হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি প্রসঙ্গ

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৭ আশ্বিন ১৪২৭

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি প্রসঙ্গ

কামাল আহমেদ ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১৩, ২০২০

print
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি প্রসঙ্গ

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমান, সংগ্রামমুখর এক মহাপ্রাণ জীবনের গল্পের রূপকার। বাঙালির হাজার বছরের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ইতিহাস ঘাটাঘাটি, যৌক্তিক পর্যালোচনা এবং অপরাপর শ্রেষ্ঠজনের সঙ্গে তুলনামূলক আলোচনায় নিশ্চিতভাবে আলোচ্য সত্যটিই প্রতিষ্ঠিত হবে।

ইতিহাসে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব পাওয়া যায় হাজার বছরেরও অধিক কালের। এই জাতি দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করলেও আগে কখনোই শাসন ক্ষমতায় ছিল না। আগে থেকেই সহজ-সরল বাঙালি আটপৌরে জীবনবোধে অভ্যস্ত ছিল। এ অঞ্চলে ধন-সম্পদের অভাব ছিল না। তাই যুগে যুগে ভিনদেশি লোভী বণিকরা এখানে ছুটে আসে। বাঙালির সরলতার সুযোগে কৌশলে দখল করে নেয় শাসনক্ষমতা।

যুগে যুগে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেন, তুর্কি, আফগান, পাঠান, মোঘল, ইংরেজ, পাকিস্তানি প্রভৃতি জাতি শাসন করে এ জাতিকে। ইংরেজ ও পাকিস্তানিরা অত্যাচার নিপীড়ন চালিয়ে সম্পদ লুট করেছে। অন্যরা এদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করে এদেশের মাটিতেই শেষ নিঃশ্বাস নিয়েছে। এদেশীয় রক্তে তাদের রক্ত আজও মিশে আছে। ওই সব জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গেও আমাদের বারবার সংঘাত হয়েছে, বাঙালি হেরেছে। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি কখনো শাসক হয়নি; শাসিত হয়েছে। তখনও নেতা ছিলেন; তবে মোক্ষম নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি।

তাই বরাবরই বাঙালি পরাধীন ছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো জাদুকরী সুরে বাঙালি জাতিকে মন্ত্রমুগ্ধ করে এক করতে, উজ্জীবিত করতে, সংগ্রামে সাহস জোগাতে, এমনকি নিজের রক্ত দিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছিলেন। শেষপর্যন্ত বাঙালির জন্য পৃথক জাতিসত্তার জন্ম দিয়ে স্বাধীনতার স্বাদ ভোগ করিয়েছেন; যদিও তা ঘটনাক্রমে খ-িত বাঙালির জন্য।

বিবিসির জরিপে প্রথম জনমত গ্রহণের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে শ্রেষ্ঠ বাঙালি ও পরে আবারও হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি অভিধায় ভূষিত করা হয়। এ জনমত জরিপে বিশজন শ্রেষ্ঠ বাঙালির মধ্যে বঙ্গবন্ধুকে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়। দ্বিতীয় অবস্থানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে প্রভাবশালী লেখক। এশিয়ার প্রথম নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। ভারত ও বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের রচয়িতা। তৃতীয়, কাজী নজরুল ইসলাম বিদ্রোহী কবি, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জীবনভর সংগ্রামী লেখার জন্য বিখ্যাত।

চতুর্থ, শের-ই-বাংলা এ কে ফজলুল হক ব্রিটিশ শাসনামলে অবিভক্ত বাংলার প্রথম প্রধানমন্ত্রী, বাঙালি জাতির নির্বাচিত প্রথম নেতা। পঞ্চম, সুভাষচন্দ্র বসু নেতাজি, রাজনীতিবিদ, জীবনব্যাপী আদর্শবান সংগ্রামী পুরুষ। তালিকায় ষষ্ঠ অবস্থানে থাকা বেগম রোকেয়া (তালিকার একমাত্র নারী), সমাজ সংস্কারক, বাঙালি নারী জাগরণের অগ্রদূত।

ভারতীয় উপমহাদেশে পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু আচার্য; ব্রিটিশ ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত, নিপীড়িত মানুষের জন্য জীবনভর সংহতি প্রকাশক, মজলুম জননেতা আবদুল হামিদ খান ভাসানী; বাংলা বর্ণমালা ও মুদ্রণব্যবস্থা সংশোধনকারী, বাংলায় হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ সহ বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারের প্রবর্তক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর; সমাজ সংস্কারক, সতীদাহ প্রথা বিলোপকারী ও সম্পত্তিতে নারীদের উত্তরাধিকার প্রতিষ্ঠার পক্ষাবলম্বনকারী রাজা রামমোহন রায়ের মানুষও তালিকায় অনেক পেছনে। তাদের কর্মপরিধি সীমাবদ্ধ, অন্যদিকে বঙ্গবন্ধুর অবদানের ক্ষেত্র ব্যাপক বিস্তৃত।

কামাল আহমেদ : শিক্ষক ও প্রাবন্ধিক
kamal100.ka@gmail.com