কেন করোনা সহজে মরে না

ঢাকা, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২০ | ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

কেন করোনা সহজে মরে না

শেখ আনোয়ার ২:২৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৭, ২০২০

print
কেন করোনা সহজে মরে না

করোনা ভাইরাসের দাপটে বিশ্বব্যাপী প্রচ- আতঙ্ক ও ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে। তটস্থ তামাম বিশ্ব। কারণ, করোনার ক্রোধ ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাপী এই ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। ৭০ হাজার ছুঁইছুঁই করছে মৃতের সংখ্যা। প্রাণঘাতী প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে বাংলাদেশেও। প্রতিদিন বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম এই ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটে। এরপর একে একে এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় ২০০ দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। চীনে প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এলেও মাত্র ক’দিনের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যার দিক থেকে চীন ও ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে বিশ্বের সবচেয়ে দাপুটে ও সম্পদশালী দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২০০ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটাতে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে কমপক্ষে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭২ জন আক্রান্ত এবং ৯ হাজার ৬৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। তার চেয়ে উদ্বেগের খবর হলো, প্রায় ৩৫ লাখ লোক কর্মহীন হয়ে পড়েছে। ভয়াবহ চাপে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি। এ থেকে করোনা বিস্তারের গতি এবং তার শক্তিমত্তা শুধু নয়, সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কেও কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। 

মারাত্মক এই চীনা ভাইরাসের পুরো নাম নভেল করোনা ভাইরাস বা ২০১৯-এনসিওভি। চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম মানুষের শরীরে এই নয়া সংস্করণের করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নজরে আসে। তারপর চীনের প্রায় ১৪টা প্রদেশে ছড়িয়ে পড়ে করোনা সংক্রমণ। এমনকি থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান, মালয়েশিয়াতেও করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বেশ কিছু মানুষ। করোনা আক্রান্ত রোগীর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো, গলা ব্যথা, জ্বর, মাথা ব্যথা, ভয়ানক শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি। অনেকটা নিউমোনিয়ার মতো। আসলে চেনা উপসর্গের আড়ালেই ঘাপটি মেরে থাকে। এর কামড় ভয়াবহ। সংক্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই বোঝা যায় না। উপসর্গগুলো প্রকট হতে ২ থেকে ১৪ দিন সময় লাগে। এই ভাইরাস মোকাবেলার উপায় বিজ্ঞানে এখনও অধরা। ওষুধ নেই।

ভাইরাস কী? ভাইরাস একপ্রকার আনুবীক্ষণিক বস্তু বা কণা। আর পাঁচটা জীবাণুদের মতো নয়। এরা অকোষীয়। স্বাধীন অবস্থায় জড়বস্তুর মতো আচরণ করে। অকোষীয় প্রকৃতির জন্যই ভাইরাস বাধ্যতামূলক পরজীবী যারা সুনির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়া, উদ্ভিদ ও মানুষসহ নানান প্রাণীর দেহে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ ও সংক্রামক রোগের জন্যে দায়ী। এরা স্বাধীন প্রজননে অক্ষম। অথচ জীবকোষে ঢুকলে এরা সজীব এবং স্ব-জননে সক্ষম হয়ে ওঠে। শেষে সংহার মূর্তি ধারণ করে পোষক কোষকে ধ্বংস করে দেয়।

করোনা কেন সহজে মরে না? প্রত্যেক ভাইরাস প্রোটিনের একটা আঁটসাঁট বহিরাবরণ দ্বারা পরিকৃত থাকে। একে ক্যাপসিড বলে। ক্যাপসিডের মোড়কের মধ্যে থাকে নিউক্লিক অ্যাসিড, ডিএনএ অথবা আরএনএ। করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রে ক্যাপসিডের মধ্যে থাকে একটা একতন্ত্রী, পজিটিভ আরএনএ, যা কু-লীর মতো পাকিয়ে থাকে। আরএনএ থাকে বলে একে রেট্রো ভাইরাসও বলে। করোনা ভাইরাসের জিনোমের আকৃতি মোটামুটিভাবে ২৬ থেকে ৩২ কিলোবেস। করোনা ভাইরাস কথাটা লাতিন শব্দ থেকে এসেছে। করোনা নামটার অর্থ হল ‘মুকুট’ বা ‘সূর্যের জ্যোতির্বলয়’। কারণ ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপে এদের চেহারাটা সেইরকমই দেখায়। চীনের নব্য প্রজাতির বা স্টেনের করোনা ভাইরাসটার নাম দেওয়া হয়েছে ‘২০১৯ এনসিওভি। এর অর্থ হলো, ২০১৯ সালে এই ভাইরাসের অস্তিত্বের কথা জানা গিয়েছে। ‘এন’ বা নভেল যার অর্থ হলো, নিউ বা নতুন বা অভিনব, ‘সিওআর’ অর্থ করোনা এবং ‘ভি’ হলো ভাইরাস। এই হলো কোভিড ১৯ বা করোনা ভাইরাস।

