জিয়াউর রহমান : ইতিহাসের নায়ক

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২০ | ২৫ আষাঢ় ১৪২৭

জিয়াউর রহমান : ইতিহাসের নায়ক

আব্দুল্লাহ আল সিফাত ৮:০৭ অপরাহ্ণ, মে ৩০, ২০২০

print
জিয়াউর রহমান : ইতিহাসের নায়ক

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এবং রাজনৈতিক ইতিহাসে জিয়াউর রহমান অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা তিনি। রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে তার খাল কাটা কর্মসূচি জনগণের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। এছাড়া রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় কালো সানগ্লাস, আঁটোসাটো সাদা গেঞ্জি, গলায় চেইন এবং জিনস প্যান্ট পরিহিত ছবির কারণে তৎকালীন তরুণদের জন্য তিনি আধুনিকতার আইডল হয়ে উঠেছিলেন।

জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশের বগুড়া জেলার বাগবাড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মনসুর রহমান এবং মা জাহানারা ভারতবর্ষ বিভাগের পর তার পিতা পশ্চিম পাকিস্তানের করাচি শহরে চলে গেলে জিয়াউর রহমান করাচি একাডেমি স্কুলে ভর্তি হন। ওই স্কুল থেকেই ১৯৫২ সালে কৃতিত্বের সঙ্গে মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপ্ত করে ১৯৫৩ সালে করাচিতে ডি. জে. কলেজে ভর্তি হন এবং ওই বছরই তিনি কাকুল মিলিটারি একাডেমিতে অফিসার ক্যাডেট হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৫৫ সালে তিনি সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন প্রাপ্ত হন। করাচিতে দুই বছর চাকরি করার পর ১৯৫৭ সালে তিনি ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে বদলি হয়ে আসেন।

তিনি ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা বিভাগে কাজ করেন। ১৯৬০ সালে তিনি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে একটি কোম্পানির কমান্ডার হিসেবে খেমকারান সেক্টরে যুদ্ধে সাহসিকতার জন্য বীরত্বসূচক পুরস্কার হিলাল-ই-জুরাত খেতাবে ভূষিত হন। ১৯৬৬ সালে তিনি পাকিস্তান মিলিটারি একাডেমিতে পেশাদার ইনস্ট্রাক্টর পদে নিয়োগ লাভ করেন। সে বছরই তিনি পশ্চিম পাকিস্তানের কোয়েটার স্টাফ কলেজে কমান্ড কোর্সে যোগ দেন। ১৯৬৯ সালে তিনি মেজর পদে উন্নীত হয়ে জয়দেবপুরে সেকেন্ড ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন।

১৯৭০ সালে একজন মেজর হিসেবে তিনি দেশে ফিরে আসেন এবং চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড পদের দায়িত্ব লাভ করেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর বর্বরের মতো ঘৃণ্য হামলা চালায় সে রাতে পশ্চিম পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনপ্রিয় বাঙালি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বন্দি হন।

ওই সঙ্কটময় মুহূর্তে জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক ত্যাগ করে বিদ্রোহ করেন এবং ২৭ মার্চ তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। মুজিবনগর সরকার মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার্থে সারা দেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করে। জিয়াউর রহমান ১১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন, তার সেক্টরের নাম ছিল ‘জেড’ ফোর্স। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান ও বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করে। স্বাধীনতার পর জিয়াউর রহমানকে কুমিল্লায় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড কমান্ডার নিয়োগ করা হয় এবং ১৯৭২ সালের জুন মাসে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ নিযুক্ত হন।

১৯৭৩ সালের মাঝামাঝি তিনি ব্রিগেডিয়ার পদে, ওই বছরের শেষের দিকে মেজর জেনারেল পদে এবং ১৯৭৫ সালের ২৫ আগস্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে পদোন্নতি লাভ করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের পর, খন্দকার মোশতাক আহমেদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ওই বছরের ২৫ আগস্ট জিয়াউর রহমান চিফ অব আর্মি স্টাফ নিযুক্ত হন। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি জনতা বিপ্লবের পর তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। ১৯৭৬ সালের ২৯ নভেম্বর তিনি প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি উপ-রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে প্রধান করে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর দলটির নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) করা হয়। 

মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে সফল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি ইতিহাসে জায়গা করে নেন। মুক্তিযোদ্ধা, সফল রাজনীতিবিদ এ মানুষটি চার বছর বাংলাদেশ শাসন করার পর ১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে প্রাণ হারান। দেশ ও মাতৃকার প্রতি অবদানের জন্য তিনি এ দেশের মানুষের কাছে উজ্জ্বল হয়ে আছেন।

 

আব্দুল্লাহ আল সিফাত : সাবেক শিক্ষার্থী, তিতুমীর কলেজ