সেলফি তোলার ধুম

ঢাকা, সোমবার, ১৯ এপ্রিল ২০২১ | ৬ বৈশাখ ১৪২৮

সেলফি তোলার ধুম

শেখ আনোয়ার ১২:১৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১

print
সেলফি তোলার ধুম

ডিজিটাল বাংলাদেশে সোশ্যাল মিডিয়ার জোয়ারে সেলফি তোলার ধুম লেগে গেছে। ডিজিটাল তরুণ প্রজন্মের মধ্যে চলছে সেলফি ক্রেজ। সেলফি নিয়ে মাতামাতি হরহামেশাই দেখা যায়। কে, কার চেয়ে বেশি সেলফি তুলবে- এটিই যেন যুুগের তরুণ প্রজন্মের প্রতিযোগিতা। শুধু বাংলাদেশে কেন, হালের জনপ্রিয় ধারা এই সেলফি উন্মাদনায় বুঁদ হয়ে রয়েছে গোটা বিশ্ব। নানান ঢঙে, নানান ভঙ্গিমায় তরুণ-তরুণীদের সেলফি তোলার প্রবণতা এখন বেশি লক্ষ করা যায়। সবাই যেন সেলফি জ্বরে আক্রান্ত। যে যেমন অবস্থায় থাকছে, টুক করে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে আপন মনে পোজ দিয়ে খচাখচ সেলফি তুলে যাচ্ছে। তারপর সেলফি পোস্ট হয়ে যাচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।

সেলফি কি শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে?
স্মার্টফোনের ক্যামেরায় নিজের ছবি নিজে নিজে তোলার কৌশলের নাম সেলফি। সেলফি শব্দটির সঙ্গে ডিজিটাল বাংলাদেশের দুধের শিশুরাও পরিচিত। সেলফির জনপ্রিয়তা দিনদিন বেড়েই চলেছে। এই সেলফি-প্রেমীদের খুঁজে বের করতে হলে আমাদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢুকে যেতে হবে। কারণ সেলফি প্রজন্মের বিচরণ ক্ষেত্র মূলত এই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দিকে খেয়াল করলে, অবশ্যই মনে হবে যে, সেলফি প্রেমের মাধ্যমে আত্ম-প্রেমে ডুবে রয়েছে সব দেশের মানুষ। ডিজিটাল বিশ্বে এই প্রবণতা ক্রমেই বাড়ছে। সমাজ যেভাবে বদলেছে তাতে মানুষ এই প্রবণতাকে আপন মনে লালন করছে। এ নিয়ে রীতিমতো চর্চা হচ্ছে। এভাবেই সেলফির মাধ্যমে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ডিজিটাল প্রজন্ম।

সেলফি হবে না কেন?
ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার বদৌলতে আজ বিশ্বের নামি-অনামি-কুখ্যাত-বিখ্যাত সবাই আমাদের তথাকথিত বন্ধু হয়ে গেছেন। সবাই সেলফি তুলতে ও তা অন্যদের কাছে প্রচার করতে সারাক্ষণ ভীষণ ব্যস্ত থাকেন। ‘বজরঙ্গি ভাইজান’ ছবির বিখ্যাত গান ‘চল বেটা সেলফি লে লে রে’ ক’দিন আগে আমাদের দেশেও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। যেন ওই গানের তালে তালে পথে-ঘাটে, মাঠে, শপিংমলে, ড্রয়িংরুমে, বিয়ে-বাড়ি, পিকনিকসহ নানান অনুষ্ঠানে চলছে সেলফি তোলার ধুম। সুযোগ পেলেই পকেট থেকে স্মার্টফোন বের করে ‘হয়ে যাক সেলফি’। সঙ্গে সঙ্গে তা আপলোড হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ব্যস। লাইকসহ কমেন্টের ধুম পড়ে যায়। গ্লোবালাইজেশনের যুগে ডিজিটাল প্রযুক্তির এই ম্যাজিক খেলা বিশ্বকে শুধু হাতের মুঠোয় নয়, গোটা মানুষকে গা ঘেঁষাঘেঁষির মতো আরও বেশি করে কাছে এনেছে।

সেলফি থেকে রোগ
গবেষকরা বলছেন, সেলফি নামের হালের এই যে হুজুগ, সেলফি নিয়ে এই যে এত মাতামাতি, তা কিন্তু মোটেই স্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়। শুনে তাজ্জব হতে হয়, বিজ্ঞানীরা যখন বলেন, ‘অনেকেই সেলফি রোগে ভুগছেন!’ যখন গবেষকরা জানান, ‘সেলফি তোলার হিড়িক একপ্রকার পাগলামোর লক্ষণ। যারা সেলফি তোলায় মজে থাকেন, তাদের চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।’ ব্রিটেনের নটিংহ্যাম ট্রেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলেন, ‘সারাক্ষণ সেলফিতে মজে থাকা নার্সিসিস্টিকের লক্ষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের মতে, সেলফি তোলার আসক্তি একটি বড় সমস্যা বৈকি! আপনি যদি দিনে ৬টির বেশি সেলফি তোলেন এবং তা সামাজিকমাধ্যমে আপলোড করার তাড়না বোধ করেন- তাহলে নিশ্চিত বুঝে নেবেন আপনি ক্রনিক সেলফাইটিস রোগে আক্রান্ত।’ সমাজবিজ্ঞানীর বলছেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয়তা ও বিস্তার এই প্রবণতাকে উস্কে দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় ভূমিকা পালন করেছে।’

বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘সবাই সেলফি তুলে জানাতে চায়, আমাকে দেখো। আমি কী সুন্দর! এটি নার্সিসিজম বা আত্ম-প্রেম রোগ।’ কলিন্স ইংরেজি অভিধান আত্ম-প্রেমকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে এভাবে- ‘নিজের প্রতি অতিমাত্রায় ভালোবাসা বা আগ্রহ, বিশেষ করে নিজের চেহারা দেখানোর ব্যাপারে বেশি আগ্রহ মানেই আত্ম-প্রেমের মাত্রাতিরিক্ত বহিঃপ্রকাশ।’ সেলফি কারও নিজের গুরুত্ব ও ক্ষমতাকে বাড়াবাড়ি রকমে জাহির করার এক ধরনের বাজে প্রবণতা। সেলফি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা মানে হলো ব্যক্তি বিশেষের একধরনের কিছু আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটানো। এই আচরণ কম-বেশি হয়তো আমাদের সবার মধ্যেই রয়েছে। কিন্তু সেটি যখন বাড়াবাড়ির পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছে, তখন সেটিকে একটি মানসিক স্বাস্থ্যগত সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞরা যাকে বলে থাকেন ‘নার্সিসিস্টিক পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডার’ বা সংক্ষেপে এনপিডি।

কীভাবে বুঝবেন আপনি সেলফি রোগে আক্রান্ত?
গবেষকরা বলেন, সেলফিবাজ মানুষ নিজের গুরুত্ব সম্বন্ধে অতি উচ্চ ধারণা পোষণ করেন। সাফল্য ও ক্ষমতা নিয়ে অলীক কল্পনা করেন। নিজেকে বিশেষ কেউ এবং অতুলনীয় বলে বিশ্বাস করেন। নিজেকে উচ্ছ্বসিত মাত্রায় প্রশংসা করার প্রবণতা এদের বেশি থাকে। অন্যদের ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ হাসিল করার প্রবণতা এসব মানুষের খুব বেশি হয়। তাদের থাকে অন্যদের অনুভূতির প্রতি অবজ্ঞার মনোভাব। অন্যদের প্রতি ঈর্ষাপরায়ণতা, উদ্ধত আচরণ এবং নিজেকে বড়াই করার প্রবণতায় তারা সেলফি তোলা ও সামাজিকমাধ্যমে প্রচারের কাজ বেছে নেয়। আপনার চারপাশে ছড়িয়ে থাকা এমন মানুষ নিশ্চয় আপনি চেনেন? কিন্তু ব্যাপারটি রোগের পর্যায়ে কখন পৌঁছায়? সেটি ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানী ড. লী। তিনি জানান, যখন এই ধরনের আচরণ একটি তীব্র মাত্রা নেয়। যখন সেটি শুধু সেই ব্যক্তির জন্যই যে একটি মানসিক তাড়নার কারণ হয়ে দাঁড়ায় তা নয়। তার পরিচিতজনদের জন্যও বিরক্তিকর লাগে। সমস্যার কারণ হয়ে ওঠে। তখন একে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে গণ্য করা হয়।

