দুই দলেই প্রার্থীর হিড়িক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

দুই দলেই প্রার্থীর হিড়িক

নওগাঁ প্রতিনিধি, নওগাঁ ১২:০২ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ০৯, ২০১৮

print
দুই দলেই প্রার্থীর হিড়িক

২৩ ডিসেম্বর একাদশ সংসদ নির্বাচন। তফসিলের মধ্য দিয়ে শুরু হলো ভোটযুদ্ধ। ঘুম উধাও সম্ভাব্য প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকদের। এ নিয়ে আমাদের নিয়মিত আয়োজন

জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা ও সংসদীয় আসন মান্দা নিয়ে গঠিত নওগাঁ-৪ আসন। নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানাভাবে সরব রয়েছেন। যাচ্ছেন ভোটারদের কাছে। নিজেদের ছবি সংবলিত শুভেচ্ছা ব্যানার ও পোস্টার সাঁটিয়েছেন সবাই।

আসনটিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ছড়াছড়ি। দুদলে অন্তত দুডজন মনোনয়নপ্রত্যাশী রয়েছেন। তবে উভয় দলেই কোন্দল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিএনপির দলীয় কোন্দল অনেক পুরাতন হলেও নতুন করে কোন্দলে ভাসছে আওয়ামী লীগ। তাই আগামীতে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না।

১৯৯১ সালে এ আসনে বর্তমান এমপি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক জামায়াত প্রার্থী মাওলানা নাসির উদ্দিন জিহাদীর কাছে পরাজিত হন। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পরপর তিনবার নির্বাচিত হন বিএনপির সামসুল আলম প্রামানিক। ২০০৮ সালের আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পান উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শেখ মো. আব্দুল লতিফ। স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়ন নেন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক। সে সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রায় ২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী বিএনপির মনোনীত সামসুল আলম ও আওয়ামী লীগ মনোনীত আব্দুল লতিফ শেখকে পরাজিত করে বিজয়ী হন মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক।

এরপর ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে আবারও মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী পদে ভূষিত হন। এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন। তবে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন না হওয়ায় মান্দাবাসীর বিস্তর অভিযোগও রয়েছে।

এগিয়ে আছেন জেলা আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল বাকী, মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মান্নান ও সহ-সভাপতি ব্রহানী সুলতান মামুদ গামা। এ ছাড়া মান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা সরদার জসিম উদ্দিন, সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মির্জা মাহবুব বাচ্চু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের আজীবন সদস্য ডা. আব্দুর রহমানও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মুহাম্মদ ইমাজ উদ্দিন প্রামাণিক বলেন, মান্দার দক্ষিণ এলাকায় আওয়ামী লীগের সমর্থন কোনো দিন ভালো ছিল না। কিন্তু আমার বাড়ি ওই এলাকায় হওয়ায় এখন চিত্র অনেকটাই পাল্টে গেছে। আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে এলাকার ভোটাররা নৌকাতেই ভোট দেবেন।

এদিকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সামসুল আলম প্রামাণিক দুর্ঘটনাজনিত অসুস্থতায় অনেকটাই নিষ্ক্রিয়। আর এ সুযোগে নতুন মুখের আগমন ঘটেছে। মনোনয়ন দৌড়ে আছেন সাবেক এমপি সামসুল আলম প্রামাণিক, নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল মতিন, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাহাবুব আলম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আক্কাস আলী মোলা, মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মকলেছুর রহমান মকে, সহ-সভাপতি মনোজিৎ কুমার সরকার ও ইসাহাক আলী সেন্টু।

এদের মধ্যে ডা. ইকরামুল বারী টিপু ও আব্দুল মতিনের অবস্থান সুবিধাজনক। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য সামসুল আলম প্রামাণিক বলেন, তিনি এখন অনেকটা সুস্থ। আমার অনুপস্থিতিতে আমার কমিটির সদস্যরা কাজ করছেন। মাঠের জনগণ আমায় চায়। আমি মনোনয়ন পাব নিশ্চিত এবং বিজয়ী হব।

নওগাঁ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. ইকরামুল বারী টিপু। যিনি বিগত দিনে মান্দা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছিলেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ছাত্র থাকা অবস্থায় জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় একজন কর্মী হিসেবে তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। পরে তার নেতৃত্বেই মান্দা উপজেলায় আধুনিক বিএনপি সুপ্রতিষ্ঠিত হয়। নির্বাচন সামনে রেখে গণসংযোগ, উঠান বৈঠক, ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পসহ নানাবিধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. এনামুল হক বলেন, বর্তমানে এ উপজেলায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপির দলীয় কোন্দল চলছে। এ অবস্থায় জাতীয় পার্টি চেষ্টা করছে মহাজোট থেকে তাদের দলীয় প্রার্থিতা নিশ্চিত করতে। নির্বাচনে আমি মনোনয়ন পাব বলে আশাবাদী।

সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. ফজলুর রহমান ও জেলা জামায়াতের আমির খন্দকার আব্দুর রাকিব নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। এ উপজেলার ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬৮ জন।