আগুন, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘশ্বাসের শহর

ঢাকা, বুধবার, ২ ডিসেম্বর ২০২০ | ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৭

আগুন, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘশ্বাসের শহর

শফিক হাসান ১১:১৮ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২২, ২০২০

print
আগুন, জলাবদ্ধতা ও দীর্ঘশ্বাসের শহর

যত্রতত্র অগ্নিকাণ্ড, জলাবদ্ধতা, সুপেয় পানির জন্য হাহাকার, দূষিত বাতাসের সঙ্গে মনোজাগতিক দূষণ যেন পিছু ছাড়ছে না ঢাকার। বাসিন্দারা নিত্য দূষণের সঙ্গে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তকমা গায়ে সেঁটেছে আরও আগেই। অন্য অনেক দূষিত জোনের সঙ্গে ঢাকা যেন হয়ে উঠছে ‘ফায়ার জোন’। বিগত কয়েক বছরগুলোতে কয়েকবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এক্ষেত্রে অভিজাত এলাকা বনানী যেন তুলনামূলক এগিয়ে! এফআর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পর গত মঙ্গলবার আবারও আগুন লাগে বনানীর বহুতল একটি ভবনে। বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

ইতোপূর্বে পোশাক কারখানায় আগুনের লেলিহান শিখায় মারা গেছেন অনেক কর্মী। তবুও যেন সংশ্লিষ্টদের বোধোদয় হয়নি। বাড়িওয়ালা ও কারখানা মালিকরা অপেক্ষায় থাকেন মাস শেষে মোটা অঙ্কের টাকা গোনার জন্য। যে বাড়িকে পুঁজি করে বিলাসী জীবনধারা তাদের, সেই বাড়িকেই রাখা হয় অযত্নে অবহেলায়। পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ নেই; নেই দুর্ঘটনা থেকে পরিত্রাণ পেতে সহজ নির্গমনের পথও। বিল্ডিং কোড মেনে কয়টা বাড়ি বানানো হয়েছে! রাজউক তবে কী নিয়ন্ত্রণ করে— এমন প্রশ্ন না তোলাই ভালো। নিচ থেকে উপর পর্যন্ত সবখানেই যখন পচন ধরেছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে সেখানে বাদ রাখা যাবে এমন প্রতিষ্ঠান কয়টা মিলবে! যে দেশের মানুষের নিত্যসঙ্গী ক্ষুধা, দারিদ্র্য, অপমান সেখানে ঘনঘন আগুন লাগবে, বেতনের দাবিতে রাজপথে আন্দোলন করতে হবে, বেকাররা হতাশায় মুষড়ে পড়ে বিপথে হাঁটবে, একটু বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ রাস্তায় শরীর ভাসিয়ে পৌঁছাতে হবে আবাসস্থলে— এটাই তো স্বাভাবিক!

প্রবাদে আছে, সর্ব অঙ্গে ব্যথা মলম দেব কোথা। রাজধানীর শরীরে খোসপাঁচড়া, দগদগে ঘা, চুলকানির মধ্যেই আবার দেখা যায় কিঞ্চিত রাজকীয় পরিবেশ; মেলে উন্নত জীবনের হদিস! উন্নয়নের ঢেঁকুর তোলা যায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে। দেশ সিঙ্গাপুর হয়ে গেছে, যুক্তরাষ্ট্র হওয়ার পথে ধরনের বাণীও দিতে পারেন অকাতরে। কিন্তু রাস্তায় নামলে ভিক্ষুকের ছড়াছড়ি, মানুষের অসহায়ত্ব ও দুর্ভোগ ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে— সেটা বোধহয় নীতিনির্ধারকদের চোখে পড়ে না। ভিক্ষুকমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা এক জিনিস, ভিক্ষুকমুক্ত দেশ গড়া আরেক জিনিস; দুয়ের পার্থক্য অনুধাবন করতে না পারলে উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তুলনা করে বক্তৃতাবাজিই সার হবে। অন্যদিকে সমস্যা বাড়তেই থাকবে।

করোনাভাইরাস অভিশাপ হয়ে এলেও পরিস্ফুটিত করেছে ইতিবাচক কিছু দিক। নগর ঢাকার জঞ্জাল অনেক; ধুলোবালিতে ফ্যাকাসে হয়ে থাকে গাছের সবুজ গাছের পাতা। গাছের মোলায়েম সবুজাভ পাতার প্রকৃত চেহারা চোখে পড়ে না তাই। লকডাউনের সময় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে লাগানো গাছে দেখা গেছে ফুল ফোটার চিত্র। ঢাকা যেন হেসে উঠেছিল ‘বন্দি’ অবস্থা থেকে থেকে মুক্তি পেয়ে। নিউ নরমালে সেই ‘পরিশীলিত ঢাকা’ ফের ঢাকা পড়তে শুরু করেছে। ফিরেছে তাবত সমস্যা ও গঞ্জনারাশি।

প্রতি বছর নিয়ম করে দুটো ঈদ আসে। আর দুটো ঈদেই ঢাকার চিত্র থাকে প্রায় অভিন্ন। সংবাদপত্রগুলো কাব্যিক শিরোনাম করে— ঢাকা এখন ফাঁকা! কিন্তু ‘ফাঁকা’ চিত্রটি বড়জোর এক সপ্তাহের। তারপর আবার সব আগের মতোই। সেই দুঃসহ যানজট, হরেক রকম বিশৃঙ্খলা, আইনশৃঙ্খলা অবনতি, নাগরিক জীবনের যন্ত্রণা। এ চালচিত্র সয়েও গেছে অনেকের। কিন্তু এটা কি জীবন, মানবজীবন; এটাই হবে শহুরে বাসিন্দাদের ললাটলিপি!

ঢাকার রাস্তাঘাট ফাঁকা, নির্বিঘ্নে যান চলাচল দেখাটা স্বপ্নের মতো। এ স্বপ্নই ঈদের দুই-তিন আগে এবং দুই-তিন পরে বাস্তবে রূপ নেয়। চলতি বছরের ঈদুর ফিতর ও ঈদুল আজহায় দেখা গেছে এমন ‘মোহন’ দৃশ্য। ফাঁকা ঢাকার সৌন্দর্য অতুলনীয়ভাবে ধরা পড়েছে। ঢাকা যেন সেজেছে নতুন রূপে, নব রঙে। গিজগিজ করা মানুষ আর যানবাহনের আলামতহীন ঢাকা মনে এনেছে স্বপ্নীল আবেশ। সীমিত পরিসরে যানবাহন চালুর শুরুর দিকটাতে শাহবাগ থেকে পল্টন যে কোনো বাস চলে যেতে পেরেছে তিন থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে। অন্য সময়ে যা মোটামুটির এক ঘণ্টার ধাক্কা। পৃথিবী যখন তুমুল গতিতে এগুচ্ছে বাংলাদেশিরা তখন অনূর্ধ্ব দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে এক ঘণ্টা বসে থাকছে গাড়িতে। যন্ত্রণায় পিষ্ট হতে হতে সরকার, প্রশাসনকে গালি দিচ্ছে। অথচ সামান্য পথটুকু ইচ্ছা করলে হেঁটেও যাওয়া যায়। হেঁটে গেলে সময় লাগবে বড়জোর পনের মিনিট। কিন্তু নাগরিক শরীর হাঁটতে জানে না, নাগরিক মন গতিবদ্ধ সীমানা ছেড়ে সরতে পারে না।

যানজটের বড় একটি কারণ, প্রাইভেট কারের আধিক্য। বাংলাদেশে কোটিপতি তৈরি হচ্ছে রাতারাতি। আর নব্য কোটিপতিরা ঠাঁটবাট দেখাতে গাড়ি কিনছে। সরকারি কোনো বাধা-নিষেধ বা আইন না থাকায় যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে গাড়ি কিনে ফেলতে পারে। গাড়ি বাড়ছে কিন্তু রাস্তা তো সেই আগেরটাই। বরং মেট্রোরেল নির্মাণ প্রকল্পের কারণে পরিসর কমেছে রাস্তার। গাড়ির সঙ্গে রাস্তা বাড়ছে না বলেই সমস্যা প্রকট হচ্ছে। খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, মহাখালী, বিমানবন্দর রোডসহ আরও ফ্লাইওভার নির্মিত হয়েছে। এতে কিছুটা হলেও ফিরেছে স্বস্তি। আবার অনেক সময় ফ্লাইওভারের উপরেই যখন যানজট সৃষ্টি হয়, স্থির সারি সারি গাড়ি দেখা যায়— সে দৃশ্যও একধরনের বেদনা বয়ে আনে! যানজট কমানোর জন্য যে ফ্লাইওভার সেখানে যদি একই সমস্যা দেখা দেয় তাহলে কাকে কী বলার থাকে। এ পন্থায় সামষ্টিক যানজটের কোনো সুরাহা হবে কিনা সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। ফলে সব ভাবনা-দুর্ভাবনার পরও দিন-দিন বেড়েই চলে সমস্যা। নাগরিক জীবন বিপর্যস্ত, বেহাল হচ্ছে দৈনন্দিন কর্মতৎপরতা। এরকম আরও হবে, ভবিষ্যতে আরও তীব্র আকার ধারণ করবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। যদি না এখনই কার্যকর কোনো বিকল্প ব্যবস্থার কথা ভাবা না হয়। কালো টাকা ও সাদা টাকার মালিক, নব্য কোটিপতিদেরও সহজ আইনের আওতায় এনে গাড়ি কেনা থেকে নিরস্ত রাখা যায়। গণপরিবহনগুলো চলাচলে গতি ও স্বচ্ছতা আনলে অনেকেই যাতায়াতের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। চাপ কমানো যাবে ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর।

