নিরাপদ হোক পৃথিবী

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

নিরাপদ হোক পৃথিবী

ওয়াদুদ রহমান ওয়ালিদ ১১:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১৯, ২০২০

print
নিরাপদ হোক পৃথিবী

পৃথিবী তার আপন গতিতে চলতে পছন্দ করে। পরিবেশের গাছপালা নির্ধন, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস, বায়ুতে অতিরিক্ত বিষাক্ত গ্যাসের ফলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ছাড়াও নানা ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ সৃষ্টি হচ্ছে। যার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত মানুষ। বিশ্ব জনসংখ্যার দ্রুত বৃ্দ্িধর সঙ্গে সঙ্গে, উন্নত প্রযুক্তি মানুষকে বেপরোয়া করে তুলেছে। দেশের অর্থনীতিকে উন্নত করার জন্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা আর এতে প্রকৃত ভুক্তভোগী নিম্ন ও মধ্যমায়ের দেশগুলো। স্নায়ু যুদ্ধ বা প্রক্সি যুদ্ধের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে উদ্বাস্তু জনগোষ্ঠী। প্রাণ দিতে হচ্ছে হাজার হাজার মানুষের। কট্টরপন্থী রাজনীতিবিদ দ্বারা রাষ্ট্র পরিচালনা, দুর্নীতি, হত্যা-গুম-খুন-ধর্ষণ, হিংসা-বিদ্বেষ, পৃথিবীটাকে অশান্ত করে তুলেছিল। এমনই সংকটময় মুহূর্তে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে করোনাভাইরাসের উৎপত্তি।

ভাইরাসটি পৃথিবীর মানব জাতিকে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছে। তাছাড়া পৃথিবীর একটা দেশ আক্রান্ত হলে অন্য কোনো দেশ যে নিরাপদ নয়, করোনাভাইরাসের বিস্তারই তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভাইরাসটির টিকা তৈরির প্রক্রিয়া চলমান। এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে পৃথক করে রাখার পাশাপাশি দেহের মধ্যে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা ছাড়া বিকল্প কোনো সেবা নেই। হয়ত শীঘ্রই আবিষ্কার হবে। এই যুদ্ধের সৈনিকদের (ডাক্তার-নার্স, প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন) বিশ্ব কখনই ভুলবে না। দুঃখজনক হলেও সত্য, ভাইরাস বিস্তারের কারণে পৃথিবী একটু হলেও সাময়িক সময়ের জন্য মুক্তভাবে নিঃশ্বাস নিতে পেরেছে।

পৃথিবীকে নিয়ন্ত্রণ করার ফল কখনও ভালো হয় না। প্রতিনিয়ত বিজ্ঞানীরা যে তথ্য দিচ্ছে তাতে বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর অনেক দেশ পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে। হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হওয়া আশঙ্কা করা হচ্ছে। গ্রীন হাউজ গ্যাস নির্গমনের হার নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। বায়ু দূষণের ফলে সৃষ্ট পিএম ২.৫ শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সহজেই শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসতন্ত্রের নানা রোগ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া অ্যাজমা ও ফুসফুসের ক্যানসারের জন্য দায়ী এই পিএম ২.৫। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রি থেকে নির্গত গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ এবং বায়ু দূষণের হার এখন অন্য সময়ের তুলনায় সবচেয়ে কম।

কয়েকদিনের ব্যবধানে প্রকৃতি খুঁজে পেয়েছে আপন গতি। জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কনফারেন্স, প্রটোকল, কনভেনশনের ওপর আরো বেশি গুরুত্ব দেওয়া এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে বৈশ্বিক উষ্ণতার লেজ টেনে ধরতে হবে। আর কোনো যুদ্ধ নয়। সুষ্ঠু ধারার বিশ্ব রাজনীতি আর প্রকৃতির প্রতি একটু ভালোবাসা পৃথিবীকে পরিবর্তন করে দিতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য এখনই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পৃথিবীকে অভিশাপমুক্ত করতে হবে।

ওয়াদুদ রহমান ওয়ালিদ, পপুলেশন সায়েন্স এন্ড হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়