ভাষা আন্দোলন ও সেই সময়ের দিনগুলো

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১ | ৭ বৈশাখ ১৪২৮

ভাষা আন্দোলন ও সেই সময়ের দিনগুলো

চেমন আরা ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ০৬, ২০২১

print
ভাষা আন্দোলন ও সেই সময়ের দিনগুলো

আমরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলন করেছি। সংগ্রাম করেছি। সেই সংগ্রামের পথ ধরে মুক্তিযুদ্ধে উত্তরণ ঘটিয়েছি। বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন নয় মাস সশস্ত্র মুক্তির জন্য যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করেছি। স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা করেছি। তাই বারবার বাংলা ভাষা আন্দোলনের কথা বলতে গেলে আমরা বলিÑ ৫২’র ভাষা আন্দোলনের সড়ক ধরে আমরা মুক্তিযুদ্ধের নিশানা পেয়েছি। সেই সঙ্গে জেনে রাখা যে আমাদের ভাষা হাজার বছরের উত্তরাধিকার। 

১৩৫০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহ বাংলায় স্বাধীন সুলতানি আমল স্থাপিত হয়। এই সময় থেকে বাংলা ভাষার চর্চা উৎসাহিত হয়েছে। বলা যায় এই সময় থেকে বাংলা ভাষা চেতনা, প্রসার লাভ করে। পরে মোগল আমলে এই চেতনা কিছুটা ভাটা পড়েছে। কোনো জাতিকে ধ্বংস করতে হলে সবার আগে সেই জাতির ভাষা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সভ্যতাকে ধ্বংস করতে হয়। পাকিস্তানি শাসকরা তাই চেয়েছিল কিন্তু একুশের দেশ প্লাবি আন্দোলনের জোয়ারে তাদের সর্বনাশা চিন্তা ভাবনা খড়কুটোর মতো ভেসে যায়। একুশের এ আন্দোলনের ফলে আমাদের স্বাধীনতা প্রাপ্তি আরও সহজ হয়ে ওঠে। আমরা বলতে পারি একুশের আরেক নামই স্বাধীনতা। স্বাধীনতা আমাদের জীবনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেমন ভাষার ক্ষেত্রে তেমনি সব বাংলায়নের ক্ষেত্রে। অফিস, আদালত, ব্যাংক, বীমা, শিল্প, সাহিত্য সর্বত্র বাংলার জয়জয়কার এবং বাংলা ভাষার প্রচলনও শুরু হয়।

প্রতিদিন শহরের প্রধান প্রধান জায়গায় একুশকে বরণ করে নানান ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে। সাহিত্য সেমিনার হচ্ছে। কবিতা, কবিয়াল, মুর্শিদী, জারি গানের আসর বসছে। দেশীয় শিল্পের প্রদর্শনী চলছে। বিদগ্ধ গুরুজনদের স্মৃতিকে স্মরণ করে নিবেদিত হচ্ছে নানান অনুষ্ঠানের বিষয়সূচি। সাগরের জোয়ারের পানির মতো বাংলা ভাষার শব্দসম্ভারে নেমেছে লাবণ্যের ঢল। ঢাকাতেও বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় পাড়াতেও একুশ যেন নতুন সাজে, নতুন বেশে মনের মাঝে দোলা জাগাচ্ছে। বাংলা একাডেমিতে বসেছে লেখক, শিল্পী, কবি ও বুদ্ধিজীবীদের মিলন মেলা। বইয়ের স্টলে স্টলে শোভা পাচ্ছে নজরকাড়া। প্রচ্ছদপটে শোভিত রকমারি বই-পুস্তকের সমাহার। প্রতিদিন বসছে স্মরণীয় ও বরণীয় ব্যক্তিত্বদের সাহিত্যকর্মের উপর আলোচনা সভা। শ্রোতারা কিছু ভালো কথা শুনতে পারছেন। এক কথায় একুশকে নিয়ে বাংলাভাষী জনগোষ্ঠী প্রাণের-মনের আগল খুলে দিয়ে প্রাণের আনন্দ প্রবাহে ভাসছে। একুশ জাতির জীবনে একটি অবস্মিরণীয় দিন। রক্তঝরা এই দিনে জাতির আত্মোপলব্ধির উন্মেষ ঘটেছিল বাংলার উর্বর মাটিতে সোনালি ফসল বোনার মতো বাঙালির হৃদয় মাটিতে সৃজনশীল সাহিত্যকর্মের নবনব উৎসারণ- এই একুশেরই দান।

