অসময়ের আম গৌরমতি

ঢাকা, বুধবার, ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬

অসময়ের আম গৌরমতি

মো.মিজানুর রহমান, বাগাতিপাড়া ৬:৩৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

print
অসময়ের আম গৌরমতি

অন্য সব গাছের আম যখন শেষ, তখন এই সেপ্টেম্বরে শুরু হয়েছে সম্প্রতি উদ্ভাবিত ‘গৌরমতি’ আমের মৌসুম। নতুন উদ্ভাবিত এই আমের বাণিজ্যিক চাষে সফল হয়েছেন নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার আদর্শ ফল উৎপাদক গোলাম মওলা। ২০১২ সালে এই জাতের আম উদ্ভাবনের পরের বছরে বাগাতিপাড়া উপজেলার জামনগরের খামারে মাত্র আটটি চারা দিয়ে গৌরমতির চাষ শুরু করেন গোলাম মওলা।

প্রথমবার চার মণ ফলন পান। সেপ্টেম্বরে আমের ‘অফ সিজন’ হওয়ায় স্থানীয় বাজারে বিক্রি করেন পাঁচশ টাকা কেজি দরে। বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় গোলাম মওলা তৎপর হন পরিধি বাড়াতে। বর্তমানে জেলার মধ্যে সবচেয়ে বড় পরিসরে গৌরমতির বাগান করেছেন তিনি। ২৪ বিঘার গৌরমতির বাগানে দুই হাজার গাছ আছে। এগুলোর মধ্যে চলতি মৌসুমে একশ’ গাছে আম ধরেছে।

বর্তমানে চলছে বিপনন কার্যক্রম। বাগাতিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোমরেজ আলী বলেন, দেশের আড়াই শতাধিক জাতের আমের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মিষ্টতা এই গৌরমতি আমের। আর মিষ্টতার মাত্রা ২৭ টিএসএস। গৌরমতির চাষে অনন্য অবদান রেখেছেন গোলাম মওলা। তার এই অবদান গৌরবের।

বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের জাতীয় পরামর্শক এসএম কামরুজ্জামান এবং প্রকল্প পরিচালক মেহেদী মাসুদ সম্প্রতি গোলাম মওলার গৌরমতির খামার পরিদর্শন করেছেন।

গৌরমতি আমের উদ্ভাবনের ইতিহাস ফল বিজ্ঞানী এসএস কামরুজ্জামান বলেন, ২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টার থেকে কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীকে কিছু আম পাঠানো হয়। অজ্ঞাত জাতের এই আম খেয়ে মুগ্ধ হন মন্ত্রী।

এ কথা কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জানতে পারে উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। এরপর ওই আমের গাছ সনাক্ত করা হয়-চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনা মসজিদ এলাকার শিয়ালমারা এলাকায়। জাহাঙ্গীর মাষ্টারের আশ্বিণা আম বাগান থেকে সংগৃহিত ওইগাছে তখনো কয়েকটি আম ছিল। সংগ্রহ করা হয় আটটি আম। শুরু করা হয় প্রকল্পের পক্ষ থেকে এই গাছের চারা উৎপাদন কার্যক্রম। পরের বছর মানসম্পন্ন উদ্যান উন্নয়ন প্রকল্পের পক্ষ থেকে ওই গাছের সব আম কিনে নেওয়া হয়। আর আম ধরা গাছের নীচে দেশের ৬০টি হর্টিকালচার সেন্টারের উদ্যানতত্ত্ববিদদের নিয়ে বসে বৈঠক।

বৈঠক শেষে এই গাছের আমের চারা তৈরীর জন্যে সবার হাতে তুলে দেওয়া হলো গাছের সায়ন (কলম করার উপযোগী গাছের কচি ডগা)। এরপর থেকে সকল হর্টিকালচার সেন্টারে তৈরী হতে শুরু করে এই গাছের চারা।