এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ নয়

ঢাকা, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২০ | ২২ চৈত্র ১৪২৬

এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ নয়

মোহাম্মদ নজাবত আলী ৬:৪৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৫, ২০২০

print
এই বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশ নয়

আজ ২৬ মার্চ, মহান স্বাধীনতা দিবস। প্রত্যেক জাতির আশা আকাক্সক্ষার মূর্ত প্রতীক তার স্বাধীনতা কারণ স্বাধীনতাহীনতায় কেউ বাঁচতে চায় না। কিন্তু যুগ যুগ ধরে বাঙালি জাতি পরাধীন ছিল। পরাধীন শাসনে বাঙালি জাতি হয়েছে নিষ্পেষিত। বিভিন্ন শ্রেণির শাসকগোষ্ঠী এ বঙ্গীয় নামক জনপদ শাসন শোষণ করেছে। কিন্তু দীর্ঘদিন কারও কাছে মাথা নত করে থাকা বাঙালির স্বভাব নয়। তাই পরাধীন শৃঙ্খল ভাঙতে আমাদের অতীত বীর সন্তানরা লড়াই করেছে। সংগ্রাম করেছে প্রিয় স্বাধীনতার জন্য।

এ বছর আমরা স্বাধীনতার ৪৯তম দিবস পালন করছি। স্বাধীনতা মানে আত্মমর্যাদা। আত্মমর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকা। সকল প্রকার অনাচার, বৈষম্য, শোষণ, নির্যাতনের বিপরীতে আইনের শাসন, ন্যায় বিচার, সুষম বণ্টন, অর্থনৈতিক মুক্তি, মানবিক মূল্যবোধ, অসাম্পদায়িক গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা গড়ে তোলা। এইগুলোই আমাদের আত্মমর্যাদা। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। একটি স্বাধীন জাতি আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কারণ পরাধীন জাতির কখনো আত্মমর্যাদা থাকে না এবং আত্মমর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকতেও পারে না। একসময় দিল্লির সম্রাট পঞ্চম জজ ভারতের কংগ্রেস নেতা গোখেলকে একটি প্রশ্ন করেছিলেন, তোমরা স্বাধীনতা চাও কেন? গোখেল সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলেন, আমরা স্বাধীন হয়ে আত্মমর্যাদা ফিরে পাব। সম্রাট পাল্টা প্রশ্ন করলেন, তোমাদের আত্মমর্যাদা কী করে হবে? কারণ তোমরা তোমাদের নারীদের যে অধস্তন অবস্থায় রেখেছ তাতে তোমরা স্বাধীন হলেও আত্মমর্যাদা ফিরে পাবে না।

গোখেল তখন সরাসরি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে স্বাধীনতার সঙ্গে আত্মমর্যাদার সম্পর্ক যে অতি ঘনিষ্ঠ তা বলার চেষ্টা করেন। প্রকৃতপক্ষেই স্বাধীনতা না থাকলে কোনো জাতির আত্মমর্যাদা থাকে না। তবে সম্রাট পঞ্চম জজ নারীদের ব্যাপারে যে ইঙ্গিত করেছিলেন সেক্ষেত্রে নারীদের যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে, নারী শিক্ষার প্রসার ও ক্ষমতায়ন হয়েছে। কিন্তু নারীর মর্যাদা ও সম্মানজনক অবস্থা এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস। বাঙালির অতীত গৌরবময় ঐতিহ্য রয়েছে। সেই খুদিরাম, তিতুমীর, সিরাজুদৌল্লা থেকে শেখ মুজিব পর্যন্ত বাঙালি জাতির গর্ব, অহংকার। বাঙালি বীরের জাতি। সুকান্ত ভট্টাচার্য লিখেছেন, সাবাস বাংলাদেশ, এ পৃথিবী অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে ছাড়খার তবুও মাথা নোয়াবার নয়।

