বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণে তিন মাস্টারমাইন্ড

ঢাকা, সোমবার, ৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৮ আশ্বিন ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণে তিন মাস্টারমাইন্ড

তোফায়েল রনি, টাঙ্গাইল
🕐 ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ০৭, ২০২২

বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণে তিন মাস্টারমাইন্ড

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে ডাকাতি ও এক নারীকে গণধর্ষণের ঘটনায় মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করেছে তিনজন। তারা পুরো ঘটনার পরিকল্পনা করে। কীভাবে ডাকাত দল যাত্রীবেশে বাসে উঠবে, কীভাবে ডাকাতি করবে এবং তাদের কার্য (ডাকাতি) শেষ করে কোথায় গিয়ে বাস থামিয়ে সটকে পড়বে এসব পরিকল্পনা তিনজন মিলেই করে।

সেই তিনজনের একজন হচ্ছে রাজা মিয়া। ডাকাতির সময় বাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে রাজাই চালককে সরিয়ে নিজে বাস চালাচ্ছিল। মাস্টারমাইন্ডের বাকি দুজনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। তাদের গ্রেফতার করতে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালানো হচ্ছে। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার একান্ত সাক্ষাৎকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার জানান, মাস্টারমাইন্ড তিনজনের মধ্যে প্রধান (গ্রেফতারের কারণে নাম গোপন রাখা হলো) ঢাকায় থাকত। তার এক আত্মীয়ের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া এলাকায়। টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের মধুপুর এলাকা গভীর রাতে নিরিবিলি থাকে। এছাড়া রক্তিপাড়া মোড় এলাকা তাদের জন্য অনেক নিরাপদ। তাই তারা সিদ্ধান্ত নেয় ডাকাতি শেষে বাস রক্তিপাড়া এলাকায় থামিয়ে পালিয়ে যাবে।

ঢাকা থেকে মঙ্গলবার রাতে প্রধান অভিযুক্ত তার এক সহযোগী নিয়ে টাঙ্গাইল আসে। এখান থেকে রাজা মিয়া তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা তিনজন মিলে টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু সড়কের এলেঙ্গা গিয়ে অবস্থান নেয়। ঈগল এক্সপ্রেসের ওই বাস এলেঙ্গা এলে তারা তিনজন বাসে উঠে। তার আগে বাকি সহযোগীরাও বাসে উঠে।

বাসে ডাকাতি ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়ে তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী মধুপুরের রক্তিপাড়া গিয়ে রাস্তার পাশে বালুর ঢিবিতে বাস উঠিয়ে দিয়ে দ্রুত নেমে পড়ে। বাসের অবস্থান দেখে সবাই যেন মনে করে বাসটি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে রাতেই ডাকাত দলের সদস্যরা প্রধানের আত্মীয় বাড়িতে গিয়ে কিছু সময় বিশ্রাম নিয়ে ‘অপারেশন’ সমাপ্ত ঘোষণা করে যার যার মতো সটকে পড়ে।

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্রেফতার হওয়া রাজা মিয়া গত মঙ্গলবার রাত ১১টা পর্যন্ত টাঙ্গাইল নতুন বাস টার্মিনালেই ছিল। টার্মিনালের অন্য পরিবহনের চালক ও সহকারীরা তাকে রাতে সেখানে দেখেছেন। প্রান্তিক পরিবহনের এক চালক ও চালকের সহকারী (নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে) বলেন, রাত ১১টা পর্যন্ত তার সঙ্গে আমাদের কয়েকজনের কথা হয়। পরে আমরা নিজেদের বাসে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়ি। তখন রাজা কোথায় যায়, আমরা জানি না। সকালে বাস নিয়ে ময়মনসিংহ যাওয়ার পথে মধুপুরে দেখি ওই বাস পড়ে আছে। তারপর শুনি বাস ডাকাতির কথা।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কুষ্টিয়া থেকে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ২৪ জন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। আনুমানিক রাত ১২টার দিকে যাত্রীরা ঘুমানোর এক পর্যায়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের টাঙ্গাইলের নাটিয়াপাড়া এলাকা পৌঁছালে ডাকাত দলের সদস্যরা হঠাৎ করে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে পুরোবাসের নিয়ন্ত্রণ নেয়।

টাঙ্গাইলের গোড়াই এলাকা থেকে বাসটিকে ঘুরিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা কালিহাতী হয়ে মধুপুরের দিকে যায়। এরপর যাত্রীদের কাছে থাকা মোবাইল, টাকা, স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। পরে ডাকাত দলের ছয় সদস্য গাড়িতে থাকা এক নারীকে গণধর্ষণ করে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া জামে মসজিদের পাশে বালুর ঢিবির কাছে বাসের গতি থামিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

এ ঘটনায় বাসের যাত্রী কুষ্টিয়ার হেকমত আলী বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার ১৩ ঘণ্টার মধ্যে ডাকাত দলের অন্যতম সদস্য রাজা মিয়াকে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

 
Electronic Paper