রোধ করো বায়ুদূষণ

ঢাকা, রবিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২১ | ৪ মাঘ ১৪২৭

রোধ করো বায়ুদূষণ

শেখ আনোয়ার ১২:০১ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ২৯, ২০২০

print
রোধ করো বায়ুদূষণ

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন, ‘প্রকৃতিকে অতিক্রমণ কিছুদূর পর্যন্ত সয়। তারপর আসে বিনাশের পালা।’ সত্যিই। প্রকৃতি ও পরিবেশে আজ যেন ধ্বংস বিনাশের মহোৎসব চলছে। অথচ বেঁচে থাকার জন্য আমাদের দরকার বিশুদ্ধ পানীয়, নির্মল বায়ু, তাজা খাবার আর পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। সাম্প্রতিককালে সবক’টাই আক্রান্ত। মাটির নিচের ও ওপরের পানি ভান্ডার দূষণে ভারাক্রান্ত। কলকারখানা ও যানবাহন থেকে বাতাসে মিশছে ভয়ঙ্কর বিষাক্ত ধোঁয়া। মাত্রাছাড়া কীটনাশকের ব্যবহারে শস্য, ফসল, শাকসবজি, মাছ, মাংস সবই বিষময় হয়ে উঠেছে। আর শব্দ দানবের ভয়ঙ্কর অত্যাচারে বিপন্ন পশুপাখি, বয়স্ক, শিশু, রোগী আমরা সবাই। দূষণের চাপে জলবায়ুই পাল্টে যাচ্ছে ভয়াবহভাবে।

বায়ুদূষণের ক্ষতিকর দিকগুলোর কথা আমরা স্কুল-কলেজের পাঠ্যপুস্তক থেকে কম-বেশি জানি। কিন্তু সে ক্ষতির হাত থেকে নিজেদের বাঁচাতে কতটুকু মানি? বায়ুদূষণের বিপদগুলো কি সত্যিই আমাদের চেতনাকে ধাক্কা দেয়? বায়ুদূষণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। এতদিন প্রতিবেশী দেশ ভারতের দিল্লি ছিল বায়ুদূষণে শীর্ষে। সেই দিল্লির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি দূষিত এখন আমাদের ঢাকা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘হেলথ ইফেক্টস ইনস্টিটিউট’ এবং ‘ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশন‘ সম্প্রতি বায়ুর মানের দিক থেকে এশিয়াকে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত অঞ্চল বলে ঘোষণা দিয়ে জানায়, ‘বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানে মানুষ এমন এক পরিবেশে বাস করছে, যেখানকার বাতাসের মান বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এয়ার কোয়ালিটি গাইডলাইনে থাকা পিএম ২.৫ স্তরের চেয়ে বেশি। দূষণকবলিত অন্যান্য দেশের তুলনায় এই মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ। এছাড়া ‘স্টেট অব গ্লোবাল এয়ারের’ মতে, ‘বাংলাদেশের প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ বায়ুদূষণের মধ্যে বাস করছে।’

গবেষকরা বলেন, ‘বায়ুদূষণের সবচেয়ে বেশি শিকার হচ্ছে শিশুরা। শিশুদের উচ্চতা কম হওয়ায় বাতাসে ভাসমান ভারী দূষকগুলো বেশি পরিমাণে শাঁসের সঙ্গে প্রবেশ করে।’ গ্রামে কেরোসিনের স্টোভ থেকে মারাত্মক দূষিত হয় ঘরের ভিতরের বাতাস। কয়লা, কাঁচা কাঠ বা ঘুঁটের জ¦ালানি থেকেও ছড়ায় বায়ুদূষণ। এই দূষণে মহিলা ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে ৯১ শতাংশ শিশুমৃত্যুর কারণ হচ্ছে এই বায়ুদূষণ।

পরিসংখ্যানে প্রকাশ, বিশ্বে ৩০০ কোটি মানুষ রান্নার জন্য দূষণহীন জ্বালানি বা উন্নত প্রযুক্তির সুবিধালাভে আজও বঞ্চিত। আর তাই শিশুরা বড়দের তুলনায়
শ্বাসতন্ত্রের রোগে বেশি ভোগে। শিশুদের বুদ্ধির বিকাশ কম হয় এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

