রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের স্মৃতি

ঢাকা, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ১০ আশ্বিন ১৪২৭

রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের স্মৃতি

মহিউদ্দিন আল আমান শাহেদ ৮:৪৪ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ১২, ২০২০

print
রক্তাক্ত ১৫ আগস্টের স্মৃতি

১৫ আগস্ট বাংলার ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও বর্বরোচিত অধ্যায়। বাঙালি জাতির জন্য বেদনাবিধুর দিন। স্বাধীনতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্য বিপথগামী কিছু সেনা সদস্যের হাতে ভোরের আলো ফোটার আগেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবনে নৃশংসভাবে নিহত হন। সাজানো গোছানো সুখী পরিবারের প্রাণবন্ত মানুষগুলো নিমিষের মধ্যেই ঘাতকের নির্মম ব্রাশফায়ারে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। যে বাড়িটি সারাক্ষণ কোলাহল আর হৈ-হুল্লোড়ে মুখরিত থাকত সে বাড়ির সবই যেন হঠাৎ করে স্তব্ধ হয়ে গেল। ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বাড়িটিতে। শুধু হত্যাকা- চালিয়েই ক্ষান্ত হয়নি নরপিশাচের দল, বাসার প্রতিটা কক্ষে তারা ভাঙচুর, তছনছ ও লুটতরাজ চালায়। অসহায় বাড়িটিও সেদিন সব হারিয়ে কান্নার বোঝা বুকে চেপে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল চিরচেনা ৩২ নম্বর সড়কের দিকে।

আমরা তখন থাকি পুরনো ঢাকার ১৫০ নম্বর চক মোগলটুলীতে (এ বাড়িতেই পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের গোড়াপত্তন হয়)। তিনতলা বাড়ির তৃতীয় তলায় আমরা বাস করতাম, দ্বিতীয় তলায় ছিল আব্বার রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক কার্যালয় এবং নিচতলাটা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা। ১৫ আগস্ট ১৯৭৫, প্রতিদিনের মতো খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছিলাম। প্রাইমারি ক্লাসের ছাত্র ছিলাম। আম্মা এসে বললেন, আজ স্কুলে যেতে হবে না। দেশের অবস্থা ভালো না, বাইরে গণ্ডগোল হচ্ছে। আব্বাকে দেখলাম একটার পর একটা সিগারেট টেনে যাচ্ছেন আর টেলিফোনে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলার চেষ্টা করছিলেন।

গণভবন, বঙ্গবন্ধুর বাসা, তাজউদ্দীন চাচার বাসাসহ পরিচিত কয়েকজনের বাসায় ফোন করেছেন। কিন্তু কারও কারও বাসার লাইন পাওয়া যাচ্ছিল না আবার কারো বাসায় কেউ টেলিফোন রিসিভ করছিলেন না। আব্বার টেনশন বেড়ে গেল। কোথায় ফোন করলে সঠিক খবরটা পাওয়া যাবে এই ভেবে চিন্তিত। শেষে আমাদের এক খালার বাসায় ফোন করলেন। শোভা খালা থাকেন ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে। বঙ্গবন্ধুর পাশের বাসায়। খালার বাসার দোতলায় সেই সময় বঙ্গবন্ধুকন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়া বসবাস করতেন। তারা সম্ভবত আগস্ট মাসের প্রথম দিকে পশ্চিম জার্মানি চলে যান, শেখ রেহানাসহ। খালাকে ফোনে পাওয়া গেল। খালা বললেন- শওকত ভাই, আমরা খুব বিপদে আছি। ভোর থেকে বঙ্গবন্ধুর বাসা এবং আমাদের বাসা লক্ষ্য করে প্রচুর গুলি বর্ষণ এবং শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। বুঝতে পারছি না কী হচ্ছে। আব্বা বললেন, আপনারা সবাই আমার বাসায় চলে আসেন। না হয় আমি এসে আপনাদের নিয়ে আসি।

খালা বললেন, এখন বাসা থেকে মুভ করার কোনো উপায় নেই। কালো পোশাক পরা সেনাবাহিনীর লোকজন চতুর্দিক ঘেরাও করে রেখেছে।

আব্বা খালাকে জিজ্ঞেস করলেন, মুজিবের বাসার কী অবস্থা? উনি বললেন, আমরা এখন পর্যন্ত কিছুই জানি না। একসময় টেলিফোন লাইনটা ডিসকানেক্ট হয়ে যায়।

