বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণ জরুরি

ঢাকা, মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণ জরুরি

মোহাম্মদ নজাবত আলী ১০:৪৫ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

print
বৈষম্য দূরীকরণে জাতীয়করণ জরুরি

হিসেব করলে প্রত্যেকটা দিন কোনো না কোনো দিবস। গত ৫ অক্টোবর পালিত হলো বিশ্বশিক্ষক দিবস। ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ এ দিনটিকে শিক্ষক দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এ দিবসের তাৎপর্য বেসরকারি শিক্ষকদের দুরাবস্থা নানা বৈষম্য নিয়ে শিক্ষক দিবসে বিভিন্ন পত্রিকায় দেশের অনেক পণ্ডিত এবং প্রাজ্ঞজনরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট মুজিব বর্ষের শেষ দ্বারপ্রান্তে এসে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি জানিয়েছেন। 

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি দীর্ঘ দিনের। এ নিয়ে বহু আন্দোলন হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম চেতনা ছিল একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা। এ লক্ষ্যে প্রথমেই বঙ্গবন্ধু প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের শুভ সূচনা করেছিলেন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি রাষ্ট্রের প্রাথমিক শিক্ষাকে জাতীয়করণের পাশাপাশি মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন যথাক্রমে ৭৫ টাকা ও ১০০ টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন। একই সাথে ১০ ও ২০ বছরের মধ্যে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করতে চেয়েছিলেন। একটি বৈষম্যহীন শিক্ষাব্যবস্থা চালু করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ ও সুনাগরিক হিসেবে সমগ্র জনগোষ্ঠীকে গড়ে তুলতে প্রথমিক শিক্ষার পর মাধ্যমিক ও পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের স্বপ্ন ছিল বঙ্গবন্ধুর। কিন্তু পঁচাত্তরের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর মুজিবের স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নির্বাসনে যায়। প্রাথমিক শিক্ষার পর মাধ্যমিক তারপর পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ ঘাতকরা দেয়নি। এটা জাতির জন্য বড় দুর্ভাগ্য। ধ্বংসপ্রাপ্ত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধুর শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে একসঙ্গে সাঁইত্রিশ হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে প্রাথমিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে তিনি সরকারিকরণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংস্কার ও পুনঃনির্মাণ করেন যা শিক্ষাবান্ধব সরকারের কাজ এতে কোনো সন্দেহ নেই। তিনি ভালো করেই জানেন, শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। শিক্ষাই মানুষকে আলোকিত করে। শিক্ষা গ্রহণের মধ্য দিয়ে একটি রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠী মানবিক হয়। একই সঙ্গে বিভিন্ন গুণে গুণান্বিত হয়ে সুকুমার বৃত্তির উন্মেষ ঘটে। তাই তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে সার্বিক দিক থেকে পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন তিনি অনেকটা সফলও হয়েছিলেন। তিনি বেঁচে থাকলে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাংলাদেশ আজ অনেক আগেই উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হতো। জাতি তার স্বপ্নের সোনার বাংলা পেত। যদিও প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছেন। বাঙালি জাতির দুর্ভাগ্য যে, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতাপরবর্তী স্বল্প সময় আমাদের মাঝে ছিল। আমাদের সৌভাগ্য তারই সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দীর্ঘ সময় জাতি পেয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাঙালি জাতির আশা আকাক্সক্ষার প্রতীক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর মতোই শিক্ষাবান্ধব সরকার। স্বাধীনতাপরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর প্রাথমিক শিক্ষাকে সরকারিকরণের ধারাবাহিকতায় শেখ হাসিনা ছাব্বিশ হাজার রেজিষ্টারভুক্ত প্রাথমিক বিদ্যালয়কে সরকারিকরণ করেন। প্রাথমিক বিদ্যালয় যে শিক্ষার গোড়া তার ভিতকে বঙ্গবন্ধুর মতো তিনিও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করান।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এক জাপানি ভদ্রলোককে প্রশ্ন করা হয়েছিল, যুদ্ধবিধ্বস্তের পরও জাপান এত উন্নত কেন? ভদ্রলোকের উত্তর ছিল, শিক্ষা শিক্ষা শিক্ষা। শিক্ষাকে সার্বিক গুরুত্ব দেওয়ার কারণে জাপান আজ এত উন্নত। বঙ্গবন্ধুও বিশ্বমানের নাগরিক তৈরি করতে শিক্ষাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেন। তিনি বিশ্বাস করতেন শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। তিনি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ান। কিন্তু তার মৃত্যুর পর শিক্ষাখাতে বরাদ্দ কমতে শুরু করে। বর্তমানে শিক্ষাখাতে যে বরাদ্দ তা দিয়ে সরকারি বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় যে বৈষম্য বা একটি বৈষম্যহীন একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয় যেটা স্বপ্ন দেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আজ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন ও মুজিবের স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব শেখ হাসিনার কাঁধে অর্পিত। তাই সঙ্গত কারণেই শেখ হাসিনার নিকট অবহেলিত চরম বৈষম্যের শিকার বেসরকারি শিক্ষক সমাজের দাবি মুজিব বর্ষের শেষ প্রান্তে অন্তত পক্ষে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হোক। শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ করা হলে শিক্ষক সমাজ কিছুটা বাড়তি সুবিধা পাবেন এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই তবে এর চেয়ে বেশি উপকৃত হবে দেশ জাতি। শিক্ষক সমাজ দেশ জাতি গঠনের একমাত্র হাতিয়ার। আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষা যদি জাতির মেরুদণ্ড হয়, তাহলে শিক্ষার মেরুদণ্ড কে? নিশ্চয়ই শিক্ষক এতে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকালে দেখা যাবে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ এবং জাতীয়করণের ফলে উন্নত দেশগুলো এর সুফল দ্রুত ঘরে তুলতে সক্ষম হচ্ছে। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরে রাষ্ট্র এ বিষয়কে তেমন গুরুত্ব দেননি।

