বেদখল শতাধিক পুকুর

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ১ আশ্বিন ১৪২৬

বেদখল শতাধিক পুকুর

রানীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি ৫:২৫ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ০১, ২০১৯

print
বেদখল শতাধিক পুকুর

নওগাঁর রানীনগরে জনস্বার্থের অজুহাতে মামলা দিয়ে সরকারিভাবে ইজারা বন্ধ করে শতাধিক খাস পুকুর দখল করেছে প্রভাবশালীরা। ফলে দীর্ঘদিন মামলার বেড়াজালে ইজারা বন্ধ থাকায় অসাধু চক্রটি লাভবান হলেও প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

স্থানীয়রা বলছেন, সরকারিভাবে ইজারা বন্ধ করতে পুকুরগুলো জনস্বার্থে মামলা দিয়ে ইজারা বন্ধ করলেও পুকুর চাষ ও ভোগ দখল করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। ইজারা না দিয়ে পুকুর উন্মুক্ত রেখে জনগণের স্বাধীনভাবে পানি ব্যবহার, ফসল ফলাতে জমিতে পানি সেচসহ জনস্বার্থে আদালতে মামলা দেওয়া হয়েছে।

ভূমি অফিসের তথ্য মতে, উপজেলায় মোট ৫৮৪টি পুকুরের মধ্যে ১০২টি পুকুরে মামলা রয়েছে। এসব মামলাকৃত পুকুরের মধ্যে অধিকাংশই জনস্বার্থের নামে মামলা দেওয়া হয়। এছাড়া অনেকেই ব্যক্তি মালিকানা দাবিদার হয়ে আদালতে মামলা দিয়ে ইজারা বন্ধ করে দিয়েছেন। উপজেলার করজগ্রামের বাসিন্দা প্রতুল চন্দ্র ও অরুন চনদ্র নামে দু’জন ব্যক্তি ওই এলাকার করজগ্রাম মৌজার মোট ৮.৭১ একর ৫টি পুকুর, বোঁহার গ্রামের লোকমান সরদার, বোঁহার মৌজায় ২.৫৬ একর একটি পুকুর, ছাতার দিঘী গ্রামের সবুজ আলী, ছাতার দিঘী মৌজার ১.৫৪ একর একটি পুকুরে আদালতে জনস্বার্থে মামলা দায়ের করেন।

এরপর পুকুর উন্মুক্ত রাখতে সরকারিভাবে ইজারার ওপর আদালত থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি করে ইজারা বন্ধ করে দেন। তবে পুকুরে জনগণের স্বার্থে মামলা দিয়ে ইজারা বন্ধ করা হলেও জনগণই এর কোন সুফল ভোগ করতে পারছেনা।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টুকটুক তালুকদার বলেন, ইতোমধ্যে মামলাকৃত পুকুরগুলো চিহ্নিত করে ইজারার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশ কিছু পুকুর এক বছরের জন্য খাস আদায়ে ইজারা দেওয়া হয়েছে। ধিরে ধিরে সবগুলো পুকুরই খাস আদায়ে ইজারার আওতায় আনা হবে বলে জানান তিনি।

উপজেলা জলমহল কমিটির সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা আল মামুন বলেন, যেগুলো পুকুর ইজারা যোগ্য সেগুলো পুকুর টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেওয়া হয়েছে।