ঐক্যজোট জাতির জন্য দুঃখজনক: শরিফুল কবির স্বপন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

ঐক্যজোট জাতির জন্য দুঃখজনক: শরিফুল কবির স্বপন

ড. কাজল রশীদ শাহীন ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

print
ঐক্যজোট জাতির জন্য দুঃখজনক: শরিফুল কবির স্বপন

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর কেন্দ্রীয় কমিটির জনসংযোগবিষয়ক সম্পাদক। সভাপতি ছিলেন ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির। আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর উপজেলা) আসনে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন চান। একান্ত সাক্ষাৎকারে জাসদের পূর্বাপর, ঐক্যফ্রন্টের বাস্তবতা, মহাজোটের গতিপ্রকৃতিসহ জানিয়েছেন দৌলতপুর নিয়ে স্বপ্নের কথা।  সাক্ষাৎকার গ্রহণ : ড. কাজল রশীদ শাহীন

খোলা কাগজ : সরকারের শেষ মুহূর্তে এসে রাজনীতি নতুন একটা বাঁক নিল। সরকারবিরোধী দলগুলো নিয়ে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে একটা জোট গড়ে উঠেছে...
শরিফুল কবির স্বপন : হ্যাঁ, সাধারণত নির্বাচন সামনে রেখে অনেক ধরনেরই খেলা শুরু হয়। সেটারই অংশ হিসেবে এ ধরনের ফ্রন্ট গঠন। আমি অনেকটা আশ্চর্য হয়েছি; আবার মনে করি এটাই স্বাভাবিক। কেননা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে আ স ম আব্দুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, ড. কামাল হোসেনের ঐক্য-এটা আমাদের জাতির জন্য দুঃখজনক। এ ছাড়া আশ্চর্য হয়েছি এই জন্যে, আ স ম রবসহ উনারা তো মুক্তিযোদ্ধা। আবার জিয়াউর রহমান মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার পরও ঘাতকদের পুনর্বাসিত করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এই জোট বলে আমি মনে করি।

বিষয়টা একটু পরিষ্কার করবেন?
শাহ আজিজকে জিয়া প্রধানমন্ত্রী বানিয়েছিলেন। আব্দুল আলিমসহ অনেককেই মন্ত্রিপরিষদে জায়গা দিয়েছিলেন। তারা (বিএনপি) যেটা বলে, আমরা বহুদলীয় গণতন্ত্রের ধারক, সেই বহুদলীয় গণতন্ত্রের আড়ালে মূলত জামায়াত ও মুসলিম লীগকে রাজনীতি করার বৈধতা দিয়েছে। মূলত, তারা একাত্তরের সেই পরাজিত ঘাতক রাজনৈতিক শক্তিটাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়েছে এবং তাদের লালন-পালন করেছে। পরবর্তী সময়ে তো আমরা জানি, বিশেষ করে ২০০১ সালে জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে নির্বাচন করেছে এবং তাদের মন্ত্রিপরিষদে বসিয়েছে। বিএনপির পৃষ্ঠপোষকতায় জামায়াত এবং জঙ্গি গ্রুপ সারা বাংলাদেশে সন্ত্রাসী এবং জঙ্গি রাজনীতি শুরু করেছিল। এ দেশের বুদ্ধিজীবী, প্রগতিশীল, চিন্তাশীল রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীকে একের পর এক হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। এ মামলার রায় হয়েছে। যাতে করে প্রমাণিত হলো, তারেক রহমানসহ বিএনপির নেত্রীরা এবং জঙ্গিরা একসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড পরিচালনা করেছিল।

একটা কথা জনগণের মধ্যে প্রচলিত আছে এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলারও চেষ্টা করেন, বিএনপি যদি জামায়াতকে ত্যাগ করে তাহলে জামায়াত ক্ষমতাসীন দলের জোটের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।
এরকম কোনো প্রমাণ নেই। রাজনৈতিক কারণে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে জোটগতভাবে রাজনীতি করার উদাহরণ তো বর্তমান ক্ষমতাসীনদের নেই।