অন্যান্য প্রাণী ভাইরাসের মতো করোনা ভাইরাসে ক্যাপসিডে একটা অতিরিক্ত প্রোটিন-লিপিড-এর আবরণ বা এনভেলাপ থাকে। এই আবরণের বাইরের দিকে ছোট ও বড় দু’ধরনের কাঁটার বা আলপিনের মতো অভিক্ষেপ থাকে। একে স্পাইক বলে। বড় স্পাইকগুলো গণ্ডাইকো প্রোটিন যৌগ দিয়ে তৈরি। ছোট স্পাইকগুলো হিমোগ্লটিনিন প্রোটিন দিয়ে তৈরি। এই প্রোটিন অ্যান্টিজেন রূপে কাজ করে এবং মানুষের শরীরে প্রবেশের পর রক্তের লোহিত কণিকাগুলোকে পিণ্ডে পরিণত করে দেয়।

করোনা কেমন করে হানা দেয়? সত্যিই তো? ঠিক ঠিক জবাব কোথায় পাই? গবেষকরা বলছেন, প্রাণী ভাইরাসদের মধ্যে করোনা ভাইরাস ও তার অনেক আত্মীয়স্বজন মিলে তৈরি করে একটা বড় করোনা ভিরিডি পরিবার। তাদের প্রত্যেকেই কোনও না কোনও প্রাণীর দেহকে পোষক হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের প্রয়োজনে বংশবৃদ্ধির কাজটা সেরে নেয়। ভাইরাস কেবল সুনির্দিষ্ট পোষক কোষকেই আক্রমণ করে। এই বৈশিষ্ট্য ভাইরাসের ডিএনএ বা আরএনএ-তে অবস্থিত জিনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। গবেষকদের প্রশ্ন, করোনা ভাইরাস কীভাবে এক সুনির্দিষ্ট প্রাণীদেহ থেকে সম্পর্কহীন নতুন প্রাণীদেহে বা মানুষের দেহে প্রবেশ করে? উত্তরটা বড়ই রহস্যময়। কারণ হলো ভাইরাসের পরিব্যক্তি। পরিবেশের নানান অবস্থায় ভাইরাসেরা অনুভূতিশীল। এই কারণেই তারা ঠা-া বা গরম পরিবেশের পরিবর্তিত অবস্থার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে বেঁচে থাকতে পারে। ভাইরাসের এই ধর্মকেই বলা হয় পরিব্যক্তি। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই পরিব্যক্তিই করোনা ভাইরাসকে মনুষ্যমুখী অভিযোজনে সাহায্য করেছে।

এ কারণেই গরম এবং স্যাঁতস্যাঁতে আবহাওয়াতেও করোনা ভাইরাস প্রবল বেগে টিকে রয়েছে। এশিয়ায় সবচেয়ে উঞ্চ অঞ্চল প্রতিবেশী দেশ ভারত, বাংলাদেশের চেয়েও বেশি গরম। এই মুহূর্তে সেখানেও বিপুল বিক্রমে দাপট দেখাচ্ছে করোনা ভাইরাস। গরম আবহাওয়ায় ড্রপলেট থেকে করোনার সংক্রমণের আশঙ্কা সংক্রান্ত ক’দিন আগেকার থিওরি পাল্টে দিয়েছে করোনা। নতুন গবেষণায় নিশ্চিত হয়েছে, গরমে কোনোভাবেই সংক্রমণ থামবে না করোনার। কেন? কারণ এসব অবাক করা ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জিনের কারসাজি।

