মৃত্যুদণ্ডের বিধান, তবুও অপ্রতিরোধ্য ধর্ষক!

ঢাকা, সোমবার, ১ মার্চ ২০২১ | ১৬ ফাল্গুন ১৪২৭

মৃত্যুদণ্ডের বিধান, তবুও অপ্রতিরোধ্য ধর্ষক!

সামসুজ্জামান ১১:৪১ পূর্বাহ্ণ, জানুয়ারি ১৭, ২০২১

print
মৃত্যুদণ্ডের বিধান, তবুও অপ্রতিরোধ্য ধর্ষক!

ধর্ষণের হাত থেকে সমাজকে নিরাপদ রাখতে আইনের শেষ ঠিকানা মৃত্যুদণ্ডের আইন পাস করার পরও ধর্ষকদের গতি রোধ করা যাচ্ছে না। দিন দিন অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠছে তাদের গতি। নোয়াখালীর সোনাগাজী মাদ্রাসা থেকে যে ধর্ষণের উৎপত্তি হয়েছিল তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। অবস্থা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, সারা দেশ ধর্ষকদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের আইন সংসদে পাস করার জন্য ফুঁসে উঠেছিল। অবশেষে সরকার বাধ্য হয়েই ধর্ষকদের মৃত্যুদ-ের আইন পাস করল। কিন্তু তারপরও কেন থামানো যাচ্ছে না ধর্ষকদের!

এখানে বেশকিছু প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। প্রথমত, থানা থেকে চার্জশিটে আইনের দুর্বলতা এবং আইন প্রয়োগের অভাব। আমরা দেখেছি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি ধর্ষণের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কিন্তু একটিরও প্রয়োগ হয়নি। কারণ এ ক্ষেত্রে আইনের জটিলতা যেমন আসামিপক্ষের উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগে দীর্ঘসূত্রতা অন্যতম। মাসের পর মাস আপিলের রায়ের অপেক্ষা মামলাকে অপেক্ষাকৃত দুর্বল করে ফেলে। দেশের বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ধর্ষণ।

ধর্ষণ বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। পত্রিকার পাতা, টেলিভিশনের পর্দা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই সবার আগে ধর্ষণের খবর চোখের সামনে আসে। ধর্ষণের খবরে খবরে ছেয়ে গেছে সমস্ত অঙ্গন। ধর্ষণ বর্তমানে আমাদের দেশে একটি সর্বগ্রাসী অপরাধে পরিণত হয়েছে। কিছু দিন আগে সিলেটে এমসি কলেজ হোটেলে ছাত্রলীগ নামধারীদের গণধর্ষণের শিকার হয়েছিল যে মেয়েটি সে তো একা ছিল না। স্বামীর কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে নরপশুরা। তাহলে মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়?

একা পথ চলতে গেলে হায়নার থাবা থেকে রক্ষা নেই। স্বামীর সঙ্গে গিয়েও রক্ষা নেই। তাহলে মেয়েরা যাবে কোথায়? ধর্মীয় দৃষ্টিতে মুসলিম ধর্মে নারীকে পুরুষের সম অধিকার দেওয়া হয়েছে। বিবাহ বন্ধনে স্বামীর প্রতি স্ত্রীর এবং স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অধিকারকেও বণ্টন করা হয়েছে সমভাবে। হিন্দু ধর্মে দেবী আরাধনার মাধ্যমে নারীকে শীর্ষ আসনে অধিষ্ঠিত করা হয়েছে। পার্থিব জগতেও এমন হাজার হাজার উদাহরণ আছে। তাহলে বর্তমানে সামাজিক এবং পারিপার্শ্বিক এ অধঃপতন কেন? কেন আমরা পুরুষরা নারীর প্রতি এমন অসদাচরণ করছি, হয়ে উঠছি অসহিষ্ণু?

ন’মাস গর্ভধারণের পর যে নারী কঠিন যন্ত্রণা ভোগ করে উপহার দিচ্ছে একটি সন্তান। যে নারী সৃষ্টি না হলে হতো না বংশ বিস্তার, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, পৃথিবী এতদিনে হয়ে যেত মানবশূন্য। তাদের প্রতি কেন এ বৈরী আচরণ? সৌদি আরবে ধর্ষণের শাস্তি শিরোচ্ছেদ। তারা কোনোরকম বিলম্ব না করে প্রকাশ্যেই আইনটি কার্যকর করে থাকে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই আইনকে ধিক্কার জানায়। সভ্যতার লেবাসে কৈফিয়ত চায়।

সামসুজ্জামান: সাংবাদিক, যশোর