বৈশ্বিক বায়ুদূষণ পরিস্থিতি-২০১৭ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘বাংলাদেশে বায়ুদূষণে প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু শ্বাসজনিত জটিল সমস্যার শিকার হয়।’

আরেক গবেষণায় জানা গেছে, ‘২০১৯ সালে সর্বোচ্চ আউটডোর পিএম ২.৫ স্তরে থাকা শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ।’ একই বছরে বায়ুদূষণের কারণে বাংলাদেশে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ‘মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে উচ্চ রক্তচাপ, খাদ্যসংক্রান্ত রোগের পরই সর্বাধিক বিপদ হলো বায়ুদূষণ। বায়ুদূষণের কারণে দিন দিন হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, স্ট্রোক ও শ্বাসতন্ত্রের নানান রোগ বেড়েই চলেছে।’

পরিসংখ্যানে জানা যায়, ‘বিশ্বে প্রতি ১০ জন মানুষের মধ্যে ৯ জন মানুষ দূষিত বাতাসকে প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢোকাতে বাধ্য হচ্ছে। শুধু শাঁসের সঙ্গে নয়, অতি ক্ষুদ্র কণা পিএম ২.৫ (ব্যাস ২.৫ মাইক্রোমিটারের কম) মুখগহ্বর ও নাসাপথের মিউকাস পর্দা ভেদ করে সরাসরি রক্তে মিশে মস্তিষ্ক ও হৃদপিণ্ডের মারাত্মক ক্ষতি করছে। সারা বিশ্বে প্রতি বছর ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে বায়ুদূষণের কারণে। এদের মধ্যে ৪০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটছে ঘরের ভিতরের বায়ুদূষণের কারণে।

শীতকাল আসতে না আসতেই বায়ুদূষণে প্রায় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থায় পৌঁছেছে ঢাকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শীতের শুষ্ক মৌসুমের কারণে আগামী তিন মাস এ ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করবে। সরকার যদি এখনই বায়ুদূষণ রোধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। দেশের অধিকাংশ শহরের বাতাসে সাদা চোখে যে ধুলা দেখা যায়, তা শুধু মাটির ক্ষুদ্র কণা নয়। এর মধ্যে নানা ধরনের সূক্ষ্ম রাসায়নিক বস্তুকণাসহ কার্বন-ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, উচ্চমাত্রার সীসা, নাইট্রোজেন, হাইড্রোকার্বন, বেনজিন, সালফার, ক্যাডমিয়াম, দস্তা, ক্রোমিয়াম, নিকেল আর্সেনিক, ম্যাঙ্গানিজ, অ্যামোনিয়া, ফটো কেমিক্যাল অক্সিডেন্টস ও কপারের উপস্থিতি রয়েছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা, অর্থাৎ পিএম ২ দশমিক ৫-এর কারণেই ঢাকায় দূষণ অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নাজুক হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার বায়ুদূষণের ৫৮ শতাংশের উৎস মহানগরীর আশপাশের ইটভাটা। এছাড়া রাস্তার ধুলা, মোটরগাড়ি ও কলকারখানার দূষণ মিলে ২৬ শতাংশ।

কারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়ায় থাকে মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর সালফার ডাই অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেনের বিভিন্ন অক্সাইড, ওজোন ও বিভিন্ন হাইড্রোকার্বন। এসব বিষাক্ত গ্যাস বাতাস ফুসফুসে ঢুকে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মানুষ। ফুসফুসের ক্যানসার, ব্রঙ্কাইটিস ও হাঁপানিসহ শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

এছাড়া তৈল শোধনাগার, সার কারখানা, সালফিউরিক অ্যাসিডের কারখানা, কাগজ কারখানা ইত্যাদি থেকেও যথেষ্ট পরিমাণে সালফার ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হয়। এই গ্যাস এসিড বৃষ্টির জন্যও দায়ী। এসিড বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন সৌধের যেমন ক্ষয় হয়, তেমনি মাছ চাষ, কৃষিকাজ ও অরণ্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়া জ্বালানির অসম্পূর্ণ দহনের ফলে তৈরি হয় কার্বন মনোক্সাইড। এই গ্যাসের রক্তে মেশার ক্ষমতা খুব বেশি। রক্তে এই গ্যাস হিমোগ্লোবিনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে অক্সিজেন পরিবহনের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। ফলে দেহের কোষে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়।