আঞ্চলিক রাজনীতিতে কি কোথাও কোথাও জামায়াত এবং ক্ষমতাসীন দলের এক ধরনের মিত্রতা আছে?
ব্যক্তিবিশেষে কোনো কোনো জায়গায় থাকতে পারে। তবে সেটা আমি জানি না। কিন্তু দলগতভাবে কোনো মিত্রতা নেই। কোনো নেতার ব্যক্তিগত কারও সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকতে পারে। অথবা পার্সোনালি লোকাল পলিটিক্সের স্বার্র্থে কারও সঙ্গে সম্পর্ক করতে পারে। কিন্তু রাজনৈতিকভাবে এমন কোনো সম্পর্ক থাকার সুযোগ নেই।

আপনারা তো দীর্ঘদিন ক্ষমতার সঙ্গে থাকলেন বা এখনো আছেন, বিরোধী দলে থাকতে জাসদের যে শক্তিশালী ভূমিকা ছিল; আপনারা ক্ষমতায় থাকাকালে সে প্রচেষ্টা কি অব্যাহত ছিল? জোটের ভেতরে থেকে আপনারা কি গঠনমূলক কোনো সমালোচনা করেছেন?
জাসদ প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বিরোধী রাজনীতিই করে এসেছে। আপনারা জানেন, জাসদের সৃষ্টিই হয়েছে ক্ষমতা থেকে। আমরা দল হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর, ক্ষমতা ছেড়ে দিয়ে ক্ষমতার বাইরে এসেছি। কাজেই ক্ষমতার লোভ যদি থাকত, তাহলে আমরা সেই জায়গাটাতেই থাকতে পারতাম। আরও বেশি শক্তিশালী হতে পারতাম। কিন্তু ক্ষমতা থেকে বের হয়ে এসে জাসদের সৃষ্টি। এখন আমরা দেশে বৃহত্তর স্বার্থে, বিশেষ করে যখন জঙ্গিবাদের উত্থান হলো এবং ইসলামী মৌলবাদীরা দেশে একের পর এক বোমা হামলা করে, গ্রেনেড হামলা করে-একটা অস্থির পরিবেশ তৈরি করল। মুক্তবুদ্ধিমনাদের ওপর আঘাত আসতে লাগল তখন আমরা বাধ্য হয়ে মূলত, এদের হাত থেকে দেশকে বাঁচানোর জন্য ২৩ দফার ভিত্তিতে ১৪ দল গঠন করি। সেখানে কিন্তু প্রথম শর্তই ছিল, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে হবে, জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করতে হবে, বিচার করতে হবে। এভাবে ধারাবাহিকভাবে আমাদের আদর্শিক কিছু কর্মসূচিও ছিল। সেটার ভিত্তিতেই কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছি। আমরা ক্ষমতায় আছি মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের বিরুদ্ধে দেশকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। পাশাপাশি এই জঙ্গিবাদীরা অনেকটা চুপসে গেলেও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়নি, শেষ হয়ে যায়নি। তাই যতক্ষণ না এদের ধ্বংস করা যাচ্ছে, যতক্ষণ না এদের হাত থেকে দেশ নিরাপদ না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা জোটে আছি।

এই যে বললেন, জাতির বৃহত্তর স্বার্থে এবং ইসলামী মৌলবাদের উত্থান, জঙ্গিবাদের উত্থান-এসব মিলিয়ে আপনারা জোটের সঙ্গে আছেন। কিন্তু জাসদ তৈরির পেছনে আপনাদের লক্ষ্য ছিল, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র। আপনারা তো ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে আছেন, এখানে থেকে আপনারা কতটা লক্ষ্যের দিকে ধাবিত হতে পারছেন? বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের জায়গাটা কতটা প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে বলে আপনারা মনে করেন।
বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র আমাদের মূল লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য আমরা ধারণ করি। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই আমরা এগুচ্ছি। কিন্তু এর মাঝখানে এটা একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা। কারণ, আমি ইচ্ছা করলেই এখন বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারব না। আমরা ক্ষমতার একটি ছোট্ট অংশ। প্রথমত, ক্ষমতা যদি আমরা না দখল করতে পারি, তাহলে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করতে পারব না। তবে আমাদের কিছুটা সফলতা আছে, সেটা আপনারা জানেন, ’৭২-এর সংবিধানে গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং জাতীয়তাবাদ ছিল, পরে সমাজতন্ত্রের কথাটা উইথড্রো হয়ে গিয়েছিল, আমরা আবার ক্ষমতায় আসার পরে অন্তত সেটাকে আবার ইনক্লুড করতে পেরেছি। যদিও বাস্তবে প্রয়োগের ক্ষেত্রে আমরা সেই জায়গায় যেতে পারিনি।

