সেই ওসি প্রত্যাহার, এসআই সাময়িক বরখাস্ত

ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ২ আশ্বিন ১৪২৬

থানায় ধর্ষকের সঙ্গে গৃহবধূর বিয়ে

সেই ওসি প্রত্যাহার, এসআই সাময়িক বরখাস্ত

পাবনা প্রতিনিধি ১:৫৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

print
সেই ওসি প্রত্যাহার, এসআই সাময়িক বরখাস্ত

পাবনায় গণধর্ষণের শিকার গৃহবধূর মামলা না নিয়ে থানায় এক আসামির সঙ্গে বিয়ে দেয়ার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবায়দুল হককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) একরামুল হককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ আরও দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এ নিয়ে মোট পাঁচ আসামির চারজনকে গ্রেফতার করা হলো।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ওসি ওবায়দুল হককে পুলিশ লাইনসে প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর অভিযুক্ত ধর্ষকের সঙ্গে থানায় গৃহবধূর বিয়ে দেয়ায় প্রত্যক্ষ সহায়তাকারী এসআই এনামুলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এর আগে জেলা পুলিশের উদ্যোগে ঘটনা তদন্ত করে তাদের শোকজ করা হয়েছিল।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইবনে মিজান জানান, এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার হোসেন আলী ও সঞ্জুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে এ মামলার অন্যতম আসামি রাসেল আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম ঘন্টুকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে এ মামলার প্রধান আসামি রাসেল আহমেদ বৃহস্পতিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৯ আগস্ট রাতে পাবনা সদর উপজেলার সাহাপুর যশোদল গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রাসেল আহমেদ চার সহযোগীকে নিয়ে একই গ্রামের এক গৃহবধূকে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যান। টানা চারদিন অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে পালাক্রমে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে তারা। পরে নির্যাতিতা ওই গৃহবধূ কৌশলে পালিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানালে তারা গত ৫ সেপ্টেম্বর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেডিকেল পরীক্ষায় গণধর্ষণের আলামতও মেলে। পরে ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ রাসেলকে আটক করে। মামলা নথিভুক্ত না করে স্থানীয় একটি চক্রের মধ্যস্থতায় পূর্বের স্বামীকে তালাক ও অভিযুক্ত রাসেলের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে ঘটনা মীমাংসা করে দেন কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে গত রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর জেলা পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়। এ নিয়ে ওসি ওবায়দুল হককে কারণ দর্শাতে বলা হয়। এছাড়াও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পরে থানায় মামলা নেয়া হয়। ঘটনা তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটিও গঠন করে পুলিশ।