নাইট্রোজেনের নানান অক্সাইডের সঙ্গে বিভিন্ন উদ্বায়ী জৈব যৌগের বিক্রিয়ার ফলে উৎপন্ন ওজোন গ্যাস ফুসফুসে পানি জমা ও রক্তক্ষরণ ঘটাতে পারে। আবার ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য বেশি দায়ী নানা ধরনের হাইড্রোকার্বন। যেমন- বেঞ্জিন, টলুইন, জাইলিন ও বিউটাডাইন। এগুলো মূলত কারখানা থেকে নির্গত হয়। তবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত হাইড্রোকার্বন হলো মিথেন যা উষ্ণায়নের জন্য দায়ী।

আর এক হাইড্রোকার্বন ফর্মালডিহাইড, প্লাইউড তৈরি করতে ব্যবহৃত হয়। যাদের বাড়িতে প্লাইউডের আসবাব রয়েছে তাদের প্রশ্বাসের সঙ্গে ফর্মালডিহাইড প্রবেশ করলে শ্বাসকষ্ট হতে পারে। এসব ছাড়াও আরেক অন্যতম অপরাধী হলো অ্যারোসল বা বাতাসে ভাসমান অতি সূক্ষ্ম কঠিন বা তরল কণা। এদের ব্যাস হয় সাধারণত এক মাইক্রোমিটারের কম। যানবাহন, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র ও কলকারখানার ধোঁয়া অ্যারোসলের উৎস। শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করে এরা দ্রুত রক্তে মিশে যায়। ফুসফুসের ক্যানসার, হাঁপানি ও হৃদরোগের জন্য অ্যারোসল অন্যতম অপরাধী।

মানব সভ্যতার অগ্রগতির অন্যতম দুই শর্ত হলো শিল্পায়ন ও নগরায়ন। আর এর হাত ধরেই আসে বায়ুদূষণ। যে দেশ যত শিল্পোন্নত ও নগরসমৃদ্ধ সে দেশে বায়ুদূষক উৎপাদনের মাত্রা তত বেশি। উন্নত দেশের অধিক সংখ্যক মানুষের জীবনযাত্রায় ভোগবাদের প্রবল চাপ লক্ষ করা যায়। তারা রেফ্রিজারেটর, ওয়াশিং মেশিন, এয়ারকুলার, প্রাইভেট গাড়ি ইত্যাদির ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। ফলে জীবাশ্ম জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ে। তার সঙ্গে বাড়ে বায়ুদূষণও।

অন্যদিকে, নগরায়নের কারণে ধ্বংস হতে থাকে সবুজ। ইট-কংক্রিট তাড়াতাড়ি গরম হয় বলে শহরের তাপমাত্রা দিনের বেলা খুব বেড়ে যায়। এর সঙ্গে দূষক গ্যাসগুলো তাপমাত্রার বৃদ্ধিকে আরও ত্বরান্বিত করে। এয়ারকুলার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এর মধ্যে একপ্রকার ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে। যা প্রশ্বাসের সঙ্গে ফুসফুসে ঢুকে নিউমোনিয়া ঘটাতে পারে। এছাড়াও পরিবেশের উষ্ণতাও বাড়িয়ে তুলছে বায়ু দূষণকারী বিভিন্ন গ্যাস। এদের মধ্যে অন্যতম হলো মিথেন, কার্বন ডাই অক্সাইড, নাইট্রাস অক্সাইড, ওজোন ইত্যাদি।

ধানখেত, জলাভূমি ও গবাদি পশুর মল হলো মিথেন গ্যাসের প্রধান উৎস। কার্বন ডাই অক্সাইডের চেয়ে মিথেনের তাপ ধারণ ক্ষমতা ২১ গুণ বেশি। আমরা যদি উদ্ভিজ্জ খাবারে বেশি অভ্যস্ত হই, কৃষিজাত বর্জ্যকে জৈব সার ও জ¦ালানি গ্যাস উৎপাদনের কাজে লাগাই, গোবর গ্যাস প্লান্টের মাধ্যমে জ্বালানি গ্যাস তৈরি করতে পারি তবে বাতাসে মিথেনের পরিমাণ কমানো সম্ভব। অথচ কৃষিকাজে নাইট্রোজেন ঘটিত সারের বহুল ব্যবহারের কারণে বাতাসে নাইট্রাস অক্সাইড বাড়ছে। সেজন্যে আমাদের জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

