বর-কনেসহ নিহত ৯

ঢাকা, শনিবার, ২৪ আগস্ট ২০১৯ | ৯ ভাদ্র ১৪২৬

সিরাজগঞ্জে রেলক্রসিংয়ে বিয়ের গাড়িতে ট্রেনের ধাক্কা

বর-কনেসহ নিহত ৯

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি ১১:১৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০১৯

print
বর-কনেসহ নিহত ৯

অরক্ষিত রেলক্রসিংয়ে উঠে পড়া একটি মাইক্রোবাসে ট্রেনের ধাক্কায় মারা গেছেন বর-কনেসহ ৯ জন। আজ (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ার সলপ রেলওয়ে স্টেশনের কাছে পঞ্চক্রোশী এলাকায় মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। উল্লাপাড়া ফায়ার স্টেশনের ফায়ার লিডার নাজির হোসেন জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী ও এক শিশু রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

ঘটনার পরপরই উল্লাপাড়া মডেল থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করেছেন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনার পর ঢাকা-রাজশাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দুর্ঘটনায় নববধূ সুমাইয়া খাতুন (২১), বর আযম হোসেন (২৫) ও বরযাত্রী শরিফ শেখ (২৬), মমিন (৩২), আলতাফ হোসেন (৫৫) মাইক্রোচালক স্বাধীন (২৭)-এর পরিচয় জানা গেলেও তাৎক্ষণিকভাবে অন্যদের পরিচয় জানা যায়নি। বর রাজন নিহত আলতাফ হোসেনর ছেলে। সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। কনে সুমাইয়া খাতুনের বাড়ি উল্লাপাড়ার চরঘাটিনায়।

স্থানীয়রা জানান, বরযাত্রীসহ মাইক্রোবাসটি উল্লাপাড়ার ঘাটিনা থেকে সিরাজগঞ্জ জেলা সদরের কান্দাপাড়ায় যাচ্ছিল। সলপ স্টেশনের উত্তরে পঞ্চক্রোশী আলী আহম্মদ উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে উন্মুক্ত লেভেল ক্রসিং পারাপারের সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে ট্রেনের ধাক্কা লাগে।

উল্লাপাড়া থানার ওসি দেওয়ান কউসিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। অরক্ষিত রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এর কারণেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছেন উল্লাপাড়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. গোলাম মোস্তফা। তিনি জানান, রেলওয়ে লেভেল ক্রসিং-এ কোনও ব্যারিয়ার বা বার্জ ছিল না। এমনকি সেখানে রেল বিভাগের কোনও পাহারাও ছিল না।

পশ্চিমাঞ্চল রেল বিভাগের পাকশীর বিভাগীয় ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) মিজানুর রহমান জানান, এটা রেল বিভাগের নির্ধারিত কোনও লেভেল ক্রসিং নয়। স্থানীয় লোকজন নিজেদের স্বার্থে চলাচলের জন্য সেখানে উন্মুক্ত রেখেছে। দুর্ঘটনার পর দেড়ঘণ্টা দেরিতে ট্রেনটি ছেড়ে ঢাকার দিকে গেছে। এছাড়াও দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাস চালকের অস্থিরতাকে দায়ী করে তিনি বলেছেন, ‘ট্রেন দেখার পরও তাড়াহুড়া করে রেল লাইন পার হওয়ার চেষ্টার কারণেই এই ঘটনা ঘটেছে।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সলপ রেলক্রসিং থেকে মাইক্রোবাসটিকে ছেঁচড়ে কয়েকশ গজ দূরে নিয়ে আসে ট্রেনটি। তাতে দুমড়ে-মুচড়ে যায় বর-কনেবাহী মাইক্রোবাস। মাইক্রোর ভেতর থেকে বাইরে ছিটকে পড়েন অনেকে। অনেক মারা যান মাইক্রোর ভেতরেই।

তারা জানিয়েছেন, এই রেলপথে অধিকাংশ ক্রসিংই অরক্ষিত। ট্রেন যাওয়ার সময় ক্রসিংয়ে কোনো ধরনের সিগন্যাল বা ক্রসিংবার থাকে না। ফলে ট্রেন যাওয়ার সময় গাড়ি বা পথচারী পারাপার হয় নিয়মিত।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা-রাজশাহী রুটের রেললাইন ও রেলক্রসিংয়ের অধিকাংশই মরণফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রেললাইন ঘেঁষে গড়ে উঠছে ঘনবসতি। লোকালয়ের বাইরে যেসব ক্রসিং রয়েছে সেগুলোতে কোনো গেটম্যান থাকে না। ফলে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে গোটা রুটটি।