এই একুশ আমাদের নিয়ে গেছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদায়। একুশ আমার গর্ব, আমার অহংকার। কিন্তু আমি ব্যথা অনুভব করি যখন দেখি একুশের গোড়ার ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে। মিথ্যার বেসাতি সাজিয়ে একদল বুদ্ধিজীবী নবীন প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। দেশের সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব বোধের তাগিদে স্কুলজীবন থেকে ভাষা আন্দোলনে সামান্য শরিকানার অহংকারে আমি সামান্য কিছু কথা পাঠক গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ নতুন আলোকে উপহার দিতে চাই। আমরা সাবই জানি পাকিস্তান সৃষ্টির পরপরই মাত্র পনে দিনের মাথায় পয়লা সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামে একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান অধ্যাপক আবুল কাসেমের নেতৃত্বে ১৯ নম্বর আজিমপুর গঠিত হয়েছিল এবং এই সংগঠন থেকেই রাষ্ট্রভাষা।

বাংলাদেশের স্বপক্ষে প্রথম দাবি উথলে ওঠেছিল এই আন্দোলনে। দুর্জন, দুর্মূখরা যত কথাই বলুক না কেন- অধ্যাপক কাসেম যে এই আন্দোলনের বুনিয়াদ নির্মাণ করেছিলেন তা নিতান্ত অর্বাচীন ব্যক্তি ছাড়া কেউ অস্বীকার করতে পারবে না। ভাষার আন্দোলন ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানের আরও লক্ষ্য ছিল নবগঠিত মুসলিম রাষ্ট্রের বাঙালি মুসলমানদের তাহজিব তমদ্দুন, ধর্ম, সৃষ্টি ও সভ্যতাকে সুসংহত রেখে পাকিস্তানকে কীভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নেওয়া যায়। এই লক্ষ্য হাসিলের পথে তখনকার অনেক শিক্ষিত, মেধাবী, সমাজমনস্ক তরুণরা এগিয়ে আসেন। যার ফলে ১৯ নম্বর আজিমপুর, অধ্যাপক কাসেমের বাসভবন হয়ে উঠে বুদ্ধি, মেধা, প্রজ্ঞার, সমন্বয়ে দেদীপ্যমান একঝাঁক তরুণের আশীর্বাদ স্বপ্নভূমি। এই স্বপ্নভূমিতে যারা কাসেম ভাইকে সার্বক্ষণিক সঙ্গ দিতেন, পরামর্শ দিতেন, চিন্তা-চেতনার খোরাক জোগাতেন তাদের প্রায় সবাই সুধিজনের কাছে পরিচিত। তাদের কথাও আমি এখানে অবতারণা করব না।

কারণ, কালের ইতিহাসে এই গুণিজনদের নামও লেখা হয়ে গেছে ভাষাসৈনিক হিসেবে। এসব বহুল পরিচিত ভাষাসৈনিকের কথা বাদ দিয়ে আমি যেতে চাই ১৯ নম্বর আজিমপুরের অন্দরমহলে। যাদেরও এই ভাষা আন্দোলনের ভিত্তিকে মজবুত করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছিল। অনেক ভূমিকা ছিল। অথচ তারা বিশ্রুত ইতিহাস। এই বিশ্রুত ইতিহাস থেকে একুশের বিপুল সমারোহের মতো হাসি হাসি মুখে আমার চোখে ভেসে উঠে একজন মানুষের ছবি- তিনি কাসেম ভাইয়ের শ্বশুর আজিজুর রহমান তালুকদার। তার স্নেহ, প্রশ্রয় ও আনুকূল্য না পেলে দেশের কাসেম ভাইয়ের কল্যাণকামী চিন্তা-চেতনার সুষ্ঠু বিকাশ সম্ভব ছিল না। তার পরে মনে করতে হয় কাসেম ভাইয়ের স্ত্রী রাহেলা আপার তিন ভাইয়ের কথা। এরা কোনো সভা-সমিতিতে সক্রিয় অংশ না নিয়েও ভাষা আন্দোলনকে জোরদার করার লক্ষ্যে নীরবে কাজ করে গেছেন।

