পানি রেখেই খাল খনন

ঢাকা, সোমবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৩১ ভাদ্র ১৪২৬

পানি রেখেই খাল খনন

তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি ৫:৩৮ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

print
পানি রেখেই খাল খনন

রাজশাহীর তানোরে বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) খনন করা খাল তড়িঘড়ি করে পুনঃখনন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর খনন করা মাটি ফেলা হচ্ছে আবাদি জমিতে। বর্তমানে খালে ভরা পানি। এ অবস্থায় খাল খনন ও খনন করা মাটি দিয়ে পাশের কৃষিজমি ভরাট করার রহস্যের কূল-কিনারা পাচ্ছে না এলাকার কৃষকরা।

রোববার ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের খনন করা কাঁসার দীঘি খালে ভরা পানি। এ অবস্থায় তড়িঘড়ি করে খননকাজ চলছে। খনন করা মাটি কৃষকের জমিতে ফেলায় এলাকার শতাধিক কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। এর পরেও ঠিকাদার খননকাজ অব্যাহত রেখেছে। এ নিয়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। তা ছাড়া খালের দুই পাশে থাকা বিএমডির বিভিন্ন প্রজাতির গাছও কাটা হচ্ছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতির আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী।

এ ব্যাপারে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক মজিদ বলেন, ‘খালের দুই পাশে থাকা আমার ১২ বিঘা জমির ওপর মাটি ফেলা হয়েছে। ফলে ওই জমিতে আগামী দিনে আর চাষাবাদ করা যাবে না।’ তিনি আরো বলেন, হয়তোবা কোনো আর্থিক সুবিধা পেতে কৃষকদের ক্ষতি করে এভাবে তাড়াহুড়া করে ভরা খাল খনন করছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে এক কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে কাঁসার দীঘি খালের সাড়ে চার কিলোমিটার অংশের পুনঃখননের কাজ পায় নাটোরের ঠিকাদার মোল্লা সরওয়ার মোর্শেদ (মুক্ত)। কিন্তু ওই ঠিকাদার খাল খননের কাজটি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঠিকাদারের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। আর কাগজে-কলমে কাজ শুরুর কথা লেখা রয়েছে ২০১৯ সালের ৫ এপ্রিল। কাজটি শেষ হওয়ার কথা ২৫ জুন। কিন্তু আজ অবধি কাজ শেষ হয়নি।

বিএমডিএ তানোর জোনের সহকারী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘কাঁসার দীঘি খালের তানোর পৌর এলাকায় ২০০৮ সালে খনন করে বিএমডিএ। এর পর ২০১০ সালে খালের দুই ধারে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। আমাদের খনন করা খালে আবারও পানি উন্নয়ন বোর্ড খননকাজ করছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আলাদা ডিপার্টমেন্ট, আমাদের আলাদা ডিপার্টমেন্ট। তাদের বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই। তবে আবাদি জমিতে মাটি ফেলার কারণে অনেক কৃষক আমার কাছে ফোন করছে। এখানে আমারও তো কিছুই করার নেই।’

ইউএনও নাসরিন বানু বলেন, ‘আমি পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা বলেছে, জমির ওপরে যে মাটি পড়বে তা পরে সরিয়ে ফেলা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড রাজশাহী অফিসের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ আহম্মেদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালটি গভীর নয়। তাই ঠিকাদারের মাধ্যমে খালটি পুনঃখননের কাজ শুর হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঠিকাদার না পাওয়ায় কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এখনো কোনো বিল দেওয়া হয়নি।