্যা হওয়ার পর হাসপাতালটিতে চিকিৎসক পদ থাকার কথা ২১টি। কিন্তু বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র চারজন।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা প্রায় প্রশাসনিক কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনজন চিকিৎসককে রোগীদের সেবা দিতে হয়। গাইনি, অবেদনবিদ, মেডিসিন, অর্থোপেডিক্স, সার্জারি ও শিশুসহ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদসহ ২১টি পদের মধ্যে ১৭টি পদই শূন্য।

কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান জানান, তিনি হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই চিকিৎসক সংকট দেখছেন। তারা দুই-তিনজন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতিগুলোও মাসের পর মাস বিকল হয়ে পড়ে আছে বলে জানান।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ড. মো. ইবনে ইমাম জানান, প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতি সংকটের কথা ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার লেখা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদারকেও অবহিত করা হয়েছে। এই সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।