এদের মধ্যে একজন ড. সামসুল আলম তালুকদার, এমবিবিএস। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপক ও প্রসিদ্ধ হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। তার কথায় তিনি তখন ১৯ নম্বর আজিমপুরে বড়বোন রাহেলা আপার বাড়িতে থাকতেন। ঘরে জায়গা ছিল না বলে একটি বাথরুমকে একটু সম্প্রসারণ করে তার থাকার জায়গা করা হয়েছিল। তার কাজ ছিল রাতের অন্ধকারে নজরুল নামের এক ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে পুরনো ঢাকার অলিগলিতে পোস্টার লাগানো। পোস্টারের ভাষা ছিল নানারূপ- একটা হচ্ছে সকল ভাষা আল্লাহর দান, আল্লাহ তুমি মেহেরবান। আর কোনোটিতে থাকত শুধু রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে সাপ্তাহিক সৈনিক প্রকাশিত হলে কর্মচারী স্বল্পতার কারণে মাঝে মাঝে কাগজ ভাঁজ করার কাজেও হাত দিতেন। তার আরেক ভাই নুরুর রহমান জামালী। তার মনটা ছিল আকাশের মতো উদার। কাসেম ভাইকে ভালবাসতেন আপন ভাইয়ের মতো। ওই বাড়িতেই থাকতেন নবপরিণীতা স্ত্রী রোকেয়া ভাবিকে নিয়ে। রোকেয়া ভাবির কাজ ছিল রান্নাবান্নায় সারাদিন রাহেলা আপাকে সাহায্য করা। একটা আদর্শিক আন্দোলনের কর্মক্ষেত্র বিশাল বলে সারাদিন লোকজনের আনাগোনায় সরগরম থাকতে বাড়ির পরিবেশ। প্রায় সারাদিন রান্নাবান্না চলত। রোকেয়া ভাবির মুখের কথা- ঘুমাতে হত প্রায় রাত একটার ওপর। তারপরও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারতাম না। এত মানুষের আনাগোনা যেখানে ওখানে কি ঘুম আসে? অনেক সময় কাসেম ভাই অনেক বাজার এনে রান্না ঘরে ঢেলে দিয়ে বলত- রাহেলা, চুলায় আগুন দাও। এক্ষুনি যেতে হবে অমুকের বাসায় চাঁদার জন্য। কোনো প্রতিবাদ করা যেত না। রান্না-বান্নার কাজ সামলাতে হত রোকেয়া ভাবিকে একা একা। জামালী ভাই মাঝে মাঝে রান্না ঘরের দোরগোড়ায় এসে স্মিত হাসি দিয়ে চলে যেতেন। কাসেম ভাইয়ের বোন রহিমা নূরী ভাইয়ের প্রথমা স্ত্রী তাকেও রান্না ঘরের কাজে ও কাগজ ভাঁজ করার কাজে সাহায্য করত। এই বাড়ির জীবন ছিল এক ধরনের তাঁবু জীবন। অনেকে আসা-যাওয়া করতেন এই বাড়িতে। কাসেম ভাইয়ের চিন্তা চেতনার সঙ্গী হিসেবে স্থায়ীভাবে এই বাড়িতে থাকতেন চারজন। গফুর ভাই, নুরী ভাই, হাসান ইকবাল ভাই ও কথাশিল্পী শাহেদ আলী।

রোকেয়া ভাবির মুখের কথায় জানা যায় মাঝে মাঝে ভাত কম হলে এদের মধ্যে কেউ কেউ রাগ করে ভাত খেতেন না। তার মধ্যে শাহেদ আলী সাহেবই প্রবীণ। বড়বোনের আদর দিয়ে তার মান ভাঙাত রাহেলা আপা। সারদিন মানুষের আসা-যাওয়া, সভা-মিটিংয়ের মধ্যে তাকে দিন কাটাতে হত। কোনো পারিবারিক জীবন ছিল না তার। স্বামীর আদর্শের কাছে নিবেদিত এই মহিলা নিজেও মোমবাতির মতো জ্বলেছেন আর পুড়েছেন। প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আদর্শবাদী তরুণদের মধ্যে তিনি আগরবাতির মতো সুগন্ধ ছড়াতেন। যার জন্য তারা ব্যক্তিগত আরাম-আয়েসের তোয়াক্কা না করে দরকার হলে ছাপাবিহীন পত্রিকা বিছিয়ে রাত যাপন করেও এই বাড়িতে তৃপ্ত থাকতেন। মাঝে মাঝে এই তরুণদের মধ্যে কেউ কেউ রোমান্টিক কথাবার্তা বলে তাঁবু জীবনকে আনন্দসিক্ত করে রাখতেন। নববধূ রোকেয়া ভাবি পর্দা করতেন। সহজে কারও সামনে আসতেন না। অথচ জামালী ভাইয়ের নির্দেশ ছিল শাহেদ আলী, আব্দুল গফুর, নূরী আপার ভাইয়ের মতো থাকতে।