তারপরের ঘটনা খুবই হৃদয়বিদারক। আব্বা একসময় জানতে পারলেন তার দীর্ঘদিনের বন্ধু, সুুখ-দুঃখের সঙ্গী, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পরিবারের সকল সদস্যসহ নিহত হয়েছেন। এই দুঃসংবাদ শোনার মতো মানসিক শক্তি তার ছিল না। ঘটনার আকস্মিকতায় তিনি হতবিহ্বল হয়ে যান। একবার শুধু বললেন, মুজিবরে মাইরা ফেলছে, মুজিব নাই! তারপর থেকে আস্তে আস্তে আব্বার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। আম্মা বারবার চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন পরিচিত ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগের। শহরে সান্ধ্য আইন বলবৎ থাকায় কেউ বাসা থেকে বের হতে সাহস পাচ্ছিলেন না। বিকেলের দিকে একজন ডাক্তার বাসায় এসে আব্বাকে ভালোভাবে চেকআপ করে জানালেন উনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছেন।

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব হসপিটালে ট্রান্সফার করতে হবে। ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস। শত চেষ্টা করেও সেদিন একটা অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া যায়নি। উপায়ান্তর না দেখে ডাক্তার একটা ইনজেকশন দিলেন আব্বাকে। কয়েকটা ওষুধ দিয়ে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে চলে গেলেন। পরিবারের সবাই সেদিন নির্ঘুম রাত পার করলাম। পরের দিন আব্বাকে হসপিটালে ভর্তি করানো হল। আব্বার সুস্থতার জন্য চিকিৎসকরা সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকলেন। দীর্ঘসময় অচেতন থাকার পর চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে আমাদের পরিবারকে শোকের সাগরে ভাসিয়ে ১৮ আগস্ট ১৯৭৫-এ আব্বা ইন্তেকাল করেন। স্বামীকে হারিয়ে এবং ছোট ছোট সন্তানদের ভবিষ্যৎ চিন্তায় আম্মাও সেদিন শোকে দিশেহারা হয়ে পড়লেন, আমাদের দিকে তাকিয়ে শুধু চোখের পানি ফেলছিলেন।

সেদিনকার একটি স্মৃতি আজও আমাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। হসপিটাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ডেড বডি নিয়ে সবাই যখন বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হলেন রাত তখন প্রায় ১১/১২টা হবে। রাস্তায় সুনসান নীরবতা। তৎকালীন পিজি হসপিটালের সামনে যখন অ্যাম্বুলেন্স পৌঁছাল, হঠাৎ করে কয়েকজন কালো পোশাকধারী সেনাবাহিনীর লোক হল্ট বলে অ্যাম্বুলেন্সটি থামাল। কী রুক্ষ মেজাজ তাদের। পাশেই দেখলাম বিশাল আকৃতির ট্যাঙ্ক রাখা। মেজাজ চড়া করে ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করল, ভেতরে কী? ডেড বডি আছে শুনে সবাইকে গাড়ি থেকে নামতে বলল। জানতে চাইল নরমাল ডেথ নাকি ১৫ তারিখে আহত হয়ে মারা গেছে। একসময় তারা বন্দুকের নল দিয়ে ডেড বডির গায়ের সাদা চাদর সরিয়ে টর্চলাইটের আলো দিয়ে কী যেন দেখার চেষ্টা করল।

কী হৃদয়বিদারক দৃশ্য! শুধু অসহায়ের মতো তাকিয়ে থাকলাম। তাদের সেই রুঢ় আচরণ আজও আমাকে কষ্ট দেয়। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধুর বাড়ি এবং ১৫০ নম্বর মোগলটুলীর শওকত আলী সাহেবের বাড়ি ছিল ভালোবাসার সেতুবন্ধন। পঁচাত্তরের পট পরিবর্তনের কুটিল স্রোতধারা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে সব কিছু। দুই পরিবারের মধ্যে সুদীর্ঘ যোগাযোগের কারণে গড়ে ওঠা নিবিড় সম্পর্ক মুহূর্তের বিয়োগান্তক ঘটনায় ছিন্নলতার মতো ভূলুণ্ঠিত হয়ে যায়। বাঙালি জাতির আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তে অর্জিত সহস্রাব্দের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জনকে বিস্মৃতির অনন্ত তমিস্রায় নিমজ্জিত করতে তৎপর হয়ে উঠে ৭৫-পরবর্তী প্রশাসন। তাদের সে বৈরী আচরণ থেকে রেহাই পায়নি বঙ্গবন্ধুর মহাপ্রয়াণের সহযাত্রী, তার সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সুহৃদ শওকত আলীর অসহায় পরিবারও।

