প্রার্থীরা বলেন রাস্তা হবেই

ঢাকা, বুধবার, ১২ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

প্রার্থীরা বলেন রাস্তা হবেই

আক্কেলপুর (জয়পুরহাট) প্রতিনিধি ৯:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৮

print
প্রার্থীরা বলেন রাস্তা হবেই

ভোট এলেই রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের মুখে মিষ্টি কথা মেলে। বেড়ে যায় এলাকায় তাদের আনাগোনা। এ সময় তারা ভোটারদের দারে দারে ঘুরে শুধুই প্রতিশ্রুতি দেন। এমনই প্রতিশ্রুতির ফুলঝুড়িতে ভাসছে জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুরের হাজারাপাড়ার মানুষ।

শুধু তাই নয়, ৫০ বছর ধরে এমনই প্রতিশ্রুতি চলছে এ এলাকায়। এর মাঝেই ভোগান্তি চলছে যাতায়াতে। রাস্তা না হওয়ায় এ গ্রামের বাসিন্দারা এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেওয়া নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়েছেন। গ্রামের বাসিন্দাদের কেউ বলছেন, রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি পেয়েছি; তাই এবার ভোট দিতে যাব। তারা এও জানান, প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে আর কোনো নির্বাচনে ভোট দিতে যাবেন না। আবার কেউ বলছেন, আমরা এরকম প্রতিশ্রুতি আগেও পেয়েছি।
গ্রামবাসী জানান, তারা ৫০-৬০ বছরেরও আগে থেকে রাস্তার জন্য দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। মাঠের বেশিরভাগ জমির মালিক কাঁঠালবাড়ি ও রামশালা গ্রামের লোকজনের। এসব জমির মালিকরা রাস্তা দিতে চান না। বর্ষা মৌসুমে সরু কাঁচা রাস্তা কাদায় একাকার হয়ে যায়। তখন পায়ে হেঁটে যাওয়াও দুষ্কর হয়ে পড়ে। গ্রামে যদি কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ে তাকে প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা কোলে করে নিয়ে যেতে হয়। রাস্তা না থাকায় গ্রামে কেউ বিয়েও দিতে চায় না।
অন্যদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সংসদ সদস্য আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন এসে রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গেছেন। এ কারণে তারা কিছুটা আশস্ত হয়েছেন। তারপরও তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্ব›দ্ব রয়েছে।
গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান (৫৫) বলেন, আমরা জন্মের পর থেকেই রাস্তার জন্য ভোগান্তির শিকার হচ্ছি।
আজিজার রহমান (৫০) নামে আরেকজন বলে, যে কোনো নির্বাচন এলেই প্রার্থীরা রাস্তা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু ভোটের পর প্রতিশ্রæতির কথা মনে রাখেন না।
গৃহিনী আলেয়া বেগম (৪৫) বলেন, আমরা রাস্তা চাই। ছাত্র এনামুল হক এবারই প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবেন। এনামুল হক বলেন, গ্রামের রাস্তার কারণে খুবই কষ্ট লাগে। সোনামুখী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ডিএম রাহেল ইমাম বলেন, আমরা রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করেছি। কিন্তু জমি মালিকদের বাধার কারণে রাস্তা নির্মাণ করা যায়নি।