পেঁয়াজ নিয়ে এখনই ভাবুন

ঢাকা, শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২০ | ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭

পেঁয়াজ নিয়ে এখনই ভাবুন

সাঈদ চৌধুরী ৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ০৩, ২০২০

print
পেঁয়াজ নিয়ে এখনই ভাবুন

গত বছর পেঁয়াজের অবস্থা ছিল এমন যে গণমাধ্যমগুলোতে কোনো কোনো রান্নার অনুষ্ঠানে পেঁয়াজ বাদ দিয়ে কীভাবে রান্না করা যায় তা শেখানো হচ্ছিল! পেঁয়াজ বাদে অন্য কোন ফসল পেঁয়াজের বিপরীতে ব্যবহার করা যায় তা নিয়েও চিন্তা করা হচ্ছিল। কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট গবেষণা করে পেঁয়াজের পরিবর্তে চিভ ব্যবহারের জন্য চিভ উৎপাদন শুরু করেছিল। এটি একটি আশাজাগানিয়া ব্যাপার মনে হচ্ছিল।

এছাড়াও দেখা গেছে পেঁয়াজের দাম নিয়ে প্রচ- রকম হতাশা মানুষের মধ্যে। এক কেজি পেঁয়াজ কিনতে শত শত টাকা গোনার মতো অবস্থায় যখন আমরা চলে গিয়েছিলাম তখন প্রশ্ন উঠেছিল। একটি বাড়িতে পেঁয়াজ কেনা বেশি জরুরি নাকি ওষুধ কেনা বেশি জরুরি! এমনও পরিবার আছে যাদের এক কেজি পেঁয়াজের মূল্যে অফিসে যাওয়ার ভাড়া প্রায় আট থেকে দশদিন চলে!

বাংলাদেশে রন্ধন শিল্পে পেঁয়াজের ব্যবহার ঐতিহ্যগত এবং রসনাবিলাসে বাধ্যতামূলক। তবুও দামের কারণে সে জায়গা থেকে বাঙালিয়ানা স্বভাব প্রায় সরে আসতে বাধ্য হয়েছিল গত বছর। দেখা গেছে সালাদের ক্ষেত্রেও পেঁয়াজের ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে। বড় বড় হোটেলগুলোতেও পেঁয়াজের ব্যবহার কমিয়ে আনা হয়েছে! বিয়ে শাদির মতো বড় বড় অনুষ্ঠানগুলোতেও পেঁয়াজ ছিল নামে মাত্র।

এক শ্রেণির পুঁজিবাদ, দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ তখনও দুর্নীতি বন্ধ রাখেনি এবং হাতিয়ে নিয়েছে অনেক অনেক টাকা! এত কিছুর পরও পেঁয়াজের দাম কমানো প্রায় যখন অসম্ভব এবং অনেকেই যখন পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না শুরু করছিল ঠিক তখনই পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হল আমাদের দেশে! প্রথম প্রথম দাম কমতে শুরু না করলেও পেঁয়াজের মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন পেঁয়াজ এবং পেঁয়াজের পাতা (কলির) দাম কমতে আরম্ভ করে। একসময় আমদানির ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ উঠে যায়।

যখন আমাদের পেঁয়াজ সংকট দেখা দিয়েছিল তখন অন্য দেশ পেঁয়াজ রপ্তানিও বন্ধ রেখেছিল। সব মিলিয়ে যা হল তাতে দেখা গেল আমাদের পেঁয়াজ উৎপাদনের আসল চিত্র! এখন গত কয়েকদিন ধরে আবার উল্টো চিত্র দেখতে শুরু করেছি আমরা। আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম বিশ থেকে পঁচিশ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে আর দেশি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশ টাকায়! অনেক কমে গিয়ে এখন যখন পেঁয়াজের দাম মানুষের হাতের নাগালে তখন সরকারের পরিকল্পনা কী?

 

সাঈদ চৌধুরী : সদস্য, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি ও রসায়নবিদ, শ্রীপুর, গাজীপুর