জিনের কারসাজিটা কি? একে বলে, জিনগত পরিবর্তন বা মিউটেশন। করোনা ভাইরাসের পোষক বদল এবং ঘাতক হয়ে ওঠার পেছনে তাদের জিনগত পরিবর্তনটা অত্যন্ত আবশ্যক। উদ্দেশ্য কিন্তু একটাই। নতুনই হোক বা পুরনো, ভাইরাস পোষক কোষের পরিকাঠামোকেই জবরদখল বা ছিনতাই করা। এরা নিজেদের প্রয়োজনে বংশবৃদ্ধির কাজটা সেরে নেয়। জিনগত পরিবর্তনই ভাইরাসের নানারকম গঠনগত পরিবর্তন ঘটায়। গবেষকদের ধারণা, এই পরিবর্তনের ফলে ভাইরাসের অভিক্ষেপেরও পরিবর্তন ঘটে। সবরকম চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণ করে এই জিন। একাধিক জিনের একটা নির্দিষ্ট সজ্জাক্রম থাকে। এই সজ্জাক্রমের বা জিনের মূল ক্ষারীয় উপাদানের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম পরিবর্তনের ফলে ঘটে যায় জিনগত পরিবর্তন এবং জীবের চরিত্রের রদবদল। প্রশ্ন উঠেছে, করোনার ক্ষেত্রে জিনগত পরিবর্তনের আশঙ্কা কেন? বিজ্ঞানীদের সহজ উত্তর- পোষক পরিবর্তনের সূত্র ধরেই এসে পড়েছে করোনার জিনগত পরিবর্তনের বিষয়টা। বিশেষ করে প্রাণী ভাইরাসের ক্ষেত্রে জিনের পরিবর্তন অহরহই ঘটে। এই পরিবর্তনশীল এবং পরিব্যক্তিশীল ভাইরাসের জিনোম রহস্যই বিজ্ঞানীদের রীতিমতো মাথা ঘুরিয়ে দিচ্ছে। প্রাণী ভাইরাসের ক্ষেত্রে ভাইরাস যখন পোষক কোষকে আক্রমণ করে, তখন ভাইরাস অভিক্ষেপের সাহায্যে পোষক-কোষের আবরণীতে অবস্থিত রিসেপটারের সঙ্গে আবদ্ধ হয়। পোষক বদলের সময় ভাইরাসের অভিক্ষেপের গঠন না বদলালে নতুন পোষক কোষের রিসেপটারের সঙ্গে আটকাবে না। ফলে ব্যর্থ হবে নতুন পোষক কোষে ঢোকার প্রচেষ্টা। কিন্তু সফল হলে আক্রমণ জোরদার হবে। এই সাফল্যই ভাইরাসকে ক্রমশ অচেনা করে তুলছে। করোনা তার বদলে যাওয়া গণ্ডাইকোপ্রোটিনের স্পাইকের সাহায্যে কোষপর্দায় অবস্থিত ‘অ্যানজিওটেনসিন কনভার্টিং এনজাইম ২’ বা এসিই-২ নামক রিসেপটরের সঙ্গে খাপে খাপে আটকে যায়। এই বিষয়টা ভাইরাসের পোষক কোষের ভেতরে প্রবেশ করাকে সুবিধা করে দেয়। পোষক কোষে আটকানোর পর ইনজেকশন প্রক্রিয়ায় ভাইরাস তার শুধু আরএনএ কোষের ভেতরে পাঠিয়ে দেয় অথবা এন্ডোসাইসিস প্রক্রিয়ায় আস্ত ভাইরাসই ঢুকে যায়। পরে ক্যাপসিড অংশ অপসারিত হয়। এরপর একতন্ত্রী পজিটিভ আরএনএ থেকে একতন্ত্রী নেগেটিভ আরএনএ তৈরি হয়। সেটাকেই ছাঁচ হিসেবে ব্যবহার করে পোষক কোষের সমন্বয়ী কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ফটোকপির মতো অসংখ্য পজিটিভ একতন্ত্রী আরএনএর প্রতিলিপি তৈরি করে। একই সঙ্গে নতুন ক্যাপসিড প্রোটিনও উৎপন্ন হয়। অবশেষে নতুন ক্যাপসিড এবং নতুন আরএনএ একত্রিত হয়ে নতুন ভাইরাস তৈরি করে। পরিণত ভাইরাস কণাগুলো পোষক কোষ থেকে বের হয়ে আবার অন্য কোষগুলোকে আক্রমণ করে। আক্রমণের মাত্রা যত বাড়তে থাকে তত পোষকের দেহে রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পায়।