ঢাকা শহরে এমন পরিবারও খুঁজে পাওয়া যাবে, যে পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আলাদা করে এক বা একাধিক গাড়ি রয়েছে। এধরনের অবিবেচক মানুষের জন্যই সাধারণ নাগরিকরা দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছে। স্থবির যানবাহন আর স্থবির জনজীবন দেখে অনেকের মনে আশঙ্কা, ঢাকা কি অথর্ব নগরী হয়ে যাবে? স্থবির, বাতিল হয়ে পড়বে? প্রশ্নটা গুঞ্জরিত হয় বটে কিন্তু সমাধান ধরা-ছোঁয়ার বাইরে! একটি দেশের রাজধানী এভাবে তিলে তিলে ‘মৃত্যু’র দিকে এগিয়ে যাবে— নিশ্চয়ই কারও জন্যই সুখকর বিষয় নয়। ঢাকার এ মৃত্যুঘণ্টা বাজানোর পেছনে রয়েছে যথার্থ পরিকল্পনার অভাব, ক্ষমতাসীনদের অমনোযোগিতা। সাধারণের লোভ ও ভোগের ফল। প্রান্তিক মানুষের দরিদ্রতাও বড় একটা কারণ। কাজের খোঁজে মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে। চলমান জনস্রোতের পেছনে প্রভাবক হিসেবে বাংলা সিনেমার ভূমিকাও কম নয়! এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ভালোমন্দ যাই হোক বাংলা সিনেমার মাধ্যমে দর্শকরা প্রভাবিত হয়। স্বাধীনতার আগ থেকেই বাংলা সিনেমা ব্যাপক জনপ্রিয়। দরিদ্র জনগোষ্ঠীর বিনোদনের প্রধান মাধ্যমও বাংলা সিনেমা। সিনেমার গল্পে প্রায়ই দেখা যায়, নায়ক দরিদ্র অবস্থায় গ্রাম থেকে ঢাকা শহরে আসে। এসেই সে রাতারাতি অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যায়। এটা যতটা না বাস্তব, তারচেয়ে অনেকগুণ ফ্যান্টাসি। ঢাকায় কী এমন সোনার হরিণ আছে, গ্রামের অশিক্ষিত বা অর্ধশিক্ষিত কেউ এসেই বিত্তবৈভবের মালিক হয়ে যাবে? যেহেতু সিনেমার পরিচালকরা স্বপ্নে ভাসেন, বাতাসের ওপর ভর করে হাঁটেন; এমন ভাসা ও হাঁটা থেকেই তারা দর্শকদের বিনোদন-সুখটুকু উপহার দেওয়ার আনন্দ থেকে বঞ্চিত করেন না! বাংলা সিনেমার এ অবাস্তব প্রবণতা, অন্ধ ব্যাধিটিও সমস্যার জন্য কিছুটা হলেও দায়ী। স্বপ্ন-কল্পনার ঢাকা যেন আক্ষরিক অর্থেই ঢাকা পড়ে যাচ্ছে সমস্যা-চাপে, জনভারে— এমন দৃশ্যও সিনেমায় উঠে আসা জরুরি।

