সুন্দরবনকে রক্ষা করি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ | ৯ আশ্বিন ১৪২৭

সুন্দরবনকে রক্ষা করি

ইমরান হোসেন ৭:০০ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০২০

print
সুন্দরবনকে রক্ষা করি

সুপার সাইক্লোন আম্পান দাপট দেখিয়ে বিদায় নিয়েছে। বাংলাদেশের খুলনা ও রাজশাহী বিভাগ দিয়ে বয়ে যাওয়ার সময় ঘূর্ণিঝড়টি সাত জেলার মোট ১৫ জন মানুষের প্রাণ কেড়েছে। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, আম্পানে ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, প্রাথমিক হিসেবে ২৬টি জেলায় প্রায় ১১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

তবে উপকূলে সুন্দরবন না থাকলে এই ক্ষতির পরিমাণ যে আরও কতগুণ বেশি হত তা নিরুপণ করাও কষ্টকর। ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক সুন্দরবন ‘বিশ্ব ঐতিহ্য’হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুন্দরবন বহু প্রজাতির বন্যপ্রাণী আর উদ্ভিদের উপস্থিতিতে বৈচিত্র্যময়। সেজন্য এটি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র। যে কোনো ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে বাংলাদেশকে বাঁচাতে নিজের বুক পেতে দেয় সুন্দরবন।

সুন্দরবনের সবুজ বেষ্টনী বাংলাদেশকে যুগের পর যুগ ধরে শুধু ঝড়-জলোচ্ছ্বাস থেকেই রক্ষা করছে না, এটি অত্যাধিক জোয়ারের হাত থেকেও উপকূলীয় স্থলভাগকে রক্ষা করছে। নদী ও সাগরের মোহনায় ‘ডেলটা ফরমেশন’-এর মাধ্যমে স্থলভাগ বাড়িয়ে চলছে এই বনভূমি। সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ততা হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে সুন্দরবন। দেশীয় বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ ও সরকারি রাজস্ব আয়ে রয়েছে এর বিস্তর ভূমিকা। পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে ম্যানগ্রোভ বনটি বিশ্বব্যাপী সমাদৃত। এর বাইরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও দূষণরোধে রয়েছে সুন্দরবনের অপরিসীম ভূমিকা। বাংলাদেশের জন্য সুন্দরবন যে স্রষ্টার দেওয়া কত বড় আশীর্বাদ তা অনুধাবন করা জরুরি।

বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে সুন্দরবন রক্ষায় সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনার আওতায় ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন’ সংস্কার করে তা যথাযথভাবে কার্যকর করতে হবে। অসাধু বন কর্মকর্তাদের আইনি শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। বনদস্যুদের মোকাবেলায় সুন্দরবন অঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লোকবল বাড়াতে হবে এবং বনদস্যুদের ধরতে সরকারি বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে হবে। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল স্থানীয় জনসাধারণের বিকল্প আয়ের সংস্থান করতে হবে।

বন্যপ্রাণীর অভয়াশ্রম আওতা বৃদ্ধি করে তা নিশ্চিত করতে হবে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগ এবং ফরেস্ট্রি বিভাগকে সুন্দরবন রক্ষার গবেষণায় কাজে লাগাতে হবে। বাঘ ও হরিণ শিকারের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সেই সঙ্গে সরকারকে সুন্দরবন ঘেঁষে শিল্পকারখানার অনুমোদন দেওয়া বন্ধ করতে হবে এবং সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে তেল ও কয়লার পরিবহন বন্ধ করতে পারলে খুব ভালো হয়।

মনে রাখতে হবে, সুন্দরবন যতদিন আছে, ততদিন আমরা ঘূর্ণিঝড়-জলোচ্ছ্বাস, জোয়ার-লবণাক্ততা, সমুদ্রের উপকূলে ভাঙনের মতো বঙ্গোপসাগরীয় দুর্যোগ থেকে অনেক বেশি নিরাপদ থাকব। একইভাবে সুন্দরবন যতটা বিনষ্ট হবে, দেশের ক্ষতিও ততটা ত্বরান্বিত হবে। তাই সরকার এবং নাগরিকদেরও স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সুন্দরবন রক্ষায় সচেষ্ট হওয়া দরকার।

ইমরান হোসেন : শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

imranhossen1971@yahoo.com