কাজের মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধু আটক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন ২০২২ | ১৫ আষাঢ় ১৪২৯

Khola Kagoj BD
Khule Dey Apnar chokh

কাজের মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধু আটক

এইচ এম আলমগীর কবির, সিরাজগঞ্জ
🕐 ২:৩২ অপরাহ্ণ, মে ২৮, ২০২২

কাজের মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে গৃহবধু আটক

সিরাজগঞ্জে লিপি খাতুন (১১) নামে এক কাজের (শিশু) মেয়েকে নির্যাতনের অভিযোগে জুথি খাতুন নামে গৃহবধুকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করেছে সদর থানা পুলিশ।

শনিবার (২৮ মে) সকালে আটক জুথি খাতুনকে আদালতে প্রেরণ করে। লিপি খাতুন কুড়িগ্রাম জেলার কচাকাটা উপজেলার পূর্বকেদার গ্রামের বাচ্চু মিয়া ও আমিনা খাতুন এর মেয়ে।

এর আগে শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া থেকে তাকে আটক করে। আটক জুথি খাতুন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার সয়াধানগড়া মধ্যপাড়া গ্রামের তারেক গোলামের স্ত্রী ও মো: আলি আজাহার (ব্যাংকার) এর পুত্রবধু।

শনিবার (২৮ মে) সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তদন্ত মো: সাজ্জাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মৃত হযরত আলীর ছেলে মো: আলি আজাহার (ব্যাংকার) এর বাড়ীতে লিপি খাতুন গত তিন বছর যাবত বাসায় কাজ করতো। প্রত্যকে দিন শিশুকে নির্যাতন করে গৃহবধু জুথি খাতুন। যে কাজ বয়স্ক মানুষকে দিয়ে করানো উচিত, তা-ই চাপিয়ে দেওয়া হতো লিপির ওপর। তবু রেহাই পায় না। এলাকাবাসী শুক্রবার এঘটনাটি পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ এসে লিপিকে উদ্ধার করে।

আহত লিপি জানান, বিভিন্ন সময়ে লাঠি, তরকারি নারার হাতল ও কিল ঘুষি মারে। আমি কাউকে কিছুই বলতে পারিনা। কাউকে কিছু বল্লে আমাকে নানা ভাবে মেরে ফেলার হুমকী দিতো খালাআম্মা।

লিপির বড় বোন মোহসিনা সুমি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমি ও আমার বোন এই এলাকার কাজ করি। আমার বোনের কোনো ভুল হলেই মারপিট করতো। কয়েকদিন আগে আমার বোনকে টয়লেটে আটকে রেখে নির্যাতন করে।

মোহসিনা সুমি আরো বলেন, আমি পাসের একটি বাড়ীতে কাজ করতাম কিন্তু আমাদের সাথে দেখা করতে দিতো না। আমরা দেখা করতে আসলে ভেতরে ঢুকতে দিতো না। আমি এলাকাবাসীর মুখে শুনতে পেরে এখানে এসেছি। এসে দেখি এলাকাবাসী পুলিশকে খবর দিয়েছে। পরে পুলিশ লিপিকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম বলেন, ইতিমধ্যে নির্যাতনের শিকার মেয়েটিকে পুলিশ উদ্ধার করেছে। পরে শুক্রবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার দেওয়া হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া গেছে। নির্যাতিত শিশুটির পরিবার থানায় অভিযোগ করেছে। অভিযোগের আলোকে গৃহবধুর নামে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের হয়েছে। সেই মামলায় জুথি খাতুনকে আটক করা হয়েছে।

 
Electronic Paper