কিছু কিছু অনিবার্য প্রয়োজনে মফস্বলের মানুষকে ঢাকায় আসতেই হয়। গুরুত্বপূর্ণ সব অফিস-আদালতের অবস্থান এদিকে। অতীতে অনেকবার আলোচনা হয়েছে, ঢাকার অফিস-আদালত, কারখানা, গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলো বাইরের জেলাগুলোতে স্থানান্তরের জন্য। যদি তা করা যায়, ঢাকামুখী মানুষের স্রোত কমবে। যার যার এলাকায় বা এলাকার কাছেই যদি প্রয়োজনীয় কাজ সারা যায়, তাহলে কষ্ট করে মানুষ ঢাকায় আসবে কেন! এধরনের পরিকল্পনার কথা শোনাই যায়, দেখা যায় না। ঢাকার অফিস স্থানান্তর দূরে থাকুক, ঢাকায় আরও নিত্যনতুন অফিস বেড়েই চলেছে। এতে করে যে অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া সে খেয়াল কে করে! হাজারো নাগরিক সমস্যার ভিড়ে রাজনৈতিক ক্যাঁচালে আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে ঢাকা। রাজনৈতিক যেকোনো আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার এখনো ঢাকা-ই। সব মিলিয়ে, এসবের ফলে নাগরিক জীবন দিনকে দিন কোণঠাসা হয়ে পড়ছে। প্রায় দুই কোটি জনসংখ্যার ঢাকা কবে নাগাদ ‘ঢাকা’ অবস্থা থেকে মুক্ত হবে, আদৌ এ নগরীর ললাটে মুক্তি আছে কিনা— সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে সময় থাকতেই আমরা সতর্ক হতে পারি। বেশি কিছু নয়, অল্প কয়েকটি সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই ঢাকা পেতে পারে ‘বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর একটি’ অপবাদ থেকে মুক্তির সিঁড়িপথ। রাজধানী দেশেরই প্রতিনিধিত্ব করে। সেই রাজধানীকে কোনো অবস্থাতেই জঞ্জালে পরিণত করা কাম্য নয়। ইট-পাথর কিংবা ভোগ-বিলাসের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সাধারণ মানুষের গ্রামমুখী হওয়া জরুরি। অন্তত গ্রামে থেকে যারা স্বচ্ছন্দে চলতে পারেন তাদের ঢাকায় অবস্থার নিজেদের জন্যও লোকসান!

করোনাভাইরাসের তাণ্ডবে অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেকেই ঢাকায় টিকতে না পেরে ফিরে গেছেন গ্রামে। গ্রামে থেকেই তারা যেন জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়ার সর্বোৎকৃষ্ট সময় এখন। এ যুগ-সন্ধিক্ষণকে কাজে লাগাতে হবে। বিদেশ থেকেও ফিরেছেন অনেক শ্রমিক। তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ ও বিনিয়োগের সুযোগ দিলে এলাকাতেই মিলতে পারে কর্মসংস্থানের সুযোগ। প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনার। গ্রামে থাকার সুবিধা অনেক। একদিকে যেমন পরিবার-পরিজনের সঙ্গে থেকে বিশুদ্ধ বাতাস উপভোগ করা যাবে, অন্যদিকে বাসা ভাড়াও গুনতে হবে না। নগর ঢাকায় মানুষ ভাতে মরছে আবার পানিতেও মরছে! জলাবদ্ধতা ও নালা-নর্দমার উপচেপড়া পানির ছোঁয়া লাগে গায়ে; আবার বাসা-বাড়িতে ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে তাও বিশুদ্ধ নয়। ওয়াসার পানি ও সেবা নিয়ে বরাবরই অভিযোগ ছিল গ্রাহকদের। বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলও অনেক সময় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। গ্যাসের দামও বাড়ে কারণে-অকারণে। সিস্টেম লসের ফাঁকতালে নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনটাই লস হয়ে যাচ্ছে দিনে দিনে।

সব মিলিয়ে ঢাকা ক্রমশ দীর্ঘশ্বাসের শহরে পরিণত হচ্ছে। উন্নত জীবনের মোহে অনেকেই আসেন; উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে পারেন কজন! অধিকাংশকেই খাবি খেতে হয় ইট-পাথরের খাঁচায়। আলোর রোশনাই যেন বিজ্ঞাপন তরঙ্গ, বাস্তবতা হচ্ছে পলেস্তরাখসা ইটের ভেঙচানি সহ্য করা। তবুও থামে না স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গের শহরে আনাগোনা। যথার্থ পরিকল্পনায় তিলোত্তমা না হোক, বাসযোগ্য শহরে পরিণত করা যাবে। স্বস্তি দেওয়া যাবে সাধারণ মানুষকে। মোটা ভাত, মোটা কাপড়ের বাইরে যাদের বড় কোনো স্বপ্ন নেই; আকাশ ছোঁয়ার সাধ নেই। মৌলিক চাহিদা মিটলেই মানুষ রঙিন ও সুখস্বপ্ন দেখার অবকাশ পায়। কিন্তু জীবনই যেখানে দৌড়ের ওপরে স্বপ্নের স্থান সেখানে কোথায়! স্বপ্নহীন মানুষ আর যাই হোক, রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে গণ্য হয় না।

শফিক হাসান : সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক
shafique_hasan79@yahoo.com