সেলফি তোলা কেন বিপজ্জনক?
সেলফি তুলতে গিয়ে বিপদের মুখোমুখি হয়েছেন এমন ঘটনার সংখ্যা কম নয়। সেলফি তোলার সময় অনেকেই পেছনে কোনো বিপদ রয়েছে কি-না, তা খেয়াল রাখতে পারেন না। এই কারণে বহু মানুষের জীবন হুমকির মুখোমুখি হয়ে পড়ে। সেলফি তুলতে গিয়ে বন্যপ্রাণীর আক্রমণের ঘটনা নতুন কিছু নয়। ক’দিন আগে গত মাসে সাপের সঙ্গে সেলফি তোলার খেসারত দিয়েছেন এক মার্কিনি। সাপের সঙ্গে সেলফি তুলতে গিয়ে হিতে বিপরীত হয়ে দংশনের শিকার হন ফাসলার নামের ওই ব্যক্তি। সম্প্রতি এমনই ঘটনা ঘটে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায়। জানা যায়, সেখানকার সান দিয়েগোর বাসিন্দা ফাসলার সাপের সঙ্গে সেলফি তুলতে গেলে দংশনের শিকার হয়ে কঠিন সংকটে পড়েন। একদিকে সাপের বিষে তার শরীর ব্যথায় নীল, অপরদিকে হাসপাতালে বিল দেখে তার চক্ষু চড়কগাছ। দংশনের জ্বালার সঙ্গে মোটা অঙ্কের চিকিৎসা খরচের ব্যথাটাও বোধ হয় কয়েকগুণ বেড়ে যায় সেলফিবাজ ফাসলারের। কারণ হলো হাসপাতালের বিল বাবদ তাকে দিতে হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সোয়া কোটি টাকারও বেশি। মানে দেড় লাখ ডলার। তবে টাকা খরচ হলেও এবারের মতো প্রাণ রক্ষা হয়েছে তার। এভাবে বিপজ্জনক স্থানে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলতে গিয়ে মারা যান অনেকে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সেলফি তুলতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে ডুবে, সড়ক দুর্ঘটনায় বা উঁচু জায়গা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন। এ ছাড়া সেলফি তুলতে গিয়ে রেললাইনে, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বা আগুন লেগে নিহতের ঘটনাও ঘটেছে বিস্তর। পরিসংখ্যানে প্রকাশ, সেলফি তুলতে গিয়ে বিশ্বে ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩৩ হাজার দুর্ঘটনা ও কয়েক হাজার মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সেলফি কেন বাঁকামুখো থ্যাবড়া হয়?
ট্রেনে, বাসে, রাস্তাঘাটে যাতায়াত করতে করতে তোলা এমন বাঁকামুখো সেলফি সোশ্যাল মিডিয়ায় রোজ দেখা মেলে। কারণ অনেকে কোনোক্রমেই পছন্দমতো সেলফি তুলতে পারেন না। সেজন্যে প্রত্যেক সেলফিতেই তাদের নাক খুব ভোঁতা দেখায়। সেলফির দুনিয়ায় অনেককে আক্ষেপে বলতে শোনা যায়, ‘সেলফিতে আমার নাকটা কেমন থ্যাবড়া দেখাচ্ছে!’ কখনো মনে হয়, মুখ অনুযায়ী নাকটা অনেকটাই বড়। অথচ আপনার চেহারা মোটেই ওরকম দেখতে নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, যে যেমন মানুষই হোন না কেন, একটি জিনিস কমন। মোটামুটি সিংহভাগেরই সেলফি তোলার কায়দা এক। অর্থাৎ নাক থ্যাবড়া ও বিকৃত মুখ। যতই সেলফি তুলুন, নিখুঁত কখনই হবে না! সেলফি ছবি বাঁকা হয়ে যাবে। তাই অনেকের প্রশ্ন, সেলফি মানে তবে কি বিকৃত মুখ হতে হবে? মানে আপনার চোয়াল-গ-দেশ-আঁখিপাখি ছাড়িয়ে নাকেই ডমিনেট করছে আপনার ভূত-ভবিষ্যৎ-বর্তমান? কেন সেলফি তোলার সময় আমাদের চোখ-মুখ এবং বিকৃত অঙ্গভঙ্গি করতে হবে? এতে কি সেলফির মান আরও বাড়ে? যদি বাড়ে তাহলে কীভাবে? আর যদি না বাড়ে, তাহলে এমন কেন হয়?