স্থানীয় রাজনীতির প্রসঙ্গে যেটা বললেন, যেমন ঢাকাতে আমরা যে জিনিসটা দেখি, জোটের যখন সম্মেলন বা সমাবেশ হয়, তখন কিন্তু মোহাম্মদ নাসিমের পাশে হাসানুল হক ইনু বসেন। কিন্তু কুষ্টিয়ার রাজনীতির ক্ষেত্রে, আওয়ামী লীগ ও জাসদের এই ঐক্যটা নেই। এটা কি আপনাদের জন্য ক্ষতিকর না? এই ব্যাপারটা আপনারা কীভাবে সমাধান করার চিন্তাভাবনা করেন?
আমরা তো চাই, কেন্দ্র থেকে একেবারে তৃণমূল পর্যন্ত এই ঐক্যটা অটুট থাকুক। কেননা আমরা কেন্দ্রীয়ভাবে যে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজটা করছি, সেটা যদি জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন পর্যন্ত করা যায়, তাহলে আমাদের দেশের যে সংকটগুলো আছে তা আরও সহজভাবে সমাধান করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে, আমাদের মূল ক্ষমতাসীন দল, আওয়ামী লীগের কিছুটা অনীহা আছে। লোকাল পর্যায়ের যে সমস্যাগুলো, বিশেষ করে আপনি কুষ্টিয়ার প্রসঙ্গে যা বলেছেন, কুষ্টিয়ায় আমাদের দলের সভাপতি এমপি ও মন্ত্রী। সেখানকার অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তিনি জড়িত। স্বাভাবিকভাবেই যারা ওখানকার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে আছেন, তারা অনেক সময় মনে করেন তারা ক্ষমতার মূল দল, বড় দল, তারা যেভাবে বলবে সেভাবে চলবে। জাসদ কিন্তু সেভাবে চলে না। আমরা কেন্দ্রের জোট ও দলের সিদ্ধান্ত মনে চলি।

মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ার একটা বড় অবদান আছে। কুষ্টিয়া কিন্তু অনেকদিন থেকে পূর্ণ মন্ত্রী পায়নি। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর মাধ্যমে কুষ্টিয়াবাসী পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছে। উনি যে একটা লম্বা সময় পার করলেন, এই জায়গায় কুষ্টিয়াবাসীর অর্জনটা কেমন হলো বলে আপনি মনে করেন?
এই সরকার আসার পর আমাদের দলের সভাপতি হাসানুল হক ইনু প্রায় সাড়ে ছয় বছরের কাছাকাছি মন্ত্রী আছেন। ইতোমধ্যেই কিছু বড় বড় কাজ তিনি হাতে নিয়েছেন। যেমন ভেড়ামারা গোলাপনগরে ইপিজেড পাস হয়েছে, শিগগিরই কাজ শুরু হবে। বেশ কয়েকটি বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে ভেড়ামারায়। ভারত থেকে ১০০ হাজার মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ এসেছে। এ ছাড়া ৩৫০ মেগাওয়াটের একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে। ১১০ মেগাওয়াটের একটা বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে। অনেকটা বিদ্যুতের রাজধানীর মতো হয়ে গেছে ভেড়ামারা। এ ছাড়া আনুষঙ্গিক কর্মকাণ্ড, রাস্তাঘাট, অন্য প্রতিষ্ঠান-সেগুলো তো হয়েছে। এ ছাড়া সরকারের স্থানীয় এমপিদের যে স্বাভাবিক বরাদ্দ, সেটা থেকে কিন্তু উনি তার নির্বাচনী এলাকায় অনেক বেশি রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছেন। বিশেষ করে মিরপুরসহ দুটি উপজেলায় তিনি তিনটি অডিটোরিয়াম করেছেন। এ ছাড়া পদ্মার ভাঙনে পুরো দৌলতপুর উপজেলা কিন্তু একটা হুমকির মুখে ছিল। ওই ভাঙনের হাত থেকে দৌলতপুরকে বাঁচানোর জন্য ইনু ভাই মন্ত্রী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমি তাকে ফিলিপনগরে নিয়ে গিয়েছিলাম। উনি কথা দিয়েছিলেন তিনি এটার একটা সমাধান করবেন। আমাদের এলাকার সর্বজন শ্রদ্ধেয় খিজির খান সাহেব উনি মূলত উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। এটা রক্ষার জন্য কাগজপত্র যা করার তিনি করেছিলেন। হাসানুল হক ইনুর সহযোগিতা ও হস্তক্ষেপেই প্রায় ১০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীভাঙন রোধে ব্লকের ব্যবস্থা করা হয়। দুই বছর হলো সেটার স্থায়ী সমাধান হয়েছে। ওই বাঁধ আরও দুই কিলোমিটার ডানে ও বাঁয়ে সম্প্রসারণের জন্য ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন হয়েছে।

আপনি জাসদের কেন্দ্রীয় রাজনীতির সঙ্গে অনেকদিন থেকে যুক্ত। জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ছিলেন। এলাকাতেও আপনি জনসেবার সঙ্গে সম্পৃক্ত আছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন করার ইচ্ছা পোষণ করছেন কি?
হ্যাঁ, আমি নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পদ থেকে বিদায় নিয়ে ২০০৯ সালে প্রথম উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করি। সেখানে সম্মানজনক ভোট পাই। আমি তখন থেকেই এলাকার কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। আমি ছাত্রজীবন থেকেই, যখন ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম, তখন থেকেই এলাকার কাজের সঙ্গে আছি।

আপনি বললেন, দলগতভাবে আপনাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। আমরা কি জানতে পারি, আপনার দল থেকে এরকম কতজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে?
দলগতভাবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে ৩০ জনকে। আর এমনিতে আমাদের দলের যেসব প্রার্থীকে জেলা থেকে সিলেকশন করে যেভাবে পাঠানো হয়েছে, কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটি সম্প্রতি তাদের ব্যাপারে সভা করেছে। এ বিষয়ে খুব শিগগির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে। সেখানে ১৭০ জনের মতো তালিকা আসতে পারে।
জোটের কাছ থেকে এ ব্যাপারে কতটা প্রত্যাশা করছেন?
এটা কিছুটা সিক্রেট বিষয়। এখানে দরকষাকষির বিষয় আছে। তবে আশা করছি কমপক্ষে ১০ আসন আমরা পাব।

একটা কথা শোনা যাচ্ছে, দুই জাসদ নির্বাচনের আগে আবার এক হয়ে যাবে। আপনাদের বিরোধটা থাকবে না। এ ব্যাপারে আপনার কাছে কোনো খবর আছে কি না?
সময়ই কথা বলবে, (হাসি)। এখন এ বিষয়ে আসলে সুনির্দিষ্ট কোনো কথা বলতে পারছি না।