গবেষকদের মতে, করোনা আগেও ছিল। ২০০২-২০০৩ সালে ‘সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিনড্রোম’ (এসএআরএস) বা সার্স-এর সংক্রমণে দুনিয়াজুড়ে প্রায় ৮০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। তার পেছনেও ছিল করোনা ভাইরাস। ২০১২ সালের মিডল-ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বা ‘মার্স’ নামে এক ধরনের শ্বাস-প্রশ্বাস ঘটিত রোগ ধরা পড়ে সৌদি আরবে। এ রোগের মূলেও ছিল করোনা ভাইরাস। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোতে এই রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি বলে, একে মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিনড্রোম বলা হয়। মানুষজন ও মাল বহনকারী উট ছিল এই ভাইরাসের বাহক। চীন থেকে ছড়ানো বর্তমান ভয়ঙ্কর নয়া করোনা ভাইরাস সেই সাবেক করোনা ভাইরাসেরই এক নতুন সংস্করণ বা জ্ঞাতি ভাই। তারই দাপটে ছড়াচ্ছে এই বিশ্বত্রাস। তাই সার্স-এর খালাতো ভাই বলে ভাবা হচ্ছে বর্তমানের করোনা ভাইরাসকে। আপাতত এটাকে ‘২০১৯-এনসিওভি’ নামে ডাকা হচ্ছে। এদের গঠন, বৈশিষ্ট্য, অভিযোজন ক্ষমতা বা সংক্রমণের মাধ্যমের মতো বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে জানা নেই। আর এখানেই আশঙ্কা। কারণ কীভাবে এই ভাইরাসের প্রকোপকে ঠেকানো যাবে, তা নিয়ে অন্ধকারে চিকিৎসক-গবেষক ও বিজ্ঞানী।
জি হ্যাঁ। কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এ যাবৎ দু’টো প্রধান অস্ত্র নির্দিষ্ট হয়েছে। এক, মানুষে মানুষে শারীরিক সংস্পর্শ যথাসম্ভব কমানো। অথচ আমাদের দেশের দিকে তাকান। এত করে, সরকারের ওপর মহল থেকে বারবার বলা হচ্ছে করোনা থেকে নিজে বাঁচতে এবং বাকিদের বাঁচাতে ঘরে থাকতে, আমরা কি শুনছি? শুনছি না। আমাদের মতো দেশে এটা খুবই কঠিন। তবু আমাদের মানতেই হবে। বুঝতে হবে, মৃত্যুকে এড়াতে গেলে ঘরে থাকতেই হবে। একমাত্র এটাই পথ। দুই, সংক্রমণের কোনও আশঙ্কা থাকলেই শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি যাচাই করে দেখা, অর্থাৎ টেস্টিং বা পরীক্ষা। সংক্রমিত ব্যক্তির যথাযথ চিকিৎসা এবং কেবল রোগীকে নয়, রোগীর সংস্পর্শে আসা সমস্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে অবশিষ্ট সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা। যাতে তাদের কারণে সংক্রমণ না বাড়ে। বাস্তবে এমন গুরুতর পরীক্ষায় বাংলাদেশের গতি অত্যন্ত ধীর। বঙ্গবন্ধুকন্যা ভ্যাক্সিন হিরো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে সম্প্রতি টেস্টিং সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। যা জনসংখ্যার মাপকাঠিতে (৬/৪/২০২০ টেস্ট করা হয় মাত্র ৪৬৮টা) অতি নগণ্য। ফলে, পরীক্ষার অগোচরে অন্যের দেহে সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে চলেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে এমনটাই ঘটেছে। হঠাৎ করে সংক্রমণের সংখ্যায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। ঠিক একইরূপে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা যে নেই, বাংলাদেশ যে এখনও আগ্নেয়গিরির শিখরে দাঁড়িয়ে নেই, তাই বা কে বলবে?

পরীক্ষার ব্যাপ্তি এবং গভীরতা যদি আরও অনেক বাড়ানো না হয়, তাহলে আশঙ্কা প্রবল, ঘরবন্দিরাই কেবল সংক্রমণকে কিছুদিন ঠেকিয়ে রাখতে পারবে। শেষ রক্ষা হবে না। বিপদকে গুরুত্ব দিয়ে টেস্টের সংখ্যা ব্যাপক আকারে বাড়ানো প্রয়োজন। না হলে নুহ্ (আ.) নবীর জাহাজের ঘটনাই দেখা যাবে আবার। প্রলয়কালে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রজাতিকে বাঁচাতে মানুষ জাহাজে ভেসে পড়েছিল অনির্দিষ্ট পথে। পুরাণ ও বাইবেলের এই কাহিনী বাংলাদেশে বাস্তব সত্যি না হয়ে উঠুক এই প্রত্যাশা সকলের।

শেখ আনোয়ার : বিজ্ঞান লেখক ও গবেষক
xposure7@gmail.com