অটো চালককে হত্যা: ৬ মাস পর রহস্য উদঘাটন

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

অটো চালককে হত্যা: ৬ মাস পর রহস্য উদঘাটন

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) প্রতিনিধি
🕐 ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২২

অটো চালককে হত্যা: ৬ মাস পর রহস্য উদঘাটন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় ক্লু-লেস অটোরিক্সা চালক বলরাম মজুমদার (১৫) হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে ৬মাস পর রহস্য উদঘাটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দু’জনকে গ্রেফতার করেছে নোয়াখালীর ডিবি পুলিশ। এসময় ৩টি অটোরিক্সার চাকা উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের নলদিয়া গ্রামের নারায়ন চন্দ্র দাসের ছেলে শ্যামল চন্দ্র দাস (৩২) এবং উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড মাহবুবুল হক মুন্সী বাড়ীর মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে আবদুল খালেক প্রকাশ তোতা মিয়া (৫২)।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মোঃ শহীদুল ইসলাম (পিপিএম) বৃহস্পতিবার বিকেলে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরও জানান, তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার রাতে পৃথক দু’টি সাড়াশি অভিযান চালিয়ে শ্যামল ও তোতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার তোতা মিয়া নিহত বলরামের অটোরিক্সাটি হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত শ্যামল চন্দ্র দাসের কাছ থেকে ২৭হাজার টাকায় ক্রয় করেছিল।

অটোরিক্সা চালক বলরাম হত্যার সাথে জড়িত গ্রেপ্তার শ্যামল চন্দ্র দাস স্বীকারোক্তিতে জানায়, ভিকটিম বলরাম মজুমদার হত্যার ৪-৫ দিন পূর্বে, অটোরিক্সার ১০টাকা ভাড়া নিয়ে বলরামের সাথে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত পলাতক আসামী শাওন ও নাজমুলের ঝগড়া হয়।

ওই ঝগড়াকে কেন্দ্র করে গত ৩০জানুয়ারী সন্ধ্যা ৭টায় বসুরহাট কলেজ রোড হতে ভিকটিম বলরাম মজুমদারের অটোরিক্সাটি আসামীগণ যাত্রী বেশে উপজেলার ৪নং চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে মহিষের ডগি এলাকায় ইউনুছ চৌকিদারের বাড়ীর পূর্ব পাশে নিয়ে যায়। এসময় ভিকটিম বলরাম মজুমদারকে জোরপূর্বক ধরে কৃষি জমিতে শোয়ানোর পর হাত-পা বেঁধে এবং মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা নিশ্চিত করার পর অটোরিক্সা নিয়ে পালিয়ে যায়।

পরে বসুরহাট পৌরসভার করালিয়া এলাকায় এসে গ্রেপ্তারকৃত আসামী আবদুল খালেক প্রকাশ তোতা মিয়ার কাছে ২৭ হাজার টাকায় অটোরিক্সাটি বিক্রয় করে। পরদিন ৩১ জানুয়ারী বিকেলে অটোরিক্সা বিক্রয়ের টাকা ভাগ করে অপর পলাতক আসামী নাজমুল ও শাওন আসামী শ্যামল চন্দ্র দাসকে ৫হাজার টাকা দেয়। অবশিষ্ট ২২হাজার টাকা অপরাপর আসামীরা নিয়ে যায়।

নোয়াখালীর ডিবি ওসি মোঃ আবুল হাসেম মজুমদার জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীরা বলরাম হত্যাকান্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। যাহা যাচাই-বাছাই সহ তদন্ত অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত আসামী শ্যামল চন্দ্র দাস নিজের দোষ স্বীকার করে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারা মোতাবেক জবানবন্দী প্রদান করার জন্য রাজি হওয়ায় তাকে বৃহস্পতিবার আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অপর আসামী আবদুল খালেক প্রঃ তোতা মিয়াকে ও আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ছবির ক্যাপশন- চাঞ্চল্যকর অটোরিক্সা চালক বলরাম মজুমদার হত্যাকান্ডে জড়িত গ্রেপ্তার দু’আসামী শ্যামল চন্দ্র দাস ও আবদুল খালেক প্রকাশ তোতা মিয়া

 

 
Electronic Paper