দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: কীভাবে হবে জীবিকা নির্বাহ

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: কীভাবে হবে জীবিকা নির্বাহ

জেলি খাতুন ১০:০৭ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৯, ২০২০

print
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি: কীভাবে হবে জীবিকা নির্বাহ

মানুষের দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলো মূল্য ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী। এমন চলতে থাকলে কীভাবে চলে জীবিকা নির্বাহ! প্রবাদে আছে মড়ার উপর খাড়ার ঘা। প্রবাদটির অর্থ বিশ্লেষণ করলে বুঝতে পারি বিপদের ওপর বিপদ। করোনার দীর্ঘ সময় যেন ঠিক মড়ার উপর খাড়ার ঘা। করোনার এ দীর্ঘ সময়ে অনেক লোকই কাজকর্মহীন হয়ে পড়েছে। ফলে অর্থ চিন্তায় কাটছে অনেকটা সময়। এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বন্যা মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে। বন্যায় যেমন মানুষের দুর্ভোগ থাকা খাওয়ার তেমনি করে গৃহপালিত পশুপাখির ও দুর্ভোগের সীমা থাকে না। বর্তমান সময়ের প্রধান সমস্যা মানুষের কাজকর্মহীনতা। কাজকর্ম কম থাকায় জটিলতা বাড়ছে দিন দিন। বিশেষ করে যারা দিন আনে দিন খায় তাদের জীবিকা নির্বাহ কতটা ভালো চলছে কতটা স্বস্তিতে তারা তাদের জীবিকা নির্বাহ করছে কতটা পেটপুরে তারা দু’বেলা দু’মুঠো খেতে পারছে কতটা প্রশান্তি নিয়ে তারা রাতে ঘুমাতে পারছে। সব যেন প্রশ্নের ওপর প্রশ্ন।

একজন দিনমজুরের কথাই ধরা যাক। যখন সারাদিন কাজ করে একজন দিনমজুর দুইশ’ টাকা উপার্জন করে বাজার খরচ করতে যায় ঠিক তখনি উপলব্ধি করার সময়, দিনে দুইশ’ টাকা আয় করে চাল, ডাল, আর আলু কেনার সাধ্যটুকু যদি হারিয়ে ফেলে তাহলে তারা কতটা ভালো থাকবে ভাবার বিষয়। তাছাড়া বর্তমান সময়ে এক কেজি চালের চেয়ে এক কেজি পেঁয়াজের দাম বেশি। শুধু পেঁয়াজ নয় ডাল, আলু, পেঁয়াজ, মরিচ, বেগুন থেকে শুরু করে সবকিছুরই দাম বেশি। নিত্য প্রয়োজনীয় সকল দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি যেন আরও বেশি দুর্ভোগ ডেকে আনছে। দিন শেষে দু’মুঠো পেটের ভাত যদি তারা জোটাতে না পারে তাহলে তারা কেমন থাকবে একজন অটোরিকশা চালক, একজন দিনমজুর, সারাদিন যে হাড়ভাঙ্গা খাটুনি করে যে অর্থ উপার্জন করে তা দিয়ে যদি পেটের ক্ষুধাই ঠিকঠাক নিবারণ করা না যায় তাহলে তারা কতটা ভালো থাকতে পারে দিন শেষে ভাত আলু ভর্তাটুকু না জোটে তবে কেমন থাকতে পারে আমরা চাই এ সময় দ্রব্যমূল্য সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে সহজলভ্য হোক। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে যেন দিন শেষে বাজারের ব্যাগ হাতে নিয়ে কাউকে দীর্ঘশ^াস ফেলতে না হয়। যেন ভাবতে না হয় পেটের ভাত জোটাব নাকি তরিতরকারি কিনব!

তাছাড়া এ করোনাকালে অনেক লোক তাদের চাকরি হারিয়েছে। যারা এ সংকটকালে চাকরি হারিয়েছে তারা কতটা সংকটে আছে তা উপলব্ধি করার বিষয়। তারা তাদের জীবিকা কিভাবে নির্বাহ করছে ঠিক এ সংকটময় মুহূর্তে যদি দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি চলমান থাকে তাহলে কতটা ভালো থাকবে তারা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির ফলে জনজীবন আজ বিপর্যস্ত। সংকটকালে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আরও সংকট ডেকে আনছে। চাল, ডাল, মরিচ, পেঁয়াজ শাকসবজি সব যেন মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।
তাছাড়া যখন মানুষ চাল, ডাল কেনার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলছে তখন তারা কীভাবে মাছ মাংস কেনার চিন্তা করবে এটাও ভাবার বিষয় যখন চাল কেনার সামর্থ্য থাকে না তখন মাছ-মাংসের কথা চিন্তা করা যেন বিলাসিতা ছাড়া কিছুই নয়। যখন নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বাজারদর তীব্রমাত্রায় বৃদ্ধি পায় তখন মানুষের কতটা দুর্ভোগ নেমে আসে তা শুধু খেটেখাওয়া মানুষগুলোই উপলব্ধি করতে পারে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বরেখা আর জনগণের ক্রয়ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা এ কষ্ট যেন বর্ণনা করা যায় না। এ কষ্ট যেন কল্পনার বাইরে। এমন পরিস্থিতিতে সংসার চালানো ভীষণ কঠিন হয়ে পড়ে।

যেন নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাওয়ার অবস্থা। দারিদ্র্যের কষাঘাতে জর্জরিত মানুষগুলোর অভাবের তীব্রতা যেন লেগেই থাকে। অভাব যেন তাদের পিছু ছাড়ে না। এ সময় যদি তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বমুখী রেখার কবলে পরে তাহলে তাদের দীর্ঘশ্বাস থেকে যায়।

তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আকুল আবেদন, করোনার সময়ে আর কোনো দুর্ভোগ চাই না। দরিদ্র, হতদরিদ্র, দিনমজুর, কর্মহীন লোকদের ভালো থাকার কথা বিবেচনা করে তাদের দু’বেলা দু’মুঠো পেটপুরে খাওয়ার কথা চিন্তা করে এ সংকটকালে যেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে দ্রব্যমূল্য সহজলভ্য হয়, দ্রব্যমূল্য যেন সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকে এটাই প্রত্যাশা করি।

জেলি খাতুন : শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ
jellyakhter403@gmail.com