ওদের সামনে যেতে আমার কোনো আপত্তি নাই। তারপরও তিনি লজ্জার কারণে তাদের সামনে যেতেন না। তারা কিন্তু তাকে দেখলে মাঝে মাঝে রসিকতা করতেন। বলতেন, মনে হয় চিনি চিনি উহারে। এই সব স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে এখনও তিনি উল্লসিত হয়ে ওঠেন। আর রাহেলা আপার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন- রাহেলা বু যে কাসেম সাহেবকে কী ভালোবাসতেন আর ভাষা আন্দোলনে কেমন কাজ করেছেন তার একটি প্রমাণ দিলেই বুঝতে পারবেন। তিনি বলেন, বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গোটা দেশ উত্তপ্ত। চারিদিক পুলিশের ধর-পাকড় চলছে। এমন একপর্যায়ে গভীর রাতে পুলিশ এসে হাজির- ভাষা আন্দোলনের মুখপাত্র সৈনিকের সম্পাদক আবদুল গফুর ও ভাষা আন্দোলনের স্থপতি আবুল কাসেমকে ধরার জন্য ১৯ নম্বর আজিমপুর বাসায়।

এই সময় রাহেলাবু অসীম সাহস ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পুলিশের মোকাবিলা করেন। পিছনের দরজা দিয়ে কাসেম ভাই ও গফুর ভাইকে বের করে দিয়ে তিনি বাড়ির প্রবেশ মুখে দরজা ধরে দাঁড়িয়ে থেকে এত রাতে একটি পারিবারিক বাসস্থানে কেন এসেছে এই প্রসঙ্গ তুলে পুলিশের সঙ্গে অনেকক্ষণ বাদানুবাদ করে দরজা ছেড়ে দেন। পুলিশ ঘরে ঢুকে ওদের না পেয়ে চলে যায়। কাসেম ভাইয়ের অনেক সমস্যার মোকাবিলা রাহেলাবুকে ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে অনেকবার করতে দেখেছি। তারপরও তার মন জয় করতে পারিনি। অনেক দুঃখের বোঝা নিয়ে তাকে পৃথিবী থেকে চলে যেতে হয়েছে। গফুর ভাই একুশের উপর কিছু লিখতে বলার পর থেকে ভাবছিলাম কী লিখব। নানাজনে নানানভাবে সত্য-মিথ্যা দিয়ে একুশকে উপস্থাপন করছে। ভাষা আন্দোলনের শরিকদার হতে চাচ্ছে।

আমরা যারা সেই সময় কাজ করেছি- যাদের প্রেরণায় কাজ করতে উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম সে সব কথা এখন কেউ কেউ স্বার্থের কারণে বলতেও চায় না। বাকবাকুম দলের অতি মাত্রার কলরবে সেকালের সত্য কথাগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। তাই ভাবলাম কাসেম ভাইয়ের জমজমাট বৈঠকখানার নামী-দামি ভাষাসৈনিকদের অবদানের কথা না লিখে অন্দরমহলে ঢুকে পড়ি। রাহেলা আপা, রোকেয়া ভাবী, রহিমা, সামসুল আলম ভাই, জামালী ভাইদের কথা মানুষ জানুক। ভাষার ক্ষেত্রে তাদের অবদানকে স্বীকার করুক। ৫২ থেকে আজতক পর্যন্ত একুশের স্মৃতি নতুন নতুন ডানা মেলে জাতিকে নতুন নতুন পথে ধাবিত করতে করছে। পথ দেখিয়ে নিয়ে চলছে মা, মাটি, মাতৃভূমি, মাতৃভাষা এবং আমাদের হৃদয়-মনকে দুর্বিনীত আবেগে ভাষার বিশ্বায়নে সহায়তা করছে। রফিক, জব্বার ও বরকতের আত্মাহুতি আমাদের বাংলাভাষাকে দেদীপ্যমান করে বিশ্বদরবারে আমাদের চিহ্নিত করেছে। ফলে আমরা পথ চিনেছি এবং অনেকদূর এগিয়ে এসেছি। বঙ্গবন্ধু জাতিসংঘে ভাষণ দিতে গিয়ে বাংলা ভাষার মূল্যায়নে আরেক মাত্রা যোগ করে।

একুশের ঐতিহ্য চেতনা সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ইউনেসকো। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর প্যারিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই সংস্থা প্রতিবছর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে আমাদের রক্তের মধ্যে রক্তপ্লাবনের নতুন চেতনা সৃষ্টি করেছে। আজ পৃথিবীর প্রায় দুই শ’ মিলিয়ন মানুষ বাংলায় কথা বলে। একুশ হয়েছে জাতির সকল দেশের সেরা খবর। আর প্রতিটি জাতির ঘরের ঠিকানা। এই সেরা খবরকে বুকে ধরে আমরা এখন পথ চলি। সবুজ পতাকাকে প্রতিটি ঘরের ঠিকানা করে।

চেমন আরা : ভাষাসৈনিক ও কবি