মুজিব চাচার বাসার কিছু স্মৃতি এখনও আমার মনে গেঁথে আছে। আব্বার সঙ্গে মাঝে মধ্যেই আমরা মুজিব চাচার বাসায় যেতাম। আব্বা বসার ঘরে চাচার সঙ্গে গল্প করতেন আর আমরা খেলায় মেতে থাকতাম। আমি আর রাসেল প্রায় একই বয়সের ছিলাম। একে অপরের খেলার সঙ্গী, বন্ধু ছিলাম। একসঙ্গে সাইকেল চালাতাম, দোলনায় দোল খেতাম, কখনও সারা বাড়ি ঘুরে বেড়াতাম। একদিন চাচি আমাদের ডেকে দুজনকে দুটি মুড়ির মোয়া খেতে দিলেন। আরেকদিন দুপুরে আমি আর রাসেল একসঙ্গে ডিম পোচ দিয়ে ভাত খেয়েছিলাম, এটা খুব মনে পড়ে। চাচি খুব সুন্দর মনের একজন সাদামাটা মানুষ ছিলেন।

অন্য একদিনের কথা। আব্বার সঙ্গে চাচার বাসায় গেলাম। আমার হাতে একটি বাংলাদেশের ছোট্ট পতাকা বাঁশের কঞ্চিতে লাগানো। বঙ্গবন্ধুর বাড়ির সামনে শত শত মানুষের ভিড়। বঙ্গবন্ধু দোতলার বারান্দায় দাঁড়িয়ে হাত নাড়ছিলেন। আব্বাকে দেখে চাচা বললেনÑ শওকত ভাই, উপরে আসেন। গার্ডকে ইশারা করলেন গেট খুলে দিতে। বাসার সবাই ছিলেন খুব আন্তরিক। খুব সাধারণ পরিবার এবং কারও মধ্যে বিন্দুমাত্র অহংকার ছিল না। অনেক সময় চাচার বাসায় গিয়ে আব্বা কলিং বেল বাজালে দেখতাম কামাল ভাই বা হাসু আপা এসে গেইট খুলে দিতেন এবং বসার ঘরে নিয়ে বসাতেন। আরেকদিনের ঘটনা। মুজিব চাচার বাসার নিচে কামাল ভাইয়ের সঙ্গে দেখা। আব্বাকে কামাল ভাই সালাম দিয়ে বললেন- চাচা, আজকে ওকে আমাদের বাসায় রেখে যান। ও আমার সঙ্গে থাকবে। আব্বাকে কাঁদো কাঁদো গলায় বললাম, আমি থাকব না। আব্বা বললেন, ভাইয়া তোমার সঙ্গে দুষ্টুমি করেছে। কামাল ভাই সত্যিই প্রাণবন্ত মানুষ ছিলেন।

একদিন আমাকে আর রাসেলকে দুটি বেবি আইসক্রিম কিনে দিয়েছিলেন। আমরা তো খুশিতে আত্মহারা। তারপর কামাল ভাই আমাদের ছাদে নিয়ে গেলেন। এসব স্মৃতি ভোলার না। হাসু আপা, কামাল ভাই আমাকে অনেক আদর করতেন। জামাল ভাইকে খুব একটা মনে নেই। রেহানা আপাকে মনে আছে। তাকে আমি খুব ভয় পেতাম। একটু গম্ভীর প্রকৃতির ছিলেন। আমিও অনেক ছোট ছিলাম। তাই অনেক স্মৃতি আমার মন থেকে হারিয়ে গেছে। মনে না থাকাটাই স্বাভাবিক। হঠাৎ হঠাৎ কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আর কিছু স্মৃতি আমার হৃদয়ে গেঁথে আছে। এখনও ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়ক দিয়ে কোথাও যাওয়ার সময় চাচার বাসার সামনে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে বাড়িটার দিকে তাকিয়ে থাকি। কিছু স্মৃতি মনে পড়ে যায়। আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। মনের অজান্তেই কখন যে চোখের কোণ বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে খেয়ালও থাকে না। বেশি সময় দাঁড়াতেও পারি না গোয়েন্দাদের ভয়ে। মাঝে মাঝে মনে হয় একদিন বাসায় ঢুকে যদি আবার আগের মতো সবার ঘরে ঘুরে বেড়াতে পারতাম। চিৎকার করে ডাকতে পারতামÑ রাসেল, তুমি কই বন্ধু? আমার সেই স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।

