প্রতিবেশীর কাছে আপনি কেমন?

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২০ | ১৪ কার্তিক ১৪২৭

প্রতিবেশীর কাছে আপনি কেমন?

আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ ১০:০১ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২০

print
প্রতিবেশীর কাছে আপনি কেমন?

আমাদের মাঝে অনেকেই আছেন আলহামদুলিল্লাহ ধর্মকর্ম অনেক করেন, নামাজ কালাম ছাড়েন না, অথচ রূঢ় আচরণের কারণে প্রতিবেশীরা তার সঙ্গে কথা বলতেও ভয় পায়। তার থেকে নিজেদের বাঁচিয়ে চলে! যারা এমন ধার্মিক আর ইবাদতকারী রাসুল (সা.) তাদের ব্যাপারে জাহান্নামের সংবাদ দিয়েছেন! এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এক মহিলা তার নামাজ, রোজা আর দানশীলতার জন্য পরিচিত। কিন্তু সে তার প্রতিবেশীদের কথা দিয়ে কষ্ট দেয়।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে জাহান্নামে রয়েছে।’ লোকটি আবার বলল, ‘একজন মহিলা ন্যূনতম নামাজ পড়ে, রোজা পালন করে, সামান্য কিছু শুষ্ক দুধ সদকা করে, কিন্তু সে তার কথা দিয়ে প্রতিবেশীদের কষ্ট দেয় না।’ রাসুল (সা.) বললেন, ‘সে জান্নাতে রয়েছে।’

প্রতিবেশী হতে হলে যে তাকে কেবল মুসলিমই হতে হবে এমন কথা নেই। ইবনে হাজার আসকালানী (রহ.) বলেন, ‘প্রতিবেশী শব্দটি দ্বারা মুসলিম এবং অমুসলিম, পুণ্যবান এবং পাপী, বন্ধু কিংবা শত্রু, উপকারি কিংবা অপকারি, আত্মীয় অথবা অনাত্মীয়, কাছের কিংবা দূরের সবাইকেই বোঝানো হয়।’ এ কারণেই সাহাবি আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) যখন নিজ বাড়িতে এসে ভেড়া জবাই করতে দেখেছিলেন, তিনি তার ইহুদি প্রতিবেশীদের কিছু ভেড়ার গোশত দেওয়া হয়েছে কিনা তা জিজ্ঞেস করেছিলেন।

রাসুল (সা.) প্রতিবেশীদের উপহার দিতে বলতেন। তিনি নিজেও প্রতিবেশীদের উপহার দিতেন। তাদের উপহার গ্রহণ করতেন। রাসুল (সা.) বলতেন, ‘হে মুসলিম নারীরা! প্রতিবেশীদের (উপহার দেওয়াকে) অবজ্ঞা করো না এমনকি যদি তা ভেড়ার খুরও হয়।’ কেউ গোশতের ঝোল রান্না করলে তিনি তাতে পানি বাড়িয়ে দিয়ে প্রতিবেশীদের দিতে বলতেন। আমরা অনেকেই প্রতিবেশীদের খোঁজখবর একেবারেই নিই না। সে সুস্থ আছে নাকি অসুস্থ আছে, খেয়েছে কি খায়নি তা নিয়ে মাথাব্যথা থাকে না।

এদের সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেন, ‘প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত জেনেও যে পেটভরে খেয়ে ঘুমোতে যায়, সে আমার উম্মত নয়।’ আমাদের শহরে এখন আমরা পাশাপাশি দুই ফ্ল্যাটে বছরের পর বছর থাকি অথচ আপন হতে পারি না। সবাই কমার্শিয়াল আর আপন স্বার্থ নিয়ে আজ মানুষ নামের কলঙ্ক হতে চলেছি। সমাজ যদি সুন্দর করতে হয়, সামাজিক অপরাধ দূর করতে হয়, তাহলে প্রতিবেশীর সঙ্গে ভালোবাসাভরা সম্পর্ক সৃষ্টি করতে হবে।

প্রতিবেশীপূর্ণ সমাজ উন্নয়নের বিকল্প নেই। ইসলাম আমাদের এ বিষয়ে জোরাল তাগিদ দেয়। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম এক হাদিসে বলেছেন, জিবরাইল আ. আমাকে প্রতিবেশীর হকের ব্যাপারে এত এত জোর দিতে লাগলেন, মনে হচ্ছিল প্রতিবেশীকে উত্তরাধিকার বানিয়ে দেওয়া হবে! আমরা ভালো কাজ করছি না খারাপ কাজ করছি সেটা জানার মাপকাঠি রাসুল (সা.) আমাদের দিয়ে গেছেন।

এক ব্যক্তি রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞেস করল, ‘কীভাবে বুঝব যে আমি ভালো কাজ করছি না খারাপ কাজ করছি?’ রাসুল (সা.) তাকে বললেন, ‘যদি তুমি তোমার প্রতিবেশীদের বলতে শোনো যে ভালো কাজ করেছ, তাহলে তুমি ভালো কাজ করেছ। আর যদি তাদের বলতে শোনো যে খারাপ কাজ করেছ, তাহলে তুমি খারাপ কাজ করেছ।’ তবে কেউ একজন খারাপ প্রতিবেশী কাউকে অপবাদ বা তার মনের মতো না হওয়াতে কাউকে খারাপ বলা এই হাদিসের আওতায় আসবে না। আসুন, প্রতিবেশীদের প্রতি দায়িত্বশীল হই। আল্লাহ আমাদের তওফিক দান করুন।

আব্দুল হাই মুহাম্মাদ সাইফুল্লাহ : খতিব, মাসজিদুল জুমা কমপ্লেক্স, পল্লবী, মিরপুর, ঢাকা