সংকট মোকাবেলায় ঘুরে দাঁড়াই

ঢাকা, শনিবার, ৩০ মে ২০২০ | ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

সংকট মোকাবেলায় ঘুরে দাঁড়াই

সাইদুল করিম মিন্টু ১:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০১, ২০২০

print
সংকট মোকাবেলায় ঘুরে দাঁড়াই

করোনা সারা বিশ্বে দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমরা এটাও জানি, বাংলাদেশ দুর্যোগ মোকাবেলায় রোল মডেল রাষ্ট্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন সময়ে যখন প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো হয়, দুর্যোগ পরবর্তীকালে সেই দেশগুলো মুষড়ে পড়ে। বিধ্বস্ত দেশগুলো অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়াতে বেশ সময় নেয়। কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তেমনটা হয় না। আমরা উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হলেও খুব দ্রুততার সঙ্গে সব দুর্যোগ মোকাবেলা করে নিই। ইতিহাস ঘাটলেও সেসব জানা যায়।

বাংলাদেশ বন্যা, সøাইক্লোন, ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলার ক্ষেত্রে একটি রোল মডেল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে আবির্ভূত হয়েছে। জনবহুল এই দেশে দুর্যোগে যথেষ্ট ক্ষয়ক্ষতি হলেও দুর্যোগ মোকাবেলা এবং ক্ষয়ক্ষতি হ্রাসে বাংলাদেশ আগে থেকেই প্রস্তুত থাকে। করোনা দুর্যোগ মোকাবেলাতেও তার ব্যত্যয় ঘটবে না। শুধু দুর্যোগই নয়, বিভিন্ন কঠিন রোগ মোকাবেলাতেও বাংলাদেশের দারুণ সাফল্যের কথা সবারই জানা।

বাংলাদেশ যক্ষ্মা, ডায়রিয়া, কলেরা, হামের মতো মহামারি থেকে উত্তরনে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই। শিশু মৃত্যুর হার, মাতৃমৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে পথিকৃৎ রাষ্ট্র। অমর্ত্য সেন বলেছেন, বাংলাদেশ যেভাবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সাফল্য অর্জন করেছে, তা বিশ্বের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

চীনের পর সারা বিশ্বে করোনা ভাইরাস যখন প্রবলভাবে ছড়াচ্ছিল, তখন আমরা স্বাভাবিকভাবেই চিন্তায় পড়ে যাই দেশেও বুঝি করোনার থাবা পড়ল। সেই আশঙ্কা, সেই আতঙ্ক গত ৮ মার্চ অবশেষে সত্যি হয়। দেশে প্রথম আক্রান্তের খবর পাওয়া যায়। তারপরই দেশে এ নিয়ে জনসাধারণের মনে আতঙ্ক বেড়ে যায়। প্রধানমন্ত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা এ বিষয়ে কাজ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সকল প্রোগ্রাম বন্ধ করেন। তিনি এদেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৫০০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তিনি ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন। সবাইকে দিকনির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘করোনা ভাইরাস মোকাবেলাও একটা যুদ্ধ, এই যুদ্ধে মানুষের দায়িত্ব ঘরে থাকা।’ এমনকি স্বাধীনতা দিবসের সকল কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেন। তিনি দেশের মানুষের কথা ভেবে ১০ দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেন। যাতে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে। পরে আবার এই সাধারণ ছুটি বাড়িয়ে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধে সহায়তার জন্য রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের জন্য পাঁচ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। যাতে এই সংকটপূর্ণ মুহূর্তে কোনো শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট না হয়। শুধু তাই নয় তিনি হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা ঝিনাইদহ পৌরসভা জেলা প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে সরাসরি তিন হাজার তিনশ‘ পরিবারের মাঝে খাদ্যদ্রব্য পৌঁছে দিয়েছি। যাতে কোনো শ্রমজীবী মানুষ অনাহারে না থাকে।

এছাড়া জনসাধারণের সচেতনতার লক্ষ্যে আমরা মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। ঝিনাইদহ শহরের বিভিন্ন জায়গায় হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করেছি। খেটেখাওয়া মানুষের মধ্যে মাস্ক, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ করেছি। যাতে এসব শ্রমজীবী মানুষ মুক্ত থাকে। করোনা দ্রুত একজনের থেকে আরেকজনের কাছে ছড়ায়। তাতে আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এই ভাইরাস পুরোপুরি ছড়াতে খুব অল্প সময় লাগবে। কিন্তু আশার কথা হল, এই দেশ লড়তে অভ্যস্ত।

বাংলাদেশকে কোনো ভাইরাস, কোনো দুর্যোগ দমাতে পারেনি কখনো। তাই করোনা নিয়েও আমরা চিন্তিত হলেও বিচলিত হওয়ার কারণ নেই। ইতোমধ্যে সরকারের পূর্বপ্রস্তুতির জন্য ভয়াবহতা কমানো সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ৫১ জন আক্রান্ত হয়েছে। তার মধ্যে ২৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। আক্রান্তদের মধ্যে পাঁচ জন মারা গেছে। তারা সবাই বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন।বর্তমানে বাংলাদেশে একটা ঝুঁকিপূর্ণ সময় অতিবাহিত হচ্ছে। আগামী দুই সপ্তাহ যেন আমরা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলি। নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস ধরে রাখি। তাহলে বাংলাদেশ এই সংকট মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াবে। আবার দেশের চলমান সকল উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল হবে। শ্রমজীবী মানুষ কাজে ফিরে যাবে। গ্রামে, শহরে মানুষের ব্যস্ততা বাড়বে। কর্মস্থলে ছুটে চলবে সবাই। প্রাণ ফিরে পাবে বাংলাদেশ।

সাইদুল করিম মিন্টু : সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামী লীগ
ঝিনাইদহ জেলা