প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয় স্কেল প্রদান করেন। যুগের পর যুগ ধরে অবহেলিত ননএমপিও শিক্ষদের (একাংশ) এমপিওভুক্ত করেন (এখনো তারা বেতন-ভাতাদি পাচ্ছেন না) এবং পর্যায় ক্রমে অবশিষ্ট ননএমপিও শিক্ষদের এমপিওভুক্ত করা হবে বলে আশ্বাস প্রদান করেন। তাছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেওয়া, নিদিষ্ট তারিখে পিইসি, জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষা শুরু ও ফল প্রকাশ। মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা আধুনিকীকরণ, বহিবিশ্বের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়নসহ শিক্ষা ক্ষেত্রে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তবুও সরকারি বেসরকারি শিক্ষা ক্ষেত্রে বিভিন্ন বৈষম্য ও অনিয়ম রয়েছে। এসব বৈষম্য দূরীকরণে গ্রহণযোগ্য সমাধান হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারিকরণ। বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে সরকারিকরণের দাবি দীর্ঘদিনের। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট তাই দেশের লক্ষ লক্ষ শিক্ষকদের দাবি ও প্রত্যাশা ‘মুজিববর্ষের শেষপ্রান্তে বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণ করা হোক। কারণ তারা শিক্ষা ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট গোটা শিক্ষক সমাজের আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে। গোটা শিক্ষক সমাজ বিশ্বাস করে প্রধানমন্ত্রীর সততা, নিষ্ঠা দুরদর্শিতায় বাংলাদেশ শিক্ষা, কৃষি, শিল্প, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতি স্বাধীনতা পেয়ে বঙ্গবন্ধুর কাছে ঋণী, তেমনি বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থা সরকারিকরণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিকট শিক্ষক সমাজ চির কৃতজ্ঞ থাকবে।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ অবিচ্ছেদ্য, তেমনি শেখ হাসিনার দেশের উন্নয়ন একই সূত্রে গাথা। দেশের এ উন্নয়নের অংশীদার সমাজের অন্যান্য পেশাজীবীদের মতো বেসরকারি শিক্ষকরাও। সরকারি বেসরকারি শিক্ষদের মধ্যে যে আর্থিক অসঙ্গতি ও বৈষম্য রয়েছে তা সমতা আনয়নের লক্ষ্যে অতীতে তারা বিভিন্ন সময়ে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করে রাজপথে নামতে বাধ্য হয়। বিশেষ করে বাড়িভাড়া, ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতার মধ্যে এখন সীমাহীন বৈষম্য রয়েছে। বেসরকারি শিক্ষকদের জাতীয় স্কেল প্রদান করলেও এ বৈষম্যগুলো রয়ে গেছে। এসব বৈষম্য দূরীকরণে ‘মুজিববর্ষে’ অন্ততপক্ষে মাধ্যমিক স্তরে চাকরি জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই। বাংলাদেশের শিক্ষার ইতিহাসে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি চির অমরত্ব লাভ করবেন। বেসরকারি শিক্ষকদের পরিবার পরিজন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনাদিকাল আপনাকে কৃতজ্ঞভরে স্বরণ করবে।

আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণ হলে শিক্ষাক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন আসবে। মেধাবীরা এ পেশায় আসতে আগ্রহী হবে। একটি বৈষম্যহীন শিক্ষা ও সমাজ গড়ে উঠবে। বিশ্বের অনেক দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশ্বশিক্ষক দিবস পালিত হলেও বাংলাদেশে তা হয় না। বাংলাদেশের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এ দিবসটি পালন করে সরকারের নিকট বিদ্যমান বৈষম্য তুলে ধরে তা নিরসনকল্পে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি করেন। এবারের জাতীয় শিক্ষক দিবসে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ নামে একটি সংগঠন ভার্চুয়াল মাধ্যমে আলোচনা সভার আয়োজন করেন। এতে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপুমনি বলেন, মানুষের মানুষ হওয়ার পেছনে যে কয়জন ভূমিকা রাখেন তার মধ্যে শিক্ষকরা অন্যতম। বর্তমান সরকার শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বাড়িয়ে সবচেয়ে বেশি সম্মান দেখিয়েছে। নানা প্রতিকূলতার কারণে শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা সম্ভব হয় না, কিন্তু সরকার চেষ্টা করছে। বেতন-ভাতা যে বাড়ানো হয়েছে এটা সত্য তার মানে এই নয় যে, বেসরকারি শিক্ষকদের কোনো বৈষম্য নেই। সীমাহীন বৈষম্য ও হাজারো সমস্যা বিদ্যমান রয়েছে এখনো। স্বাধীনতার প্রায় ৫০ বছরে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ না হওয়াটা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়। এ দীর্ঘ সময় কেন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণে রূপ নেয়নি বা শিক্ষক নেতারা আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজের এ দাবিটি আদায় করতে পারেননি। আমার বিবেচনায় অন্যান্য কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে শিক্ষক সংগঠন বিভক্তকরণ। প্রায় ৫০টি শুধুমাত্র মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক সমিতি রয়েছে। এসব সমিতির নেতাদের মধ্যে দাবি আদায়ের যথেষ্ঠ সমন্বয়হীনতা রয়েছে। সমিতির নেতাদের মধ্যে জাতীয়করণের আদায়েও মতভেদ লক্ষ্য করা যায়। শিক্ষক সংগঠনগুলোর মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এক সংগঠনের নেতা চান শিক্ষা জাতীয়করণ। কেউ চায় শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ, কেউ চায় শতভাগ বোনাস, ইনক্রিমেন্ট, চিকিৎসাভাতা, বাড়িভাড়া ইত্যাদি। আবার কেউ চান তৃতীয় বা চতুর্থ শ্রেণির চাকরি জাতীয়করণ। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয় এই যে, বহু সংগঠন ও বিভিন্ন মতামতের কারণে তারা জোরালোভাবে সরকারের নিকট দাবি বা আন্দোলন করতে পারে না। আবার কোনো সংগঠনের নেতা নিজের পদ পদবি রক্ষায় সচেষ্ট। বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের মধ্যে মতভেদ, পদ পদবি রক্ষা, আখের গোছানো নিয়ে ব্যস্ততা, নিজেদের মধ্যে দলাদলি, স্বার্থ, কোন্দল, দ্বন্দ্ব ইত্যাদির কারণে তারা অনেকটা মানসিকভাবে দুর্বল। যার কারণে শিক্ষকদের স্বার্থে তারা জোরালো কোনো ভূমিকা রাখতে পারছেন না। শিক্ষকদের হাজারো সমস্য ও বৈষম্য সমাধানের একটাই পদ জাতীয়করণ। কিন্তু বিভিন্ন শিক্ষক নেতারা জাতীয়করণের এই ইস্যুতে এক হতে পারছেন না। সব শিক্ষক নেতা যদি জাতীয়কণের ব্যাপারে একমত না হয়, এক প্লাটফর্মে এসে সমাবেশ বা মহাসমাবেশ এবং আন্দোলনে ঐক্যমত না হয় তাহলে শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ এ দাবি আজ কঠিন হবে।

বঙ্গবন্ধুর মতো শেখ হাসিনাও শিক্ষাবান্ধব। শিক্ষা জাতীয়করণের ফলে বহির্বিশ্বে একজন শিক্ষককে সম্মানের চোখে দেখা হয় এবং তাদের যথেষ্ট সামাজিক মর্যাদা রয়েছে। তবে আমরা আশা করব বেসরকারি শিক্ষকদের হাজারো সমস্যা, দুরবস্থা, বৈষম্য বিবেচনায় নিয়ে ঐতিহাসিক মুজিববর্ষের শেষ মুহূর্তে গোটা শিক্ষাব্যবস্থা না হলেও অন্ততপক্ষে মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা জাতীয়করণের ঘোষণা দেবেন।

মোহাম্মদ নজাবত আলী: শিক্ষক ও লেখক
tnalichs@gmail.com