আপনি যদি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন, তাহলে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের উন্নয়নের জন্য কি কি করবেন? কিংবা কি উন্নয়নের ঘাটতি আছে বলে আপনার মনে হয়? বা এর আগে যারা সংসদ সদস্য হয়েছেন, তারা নজর দেয়নি-এরকম কোনো কাজ কি আপনি নির্ধারণ করছেন?
আমাদের উপজেলাটা একটা বৃহৎ উপজেলা। এই বৃহৎ উপজেলাকে এক জায়গা থেকে পরিচালনা করা খুবই কঠিন। সেই কারণে আমার প্রথম দাবি থাকবে, এটাকে দুটি উপজেলা করা। প্রশাসনিকভাবে আরেকটি উপজেলা তৈরি করা। দৌলতপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি প্রাগপুরে একটা স্থলবন্দর করা। আমাদের হাসপাতাল এখনো আধুনিক মানের হয়নি। আরও আধুনিক হওয়া দরকার বলে আমি মনে করি। আমাদের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন দরকার। এ কাজগুলো আমার সাধ্য দিয়ে করার চেষ্টা করব। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানকে বৃদ্ধি করার জন্য আমার প্রচেষ্টা থাকবে। মাদকের বিরুদ্ধে একটা যুদ্ধ থাকবে।

দৌলতপুর উপজেলায় কর্মসংস্থান বলতে গেলে নেই। কারখানাগুলো ছোট হয়ে আসছে। সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে আপনার কি চিন্তাভাবনা?
আমাদের দেশে বেকার সমস্যা একটা বড় সমস্যা। অনেক শিক্ষিত লোক চাকরি পাচ্ছে না। আমাদের উপজেলায় কর্মসংস্থানের যে সুযোগ, সে ক্ষেত্রে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলাই মূল বিষয়। শিল্পকারখানাগুলো নির্ভর করে দেশে যারা বিত্তবান আছেন, তাদের ওপর। অনেকে নিজের মতো বিনিয়োগ করতে চান। সেই বিনিয়োগের নিরাপত্তা চান। আমি যদি এমপি হই, উপজেলায় যদি কোনো বিনিয়োগকারী বিনিয়োগ করেন, তাদের নিরাপত্তা এবং বিনিয়োগে যাতে বাধা সৃষ্টি না হয়, এ ব্যাপারে যা যা করার আমি করব।

দৌলতপুরে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আপনাদের সাংগঠনিক অংশগ্রহণ ছিল, এ পরিপ্রেক্ষিতে আপনারা কি চিন্তা করছেন? পাশাপাশি একটা ধর্মীয় রাজনীতির উত্থান হচ্ছে, এটা নিয়ে আপনি কি ভাবছেন?
কুষ্টিয়া হচ্ছে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী। আর আমরা বলতাম, দৌলতপুর হচ্ছে কুষ্টিয়ার সাংস্কৃতিক রাজধানী। সে ক্ষেত্রে আমার নিজের একটা কথা বলি, আমাদের অঞ্চলে তিন দিনব্যাপী প্রতিবছর বৃহৎ আকারে একটি সংগীতানুষ্ঠান হতো। সেটা আমার নেতৃত্বেই কিন্তু হয়েছে। আমি তখন ওই ক্লাবের সেক্রেটারি ছিলাম। আমাদের ইসলামপুর ক্লাব, একটি ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। যেটা ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত। ধারাবাহিকভাবে বড় বড় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড আমরা করেছি। ওখানে বাংলাদেশের নাম করা শিল্পীরা; যেমন ওস্তাদ শফি মণ্ডল, মোখলেছুর রহমান মিন্টু এমনকি ক্লোজআপ তারকা সালমাও কিন্তু ওখান থেকেই গান গেয়ে বেরিয়ে এসেছে।
এটা সত্য, আমরা হঠাৎ করেই হোঁচট খেয়েছিলাম ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পরে। তখন আমাদের এই কর্মকাণ্ডের ভেতর একটা ছেদ ঘটে। কারণ, বিএনপি-জামায়াত আসার পরে সন্ত্রাসী রাজনীতির একটা অভয়ারণ্য হয়ে গিয়েছিল। মানুষ দিনের বেলা রাস্তায় বেরুতে পারেনি। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তো দূরের কথা, মানুষের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডেরই সুযোগ ছিল না। বিএনপির ওই ৫ বছরে ২২ থেকে ২৪ জন মানুষ কিন্তু ওই চরাঞ্চলে, ফিলিপনগরে নিহত হয়েছে। ফিলিপনগরের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডটা ওই সময় থেকে বন্ধ হয়ে গেছে। বিএনপি-জামায়াতের সময়ে যে ছেদটা হয়েছিল সেই ছেদটা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগছে। ওই সময়ে আমাদের মানসিকতার যে ছেলেগুলো ছিল; এখন সে রকম ছেলে তৈরি করতে সময় লাগছে। ছোট্ট ছোট্ট কর্মকাণ্ড হচ্ছে, বড় আকারে হতে পারছে না। আশা করছি, আমরা আগের জায়গায় ফিরে যেতে পারব। আমরা উদ্যোগ নেইনি তা না। কয়েকবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওই যে বললাম, একটা ছেদ ঘটেছে। ওই জায়গা থেকে কাজ শুরু করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। সেই ক্ষেত্রে আমরা জোটবদ্ধভাবে ক্ষমতায় থাকলেও স্থানীয়ভাবে আমরা সবাই সব বিষয়ে একমত পোষণ করতে পারি না। এখন আমরা যখন উদ্যোগ নিতে যাই তখন অন্যরা ভাবে এটা কি জাসদের হয়ে গেল! যেহেতু আমি রাজনৈতিকভাবে একটি জায়গায় চলে গেছি। আওয়ামী লীগ যারা করে, তারা ভাবে চিন্তা করে দেখি সেখানে যাওয়া যায় কি না; এরকম কিছু বিষয় আছে।

