‘মোবাইলেও নাকি ভাইরাস ছড়ায়’

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

‘মোবাইলেও নাকি ভাইরাস ছড়ায়’

করোনা ও অবহেলা একই সুত্রে গাথা

আশরাফুল ইসলাম রনি ২:৩৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ০৪, ২০২০

print
‘মোবাইলেও নাকি ভাইরাস ছড়ায়’

শখের বসে পত্রিকায় লেখালেখি করা আমার অভ্যাস। একপর্যায়ে সেই অভ্যাস এখন নেশায় পরিনত হয়েছে। যতটুকু পারি সংবাদ সংগ্রহ করার ক্ষুদ্র প্রয়াস আমার। বিশ্বব্যাপি মহামারি এই দুর্যোগে দেশেও মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের বিস্তার। আমার চলার পথে সব সময় চেষ্টা ছিলো নিজেকে সেফ রাখার। কিন্ত বিধিবাম হঠাৎ করে শরীরে ব্যাথা ও গলায় ব্যাথা অনুভব করি। এতে গত (২৫ জুলাই) হাসপাতালে নমুনা দেই। পরে আমার করোনা পজেটিভ আসে। এরপর থেকে আমার ব্যক্তিগত অফিসেই ঘরবন্দি হয়ে থাকি। পরে অবশ্য উপজেলা প্রসাশন আমার অনুমতি সাপেক্ষেই অফিসটি লগডাউন ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই শুরু হলো জীবন যুদ্ধে অজানা অদৃশ্য শত্রুর সাথে যুদ্ধ আর বাহিরে বন্ধু-বান্ধব, আত্নীয়-স্বজন, সহকর্মীসহ সকলের সাথে শুরু হয় মানবতার যুদ্ধ। মনের প্রবল ইচ্ছে আছে করোনা যুদ্ধে জয়ী হবো। কিন্ত আজ করোনা পজেটিভ হওয়ার ১০ দিনে বার বার ভাবছি মানবতার যুদ্ধে আমি পরাজিত সৈনিক। করোনা ভাইরাস যতটুকু না শক্তিশালী তার চেয়ে বেশি হলো মানুষদের মানবতা আর ব্যবহার। করোনা পজেটিভ শুনে কেমন যেন সবকিছু এলোমেলো হয়ে গেল আমার চারপাশে থাকা মানুষগুলো। মুহুর্তে বদলে গেল যেন সবকিছু। আজব ব্যাপার!

এক সময় রাস্তায় হাটতাম চারপাশে কতজন বলতো এইযে সাংবাদিক সাহেব কোথায় যাও, তোমার সাহসী লেখনি, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন গুলো সমাজকে সচেতন করছে। তুমি এত সাহস কোথাও পাও? এত বড় বড় দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে লেখ ভয় পাও না? এভাবে প্রশ্ন করতেন অনেকে আবার সাধুবাদ জানাতেন। আমি বলতাম আমার কোন আপনজন নেই।

কারণ সংবাদ লিখলে অনেকের পক্ষে যায় আবার কারো বিপক্ষে যায়, তাতে ভয় করার কিছু নেই। সত্য কথা লিখবো তাতে যায় আসে না। তারা উৎসাহ দিতেন, এগিয়ে যাও, অভিবাদন জানাতেন। আজ সেই মানুষগুলো কেমন যেন স্বাভাবিকভাবে মুখ লুকিয়ে নিয়েছেন। আমাকে একজন ব্যক্তি ফোন দিয়েছিলেন, প্রথমে বললেন রনি কেমন আছো? জবাবে বললাম ভালো আছি। তিনি বললেন কিভাবে বলি তোমাকে - ফোন আগেই দেয়া উচিত ছিল কিন্ত দেরি হয়ে গেল? বললাম সমস্যা নেই। তিনি বললো রনি মোবাইলেও নাকি ভাইরাস ছড়ায় তাই ফোন দিতে ভয় পেয়েছিলাম। রোগটা তো সুবিধাজনক নয়। বললাম ঠিক আছে, ভাল থাকবেন।

যাক, আমার করোনা রোগটা থেকে এখন অবধি অভিজ্ঞতা হলো যতটুকু রোগটা শক্তিশালী তার চেয়ে বেশি হলো মানুষের মাঝে গুজব ও আতঙ্ক। আমার মনে হচ্ছে করোনা আমার অনেক কাছের বন্ধু! কারণ সে সাথেই আছে। আর আত্নীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, শুভাংখিরা দুরে রয়েছেন আতঙ্কে। তাদের দুর থেকে অবহেলাটুকু নজর কাড়ছে। মনে হয় বার বার যাদের জন্য বিভিন্ন সংগ্রাম করেছি। তারা কেউ খোজ রাখেন না। কেমন আছি। হ্যাঁ- করোনা পজেটিভ শুনে অনেক বড় বড় গুনী রাজনীতিবিদ, আমলাসহ বহু মানুষ খোজখবর নিয়েছেন, মনে সাহস যুগিয়েছেন।

তাদের ধন্যবাদ আর নিজেকে ধন্য মনে হচ্ছে হয়তো ভাল কাজের জন্য তাদের ভালবাসা পেয়েছি। আরেকটা দিক হলো অবহেলা, কুকুরকে যেমন খাবার ছুড়ে দেয়া হয় ঠিক তেমনি করোনা পজেটিভদের বেলায় ব্যাতিক্রম নয়। এটা এমন একটা আতঙ্কিত রোগ, এর চেয়ে বেশি ভয়াবহতা হলো গুজবটা বেশি। সবাই সমান না হলেও কিছু শুভাকাংখি আছেন তারা খুবই আবেগ প্রবণ কাছে আসার চেষ্টা করছেন, বাধা হলো ছোয়াছে রোগ তাই ইচ্ছে থাকলেও দুরে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। যাই হোক কারো যেন করোনা রোগ না হয় এই কামনা করি। করোনা রোগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হলো মানুষের মানবিকতা। ভাল থাকুক সবাই, ভাল থাকুক তারা।
.....চলবে

লেখক-সাংবাদিক
আশরাফুল ইসলাম রনি
দৈনিক খোলা কাগজ ও পরিবর্তন ডট কম