সেলফি তোলার বিজ্ঞান কৌশল
উত্তরে সেলফি তোলার বিজ্ঞান কৌশল জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ওহাদ ফ্রায়েডের সঙ্গে মিলে বিজ্ঞানী বরিস, সেলফি তোলার বিজ্ঞান কৌশল উদ্ভাবন করেছেন। যার নাম রুটজারস-স্ট্যানফোর্ড মডেল। এটি এক গাণিতিক পরিমাপ। যেখানে বলা হচ্ছে, সাধারণত সেলফি তোলা হয় ১২ ইঞ্চি অর্থাৎ ৩০ সেন্টিমিটার দূরত্ব থেকে। যার ফলে সেলফি অনেক সময়ই ভালো আসে না। কারণ কম দূরত্ব থেকে সেলফি তুললে নাক ৩০ শতাংশ বড় ও চওড়া দেখাবে।

পুরুষ ও মহিলাদের মুখের গড় একটি মাপ নিয়ে গবেষণায় দেখা যায়, ১২ ইঞ্চি দূর থেকে সেলফি তুললে পুরুষদের নাকের আকার ৩০ শতাংশ বেড়ে যায়! আর মেয়েদের ক্ষেত্রে সেটা বাড়ে ২৯ শতাংশ। মুখের খুব কাছ থেকে সেলফি তুললে তা মুখের আকারকে বিকৃত করে দেখায়। এমনকি, নাকের ডগাও কতকটা ভোঁতা দেখায়। তাই বলে ঘাবড়ে যাবেন না। ছবিতে ভোঁতা দেখালেও আপনার নাক আসলে ঠিকই রয়েছে। শুধু পরের বার সেলফি তোলার সময়ে আপনার স্মার্টফোনটি নাক থেকে একটু মাঝামাঝি দূরত্বে রেখে ছবি তুলুন। তাতেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সেলফি তোলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, আপনার হাত যেন ৫ ফুট দূরত্বে থাকে! না হলে সেই সেলফি মোটেই ভালো হবে না। মুখের যতদূর থেকে সেলফি তোলা হবে ততই সুন্দর হবে আপনার সেলফি। যদিও শুধু হাত দিয়ে এত দূরত্ব থেকে সেলফি তোলা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে তাই সেলফি স্ট্যান্ড ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কোথায় সেলফি তুলবেন না?
সেলফি দুর্ঘটনায় সারা বিশ্বে মৃত্যু ঘটে চলেছে। তাই সব জায়গায় সেলফি তোলা উচিত নয়। আমাদের দেশে বিশেষ করে রেললাইন বা রেলওয়ে ব্রিজে উঠে কখনো সেলফি তোলা উচিত নয়। এ ছাড়া ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে বা মাথা বাইরে বের করে সেলফি তুলবেন না। রাস্তায় চলন্ত গাড়ির সামনে, রাস্তা পার হওয়ার সময়, চলন্ত বাসের দরজার সামনে বা মোটরসাইকেল চালানো অবস্থায় সেলফি তুলবেন না। এ ছাড়াও বাসার ছাদের রেলিংয়ে বসে বা খোলা ছাদের কিনারায়, লেকের পাড়ে বা নদীর কিনারায় দাঁড়িয়ে কিংবা সমুদ্রসৈকতে একটু গভীরে গিয়ে সেলফি নয়।

নদীতে নৌকা বা স্পিডবোট চলার সময়, উঁচু পাহাড়ে বা গিরিখাদ, জলপ্রপাত, ঝরনার উপরে দাঁড়িয়ে সেলফি কখনো নয়। চিড়িয়াখানায় বা সাফারি পার্কে হিংস্র প্রাণির সামনে নিরাপদহীন অবস্থায় এবং সিঁড়িতে ওঠার সময় কখনো সেলফি তুলবেন না। কারণ এসব স্থানে সেলফি তুলে অসাবধানতাবশত পা পিছলে পড়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনার সম্মুখীন হতে পারেন।

তবুও ভক্তদের ভালোবাসায় প্রতিনিয়তই সেলফি বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন দেশ বিদেশের রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষক, বড় আমলা, কবি, সাংবাদিক, লেখক, সাহিত্যিক শিল্পীসহ অনেকেই। এককথায় সামাজিক, সাংস্কৃতিক সেলিব্রেটি, বিশিষ্ট তারকা ব্যক্তিত্বগণের সঙ্গে নিজেকে ফ্রেমে বন্দি করতে সেলফির আবদার করলে সেলফিবাজদের আর না করা সম্ভব হয় না। চলে সেলফি আর সেলফি। মাঝে মধ্যেই এই মাত্রার অত্যাচারে বিরক্তিও প্রকাশ করেন অনেকে। তাই সেলফি না তুলে ছবিই তুলুন এবং সেলফি তুলতে সতর্ক হোন!

শেখ আনোয়ার : বিজ্ঞান লেখক