শঙ্কিত ও আতঙ্কিত পরিস্থিতি

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

শঙ্কিত ও আতঙ্কিত পরিস্থিতি

সানজানা সাবরিন ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২০

print
শঙ্কিত ও আতঙ্কিত পরিস্থিতি

বৈশ্বিক মহামারি করোনা আজ এক অশনিসংকেতের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে বর্তমান বিশ্বকে। বর্তমান বিশ্ববাসী আজ প্রাণঘাতী ভাইরাস কোভিড-১৯-এর করাল গ্রাসের সম্মুখীন। চীনের উহান শহর থেকে এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব হলেও বিশ্ববাসী আজ শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। মানুষ আজ গৃহবন্দি। সমগ্র বিশ্বের প্রান্তে প্রান্তে ছড়িয়ে পড়েছে এর প্রার্দুভাব। বিশ্ব বুঝি আজ বড় অসহায়!

বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্র আজ এই শঙ্কার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। বিশ্বের পরাশক্তির অধিকারী (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, স্পেন, ফ্রান্স, ইতালি, ব্রাজিল, আফ্রিকা) রাষ্ট্রগুলো ও প্রাণঘাতী ভাইরাসের এই করাল গ্রাসের থাবা থেকে রেহাই পায়নি। পরাশক্তির অধিকারী দেশগুলো আজ এই শঙ্কার কাছে পরাজিত। এই অশনিসংকেতের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আপ্রাণ চেষ্টায় মেতে উঠেছে গোটা বিশ্ববাসী।

অন্যদিকে, করোনার করাল গ্রাসের প্রভাব লক্ষণীয়ভাবে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে। গোটা পৃথিবী যখন অস্থিরতার মধ্যে বিরাজ করছে তখনই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে অর্থনৈতিক সংকট। বিশ্ব কোন দিকে গিয়ে মাথা ঠেকবে তা নিয়ে আজ সন্দিহান অনেকে। সম্প্রতি অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা ওইসিডি এক বক্তব্যে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর করোনাভাইরাসের প্রভাবকে হুমকিস্বরূপ বলে আখ্যায়িত করেছে। আর এই প্রভাব যদি ক্রমবর্ধমান হারে বাড়তে থাকে তাহলে বিশ্ব অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দেবে। প্রবৃদ্ধিতে অর্থনৈতিক সমীক্ষার হার অর্ধেক কমে আসবে বলে পূর্বাভাস জারি করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যা বিশ্ববাসীর জন্য শঙ্কা ও আতঙ্ক। তাছাড়াও করোনার প্রকোপে অস্থিরতা বিরাজ করছে শেয়ারমার্কেট, তেলের বাজার, পোশাক শিল্প, পর্যটন শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে, যার ফলে দেখা দিচ্ছে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা।

আর এই সংকটাপন্ন অবস্থায় এক দেশ মেতে উঠেছে আরেক দেশকে শিক্ষা দিতে। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্র সৌদি আরব রাশিয়াকে শিক্ষা দিতে পেট্রোলিয়ামের দাম কমিয়েছে, যার ফলে সংকট আরও ঘনীভূত আকার ধারণ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশের সরকার একের পর এক তাদের কড়া নজরদারি ও পদক্ষেপের ঘোষণা করলেও করোনার ভীতিকর আতঙ্ক যেন তাদের পিছু ছাড়ছে না। এমন প্রেক্ষাপটে পুঁজিবাজারে নেমে এসেছে অস্থিরতা।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের ভয়াবহ রূপ দিনে দিনে চরম আকার ধারণ করছে। প্রতিটি জেলায় উপজেলায় এর প্রকোপ ভয়ানক আকারে দেখা দিচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য অধিদফতরের (আইডিসিআর) তথ্য মতে, ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। যা বাংলাদেশের জন্য হুমকিস্বরূপ। উৎপাদন খাত, পর্যটন শিল্প, পরিবহনব্যবস্থা, হোটেল ম্যানেজমেন্ট প্রভৃতি খাতে করোনার প্রার্দুভাব মারাত্মকভাবে পড়তে শুরু করেছে। যার ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ৮ শতাংশ বা দুই তৃতীয়াংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করছে বিশ্বব্যাংক। অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকার পোশাকশিল্প ও রেমিট্যান্স নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে। কারণ বাংলাদেশের জিডিপির সবচেয়ে বেশি প্রায় ১৮ শতাংশ আসে রেমিট্যান্স ও পোশাক শিল্প থেকে। এই প্রাদুর্ভাবের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর রেমিট্যান্স পরিমাণ ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিশ্বব্যাংক। যা বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য আতঙ্ক। এদিকে করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও ভয়ানক এই শঙ্কাকে উপেক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের আশায় কর্মজীবী মানুষ পাড়ি জমাচ্ছে তাদের কর্মক্ষেত্রে। এই শঙ্কা ও আতঙ্ক মাথায় নিয়ে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ করে জীবিকা নির্বাহ করছে মানবজাতি।

বিশ্বব্যাপী এই শঙ্কা যে শুধু অর্থনৈতিক খাতকেই অচল করে দিচ্ছে তা নয়, পাল্টে দিচ্ছে মানবজীবনের গতিময়তাকে। করোনার এই ভয়াবহ প্রকোপে কর্মক্ষেত্রে নেমে এসেছে দুর্ভোগ, স্থবির হয়ে আছে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। যা বেকারত্বের হারকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিবে বলে ধারণা করা যাচ্ছে। যার দরুন পাল্টে যাচ্ছে বিশ্বায়নের চাকা। এসব শঙ্কা ও অস্থিরতা কাটিয়ে বিশ্ব কি তার নিজের অবস্থানে ফিরতে পারবে এটাই এখন দেখার পালা।

সানজানা সাবরিন : শিক্ষার্থী, ভূগোল ও পরিবেশ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
sanjanasabrin019@gmail.com