শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে সর্বনাশা গেমে

ঢাকা, রবিবার, ১৬ আগস্ট ২০২০ | ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭

শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে সর্বনাশা গেমে

এস আর শানু খান ৯:০৮ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৫, ২০২০

print
শিক্ষার্থীরা ঝুঁকছে সর্বনাশা গেমে

জনপ্রিয় কয়েকটি গেমের মধ্যে ফ্রি-ফায়ার অন্যতম। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকা ও লকডাউন প্রক্রিয়ায় সিজনাল খেলাধুলা করার সুযোগ না থাকায় ছেলেমেয়েরা ঝুঁকেছে গেমে। বিশেষ করে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে পড়ুয়া ছেলেমেয়েদের মধ্যে এর প্রকোপ বেশি। তবে বাদ নেই প্রাইমারি লেভেলের ছেলেমেয়েরাও। দর্শকের ভূমিকায় অবস্থান নিয়েছে তারা। গেমে আসক্ত ছেলেমেয়েদের বাবা-মায়ের কাছে ফ্রি-ফায়ার যেন এক কালো অধ্যায়ের নাম।

কিলিং মিশন সংশ্লিষ্ট এই গেমের মাধ্যমে অল্প বয়সী ছেলেমেয়েরা পরিচিত হয়ে যাচ্ছে নানা সব ভয়ানক অস্ত্রের সঙ্গে। শিক্ষা ব্যবস্থায় দীর্ঘ বিরতি শিক্ষার্থীদের জন্য যে কতটা বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি করে দেয় সেটা শুধু ভুক্তভোগী অভিভাবক ও শিক্ষকমন্ডলীরাই ভালো বুঝবেন। সামান্য দুই-চারদিনের ছুটির রেশ কাটিয়ে পূর্ণ উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে কতটা ত্যাগ ও পরিশ্রম করতে হত। আর সেখানে অনির্দিষ্টকালের বিরতি চলছে তো চলছেই। যার শেষ হবে কবে তারও কোনো নিশ্চয়তা নাই।

তাছাড়া দেশের এমন কঠিন পরিস্থিতি ও চারদিকের নানান হাহাকারের জোয়ারে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মানসিকতা বিনষ্টের শেষ পর্যায়ে অবস্থান নিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই আমাদের দেশের বেশিরভাগ ছেলেমেয়ে পড়াশোনায় উদাসীন। সেখানে শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও প্রাইভেট কোচিং বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা থেকে অনেক দূরে।

দুঃখজনক হলেও এটা বলা যায়, এদেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীই এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনা থেকে এক্কেবারে বিচ্ছিন্ন অবস্থানে এসে পড়েছেন। দীর্ঘ এই বিরতিতে নিজেদের দৈনন্দিন রুটিনকে পাল্টে নিয়েছেন নিজেদেরই অজান্তে। যার ফলশ্রুতিতে সময় কাটানোর উপকরণ হিসাবে বেছে নিয়েছে বিভিন্ন মাধ্যম। তন্মাধ্য গেম অন্যতম। আমাদের দেশ তথা সারা বিশ্বে ছেলেমেয়েদের বিশেষ করে গেমের প্রতি ঝোঁক বেশি। এই পরিস্থিতিতে ফ্রি-ফায়ার গেমে মজেছে কোমলমতি শিশুসহ মাধ্যমিক ও উচ্চ-মাধ্যমিকের ছেলেমেয়েরা। গেমে আসক্তির কারণে তাদের দৈনন্দিন জীবনে বাসা বেঁধেছে নানা কু-অভ্যাস। অনিয়মের মিছিল বইছে জীবনে। সময়ের খাওয়া হচ্ছে না সময়ে।

রাত জেগে জেগে খেলছে গেম। সকালে উঠছে দেরি করে। যার জন্য স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ ছেলেমেয়েদেরই। এর প্রভাবে তাদের শরীরে দেখা যাচ্ছে নানা রোগের লক্ষণ। এমন অবস্থায় অভিভাবকরা পড়েছেন কঠিন পরীক্ষার মধ্যে। ঘরবন্দি এই ছেলেমেয়েদের নিয়ে কঠিন সব অভিজ্ঞতার কথা বলছেন অনেকেই। নির্দিষ্ট গ-ির মধ্যে থাকতে থাকতে শুধু যে পড়াশোনার দিকটার অবনতি হচ্ছে সেটা কিন্তু একদমই নয়। মানসিকভাবেও বিকারগ্রস্ত হয়ে পড়ছে ছেলেমেয়েরা। মৌলিক বিষয়গুলো ভুলতে বসেছে অনেকেই কেউবা ভুলেই গেছেন।

আমাদের ছেলেমেয়েরা যেহেতু মোবাইল কিংবা গেমের প্রতি আগ্রহী বেশি। তাই এই আগ্রহটাকে আমাদের পজিটিভভাবে কাজে লাগাতে হবে। কঠিন এই কোভিড-১৯ মহামারিতে পড়াশোনার বিষয়গুলোকে মোবাইলের মাধ্যমে ছেলেমেয়েদের কাছে পৌঁছাতে হবে। বিভিন্ন মানের শিক্ষামূলক গেমও বানানো যেতে পারে আমাদের ছেলেমেয়েদের জন্য। কেননা আল্লাহ চাইলে হয়ত একদিন আমাদের মাঝ থেকে এই মহামারি কেটে যাবে। কিন্তু এই দুঃসময়ে আমাদের মাঝে বিশেষ করে ছেলেমেয়েদের ভেতরে যে অভ্যাসগুলো তৈরি হচ্ছে সেগুলোকে কাটিয়ে উঠতে অনেক কষ্ট হবে। তাই আসুন, আমাদের ছেলেমেয়ে ও তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে গেমমুখী জীবনটাকে শিক্ষামুখী করতে চেষ্টা করি। তা না হলে আমাদের প্রজন্ম হয়ে উঠবে এক মেরুদ-হীন প্রজন্ম। যাদের কাছে শিক্ষা কী জিনিস হয়ত অজানাই থেকে যাবে।

 

এস আর শানু খান : শিক্ষার্থী। গ্রাম : মনোখালী

ডাক : হরিতলা, থানা : শালিখা, মাগুরা