বঙ্গবন্ধু ও আমার বাবা ভাষাসৈনিক শওকত আলী ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং রাজনৈতিক সহোদর। বঙ্গবন্ধু তার আত্মজীবনীতে বন্ধু শওকত আলী সম্বন্ধে অনেক জায়গায় স্মৃতিচারণ করেছেন। তারই একটি বর্ণনায় লিখেছেনÑ ‘শওকত আমাকে নিয়ে কি যে করবে ভেবেই পায় না। তার একটা আলাদা রুম ছিল। আমাকে তার রুমেই জায়গা দিল। আমি তাকে শওকত ভাই বলতাম। সে আমাকে মুজিব ভাই বলত’। ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’তে সদ্য কলকাতা থেকে দেশে ফেরা বঙ্গবন্ধু এভাবেই শওকত আলীর ১৫০ নম্বর মোগলটুলীসহ লীগ অফিসের বাসায় তার অবস্থান গ্রহণের প্রাঞ্জল বর্ণনা দিয়েছেন।

১৯৪৭ সালে ভারত ভাগকে কেন্দ্র করে কলকাতায় পুলিশি নজরদারি বেড়ে যাওয়ায় হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর অনুমতি নিয়ে বঙ্গবন্ধু পূর্ববঙ্গে ফিরে এলেন। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় নিজ গ্রামের বাড়িতে পিতা-মাতা ও স্ত্রীর সান্নিধ্যে ক’দিন কাটিয়ে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকায় উপস্থিত হলেন। সে সময় ঢাকা তার কাছে অনেকটাই অচেনা শহর। উঠলেন তার বন্ধু ১৫০ নম্বর মোগলটুলিস্থ লীগ অফিসে শওকত আলীর বাসায়। দুজনেই ২০-এর কোঠা পার না হওয়া প্রতিবাদী রাজনীতির উন্মাতাল কর্মী। ১৯৪৮ সালের দেশব্যাপী রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতার রক্তাক্ত পথ পরিক্রমায় শওকত আলী ছিলেন ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত ও নেতৃত্ব প্রদানকারী। ভাষা আন্দোলন চলাকালীন তিনি সবচেয়ে বেশি পুলিশি নির্যাতনের শিকার হন। বর্তমান সরকারের আমলেই মহান ভাষা আন্দোলনে কৃতিত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অবদানের জন্য শওকত আলীকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়। ঢাকা সিটি করপোরেশন জাতির গর্বিত সন্তান শওকত আলীর নামে ধানমন্ডিস্থ ৪/এ সড়কটির নামকরণ করেন।

বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন শুরু হয়েছে গত ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি বাঙালি এই মাহেন্দ্রক্ষণটির জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতিই নন। তার আমৃত্যু সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অন্যায় আর অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান তাকে তৃতীয় বিশ্বের নিপীড়িত বঞ্চিত জনগণের মুক্তির দিশারি হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত করে।

শেখ হাসিনা শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারগুলোর ত্যাগ-তিতিক্ষার যথার্থ স্বীকৃতি প্রদানে বলিষ্ঠ জননন্দিত ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। ১৯৭১ সালে আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সোপান রচিত হয়েছিল ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন ও বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পাওয়ার মাধ্যমে। আমার আন্তরিক প্রত্যাশা শেখ হাসিনার কাছে, জীবিত ও মৃত প্রকৃত ভাষাসৈনিক ও তাদের এখনও জীবিত প্রত্যক্ষ উত্তরাধিকারদের মুক্তিযোদ্ধাদের মতো সব সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি সদয় বিবেচনায় নেবেন।

মহিউদ্দিন আল আমান শাহেদ : ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শওকত আলীর সন্তান
shaheddada1@gmail.com