দুই ব্রিজের পাশেই বালু দস্যুদের রাজত্ব!

ঢাকা, রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১০ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

পদ্মায় ব্যাপক পানি বৃদ্ধি

দুই ব্রিজের পাশেই বালু দস্যুদের রাজত্ব!

শমিত জামান, ঈশ্বরদী (পাবনা)
🕐 ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১১, ২০২২

দুই ব্রিজের পাশেই বালু দস্যুদের রাজত্ব!

ঈশ্বরদীর খরস্রতা পদ্মা নদীতে ব্যাপক হারে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধির ফলে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে করে হুমকির মুখে পড়েছে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ, লালনশাহ সেতু ও নদী রক্ষা বাঁধসহ আশপাশের কয়েক'শ একর ফসলি জমি। গত ৩০ বছরে এখানে এমন ভাঙন দেখা যায়নি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩০/৪০ একর জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুধু পানি বৃদ্ধির জন্য নয়, দুই ব্রিজের কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বালু দস্যুদের রমরমা রাজত্বের কারণে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প, লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজের কাছে বড় বড় ড্রেজার ভিড়িয়ে বালু লোড-আনলোড করা হয়। পানির ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করে বালু লোড-আনলোড করার কারণেও এ ধরণের ক্ষতি হচ্ছে। বিষয়টি জেনেও অদৃশ্য কারণে নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গতকাল বিকালে পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পদ্মার পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ব্রিজের নিচে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ব্রিজের ৩নং পিলার (গার্ডার) থেকে ২নং পিলার পর্যন্ত নদীর চর ভেঙে গেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে নদী রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ও লালনশাহ সেতুরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ একর জমির কলাবাগানসহ ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদী পাড়ের বাসিন্দারা ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছেন। ভাঙন রোধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে তারা। অপর দিকে দুই ব্রিজের আশে-পাশেই বীরদর্পে বিভিন্ন ভারী ভারী বাহন ব্যবহার করে ড্রেজার এর সাহায্যে বালু উত্তোলন ও ব্যবসা চালিয়ে আসছে বালু দস্যুরা।

এছাড়াও দুই সেতু রক্ষা বাঁধ কেটেও বালু ব্যবসার জন্য সুপ্রস্তত রাস্তা তৈরি করেছেন প্রভাবশালীরা। হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচের ক্ষুদ্র দোকানীরা বলেন, চলতি বছরের শুরুতে ৪নং পিলারের কাছে চর ছিল। এখন চর ভাঙতে ভাঙতে তা ২নং পিলারের কাছে চলে এসেছে। দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটক ও ভ্রমণপিপাসুরা ব্রিজের নিচের চরে ঘোরাফেরা করতে আসেন। অস্থায়ী দোকানপাটে তারা কেনাকাটা ও খাওয়া-দাওয়া করেন। এভাবে নদীর তীর ভাঙতে থাকলে এখানে আর মানুষজন আসবে না। আমাদের ব্যবসাও থাকবে না। অতিরিক্ত ভাঙনের জন্য তারা অপরিকল্পিত বালু উত্তোলন ও ব্রিজের কাছে বালুর ব্যবসাকে দায়ী করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উত্তরাঞ্চলীয় পরিমাপ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জাহিদ হোসেন বলেন, গত ১৩ দিনের ব্যবধানে পদ্মায় পানি বেড়েছে দুই মিটারের বেশি। গত ২৫ জুলাই পানির পরিমাণ ছিল ৯ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার। আর গতকাল দুপুর ১২টায় পানির পরিমাণ ১১ দশমিক ৯৬ সেন্টিমিটার। প্রতিদিনই পদ্মায় গড়ে ২৫ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত পানি বাড়ছে। একই সঙ্গে হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পদ্মার চরে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।

পাকশী রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী (সেতু) নাজিব কাওছার বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে পিলারের আশপাশের স্থান নদীতে ভেঙে গেলেও বিজের কোনো ক্ষতি হবে না। কারণ ব্রিজের পিলার নদীর গভীরে পাইলিং করে স্থাপন করা হয়েছে।

নদী রক্ষা বাঁধের ক্ষতির শঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে একাধিকবার আমার কথা হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।

পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সরায়োর জাহান সুজন বলেন, হার্ডিঞ্জ ব্রিজের আশপাশের এলাকাসহ সাঁড়াঘাটে ভাঙন রোধে গত বছর প্রায় দুই কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলেছি। পানি কমতে শুরু করলে আবারো জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিজ রক্ষা বাঁধ কেটে বালু উত্তোলনের সড়ক নির্মান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
Electronic Paper