ভাতার কার্ডের নামে অর্থ বাণিজ্য

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

ভাতার কার্ডের নামে অর্থ বাণিজ্য

আত্রাই (নওগাঁ) প্রতিনিধি ৫:০২ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০১৯

print
ভাতার কার্ডের নামে অর্থ বাণিজ্য

নওগাঁর আত্রাইয়ে সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বিউটি বেগম ও তার সহযোগী নাজমা বেগমের বিরুদ্ধে বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, পঙ্গু ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা, মাতৃত্ব ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে লোক ঠকিয়ে অর্থ আদায়সহ সুবিধাভোগীদের নিকট হতে পথের মাঝে গতিরোধ করে শারীরিক নির্যাতন ও টাকা কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিকার চেয়ে ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর আবেদন করেছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, সংরক্ষিত ইউপি সদস্য বিউটি বেগম ও তার সহযোগী নাজমা বেগম অত্যন্ত সু-কৌশলে গ্রামের সহজ সরল ও নিরিহ লোকদের অজ্ঞতা ও সরলতার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন ভাতার কার্ড করে দিতে চেয়ে অফিস খরচ চাইলে ভুক্তভোগীরা কেহ এনজিও হতে লোন নিয়ে, কেহ গহনা বিক্রি করে, কেহ শেষ সম্বল বাড়ির ভিটে বন্দক রেখে পাঁচ থেকে আট হাজার টাকা পর্যন্ত তাদের হাতে তুলে দেন দুই থেকে আরায় বছর আগে।

ভাতার কার্ড কবে হবে জানতে চাইলে হবে বলে কালক্ষেপন করে আরও অর্থ দাবি করায় নিরুপায় হয়ে প্রতিকার চেয়ে ইউএনও বরাবর আবেদন করেন তারা। তাদের আবেদনের ব্যাপারে জানতে পেরে বিভিন্ন সময় নানান রকম ভয়ভিতি দেখানোসহ প্রাণনাসের হুমকি দিচ্ছে বলে জানান তারা।

ভুক্তভোগী জোসনা বেগম জানান, বাড়িরভিটা বন্দক রেখে কার্ড করে নেওয়ার জন্য সাড়েচার হাজার টাকা বিউটিকে দিয়েছি এবং আরও সাত হাজার টাকা পরে দিতে চেয়েছি। প্রায় আরাই বছর হয়ে গেলো এখনো কার্ড হয়নি। কবে হবে জানতে চাইলে বলে বাকী সাত হাজার টাকা দেওয়ার পর খোঁজ নিয়েন।

ভুক্তভোগী চাম্পা জানান, কার্ড করে নেওয়ার জন্য আমার শেষ সম্বল বলতে সাহায্য করা টাকা দিয়ে দুইকানে দুল বানিয়েছিলাম সেটা বিক্রি করে পাঁচ হাজার আর জামাইয়ের কাছে থেকে তিন হাজার ধার নিয়ে মোট আট হাজার টাকা বিউটির হাতে তুলে দিই দুই বছর আগে। কবে কার্ড পাব জানতে চাইলে আমাকে শিখায়ে দেয় টাকা আপনার গ্রামের মেম্বারেক দিয়েছেন এই কথাটি বলতে হবে। আমিতো টাকা আপনাকে দিয়েছি বললে তিনি বলেন যান আপনার কার্ড হবেনা।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার মোয়াজ্জেম হোসেন ও সমাজসেবা অফিসার আরিফ হোসেন জানান, কার্ড করতে কোন প্রকার খরচ লাগে না। আমাদের নাম ভাঙিয়ে কেহ যদি অর্থনৈতিক ফায়দালুটে তার দায় শুধু তাদের।