বলা হচ্ছে, ঐক্যফ্রন্টের পেছনে মৌলবাদ ও সন্ত্রাসীরা রয়েছে। আপনারা এই  মৌলবাদ ও আগুনসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। আপনাদের একসময়ের নেতাসহ আওয়ামী লীগের সাবেক নেতারা এ জোটে আছে। এ বিষয়ে কি বলবেন?
আমাদের গ্রামে দেখি বৃষ্টি হলে পুকুরে ব্যাঙ লাফালাফি করে। কিছুক্ষণ পর আবার তারা যার যার জায়গায় চলে যায়। এই ঐক্যজোট ব্যাঙ হয়ে গেছে। এদের সেভাবে জনভিত্তি নেই; অবস্থানও নেই। এই কুনো ব্যাঙগুলো একসময় একেক জায়গায় লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। এগুলো এখন এক জায়গায় হয়েছে দেখেন কয়দিন থাকে! শুরুতেই একজন লাফ দিয়ে চলে গেছে। আমার বিশ্বাস নির্বাচন আসতে আসতে এর মধ্যে থেকে আরও দু’একজন লাফ দেবে।

বলা হয়ে থাকে বিএনপি-জামায়াত আত্তীকরণ হয়ে গেছে। আবার আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটের সঙ্গে থাকতে থাকতে জাসদ-আওয়ামী লীগ আত্তীকরণ হয়ে যাচ্ছে না তো? যদি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আল্লামা শফীর কথাটি বিবেচনায় নেন তাহলে কি বলবেন?
আল্লামা শফীর তেঁতুল হুজুর উপাধি কিন্তু জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু দিয়েছিলেন। সারা দেশে এটির প্রচলন হয়েছিল। তিনি তখন এ উপাধি দিয়েছিলেন, তাই না; তিনি এখনো বলেন।  প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কি বৈঠক হয়েছে, না হয়েছে-এটা তার ব্যাপার। সারা দেশের বিভিন্ন স্থানে যে সভা-সমাবেশ হয় সেখানে আমাদের সভাপতি বিএনপি-জামায়াত ও আগুনসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যেমন কথা বলেন তেমনি বলেন এই আল্লামা শফীর বিরুদ্ধেও।

খোলা কাগজ : আপনারা জোটগত রাজনীতিতে আছেন-কোনোদিন যদি এমন পরিস্থিতি আসে তাহলে কি প্রতিবাদ করবেন?
শরিফুল কবির স্বপন : অবশ্যই।