কয়লা, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস ইত্যাদি জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারে এবং বিপুল পরিমাণ অরণ্য ধ্বংসের ফলে গত ১০০ বছরে বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এজন্য আমাদের জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে অপ্রচলিত শক্তি- যেমন, সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে, তেমনই প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে।

এছাড়াও উষ্ণায়নের জন্য দায়ী আরও এক গ্যাস হলো ক্লোরো ফ্লুরো কার্বন বা সিএফসি। রেফ্রিজারেটর ও অ্যারোসল প্রোপেল্যান্টস সিএফসির প্রধান উৎস। এই গ্যাস বায়ুম-লের উপরের স্তরে ওজোন স্তরকে ধ্বংস করে। ফলে সূর্য থেকে আগত ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি সরাসরি পৃথিবীতে বেশি পরিমাণে পৌঁছায় যা থেকে ত্বকের ক্যানসারসহ নানা রোগের প্রকোপও বাড়ে।

বায়ূদূষণ থেকে বাঁচতে করণীয় কী? এবার তা জেনে নেওয়া যাক। গাড়িতে পুরনো ইঞ্জিনের ব্যবহার ও গ্রামাঞ্চলে মোটর ভ্যান নিষিদ্ধ করতে হবে। জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে ব্যাটারিচালিত যানের ব্যবহার বাড়াতে হবে। ব্যক্তিগত পরিবহনের পরিবর্তে গণপরিবহন- বাস, ট্রাম, ট্রেন ইত্যাদি ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে এবং মোটর বাইক ও স্কুটারের পরিবর্তে বাইসাইকেলের ব্যবহার বাড়াতে হবে।

সালফারবিহীন কয়লা, সীসাবিহীন জ্বালানি তেল ব্যবহার করতে হবে। কলকারখানার চিমনি ও যানবাহনে ধোঁয়া শোধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্লাষ্টিক ও পলিথিন পোড়ালে মারাত্মক ডাই-অক্সিন গ্যাস তৈরি হয়। যা থেকে কিডনি, লিভার, জননতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের রোগ এমনকি ক্যানসার ঘটায়। তাই নিষিদ্ধ করতে হবে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার।

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমাতে হবে। তাপ বিদ্যুতের পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎ ও বায়ুচালিত বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে হবে। জ্বালানি হিসেবে জৈব গ্যাস ব্যবহারে মানুষকে উৎসাহিত করতে হবে। কেরোসিন, কয়লা, কাঠ, ঘুঁটে ইত্যাদি জ্বালানি ব্যবহার করে রান্না করলে বাড়ির মধ্যে দূষণও বাড়ে। এ থেকে রেহাই পেতে গেলে গ্রামের বাড়িতে ধোঁয়াবিহীন চুলা­ বা বায়ু নিষ্কাশক পাখা লাগাতে হবে।

ব্যক্তিগত বা যৌথ প্রচেষ্টায় প্রচুর পরিমাণে গাছ লাগাতে হবে এবং অরণ্য ধ্বংস বন্ধ করতে হবে। বাতাসকে দূষণমুক্ত রেখে সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজন নির্মাণাধীন ভবন ও রাস্তা থেকে উৎপন্ন ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। রাস্তায় পানি ছিটিয়ে ধুলাবালি ওড়া বন্ধ করতে হবে। নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক রাস্তায় চলাচলের সময় ত্রিপল দিয়ে ঢেকে নিতে হবে।

শিল্প-কারখানাকে শহর থেকে দূরে স্থাপন করতে হবে। কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণসহ শিল্পবর্জ্যরে নিরাপদ অপসারণ নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ যানবাহনে সীসামুক্ত জ্বালানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপদ দূরত্বে ইটভাটা স্থাপন এবং ভাটার চিমনি যথাযথ উচ্চতায় ব্যবহারের মাধ্যমে কালো ধোঁয়া নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

বায়ুদূষণ রোধ করতে হলে সরকারি আইনের কঠোর প্রয়োগ ছাড়াও জনগণকে হতে হবে পরিবেশ সচেতন। শুধু নিজের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য নয়। আগামী প্রজন্মকে সুস্থভাবে বাঁচাতে, বাতাসকে দূষণমুক্ত রাখতে দরকার পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখার অঙ্গীকার।

শেখ আনোয়ার: বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
xposure7@gmail.com