বাঙালি জাতি একাত্তরে মাথা নোয়ায়নি। কারণ, কারো শাসন শোষণে থাকা বাঙালি জাতির স্বভাববিরুদ্ধ। তাই একাত্তরে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গোটা বাঙালি জাতি জেগে উঠেছিল বিজাতীয় শাসক, শোষকের বিরুদ্ধে। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতার স্বাদ পেতে জাতি মরণপণ যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। একাত্তরে বাঙালি যে শৌর্য বীর্যের ইতিহাস রচনা করেছেন তা চির জাগরুক থাকবে ইতিহাসের পাতায় অনাদিকাল। ২৬ মার্চ জাতীয় জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। কারণ এই দিনেই ঘোষিত হয়েছিল আমাদের স্বাধীনতা। তাই দিনটির জন্য জাতিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে যুগ যুগ ধরে। একাত্তর সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাযজ্ঞ শুরুর পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন বাঙালি জাতির গৌরবময় স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিংসবাদিত নেতা। মূলত তার নেতৃত্বেই বাঙালি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তিনি খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু পরে জাতির পিতার অভিধায় অভিষিক্ত হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পশ্চিম পাকিস্তান কারাগারে বন্দি থাকলেও পরবর্তী ৯ মাস তারই আদর্শিক নেতৃত্বে বীর বাঙালি যুদ্ধ করেন। ১৬ ডিসেম্বর ৯৩ হাজার সৈন্য নিয়ে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশ স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বিশে^র মানচিত্রে প্রতিষ্ঠা পায়।

মুক্তিযুদ্ধের কতগুলো লক্ষ্য উদ্দেশ্যের মধ্যে অন্যতম ছিল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ যেখানে ধর্মীয় কোনো বিভাজন বা বিদ্বেষ থাকবে না। বাংলাদেশের পরিচয় হবে বহির্বিশ্বে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ যা হাজার বছরের বাঙালির ঐতিহ্য। আমাদের লক্ষ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশ হবে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত। শোষণমুক্ত সমাজ ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ ও সমতাভিত্তিক একটি সমাজ। সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। উল্লেখযোগ্য এ আদর্শগুলোকে সামনে রেখে একাত্তরের এ দেশের মুক্তিপাগল জনতা এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জয়ী হয়। মূলত বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন এবং তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে দেশকে সমৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে এবং বিশ্বে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে স্বাধীনতার ৪৮ বছর অতিক্রম করে ৪৯ বছরে পদার্পণ করল। এ ৪৮ বছরে আমাদের অর্জন একেবারে কম নয়।

মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ নিয়ে গর্বের শেষ নেই। তাই বাংলাদেশ নিয়ে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। দেশ বিদেশ বিশেষ করে জাতিসংঘও বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। বিদেশি পত্রিকা ভারতের প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফসহ বিভিন্ন বিদেশি গণমাধ্যম এখন বাংলাদেশের এগিয়ে চলার বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরছে। অথচ স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় ছিল, মার্কিন রাজনীতিবিদ হেনরি কিসিঞ্জার বাংলাদেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে অ্যাখ্যা দেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বিজয়ের ৪৮ বছর পর সেই বাংলাদেশ আর নেই। এখন উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। আর্থিক দিক থেকে বাংলাদেশ এখন শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে। অজপাড়াগাঁয়ের মানুষও এখন আর্থিক দিক থেকে অনেকটা  স্বাবলম্বী।

প্রতিপক্ষরাও অস্বীকার করতে পারবে না যে স্বাধীনতা ৪৮ বছরে বাংলাদেশ সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। বহির্বিশে^র চোখে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল, এশিয়ার বাঘ। ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের দিকে প্রগতির দিকে। গ্রামের গরিব দুঃখী সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বেড়েছে। বাংলাদেশের শিক্ষা, শিল্প, কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। শিক্ষায় দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। নারী শিক্ষার ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায় নারী শিক্ষায় বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের চেয়ে এগিয়ে। কৃষিতে ব্যাপক পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন। এক সময় কৃষি উপকরণ সারের জন্য কৃষককে প্রাণ দিতে হয়েছিল। সে অবস্থা আর নেই। বিদ্যুতের সংকটের কারণে আবাদি জমির ফসল মরতে বসেছিল সে সংকট আর নেই। সিংহভাগ বিদ্যুতের সংকট কেটে গেছে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, দুর্নীতি, দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে হাসিনা সরকার চ্যালেঞ্জিং ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সরকার সফলতার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। দারিদ্র্য, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে। গড় আয়ু, মানুষের জীবনযাত্রার মান বেড়েই চলেছে। শুধু নারী শিক্ষায় নয়, সামাজিক সূচকেও বাংলাদেশ ভারত, পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে।

সুখী, সমৃদ্ধ আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার সাহসী পথচলা বিশ্ববাসীর প্রশংসা অর্জন করেছে। একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তার মেধা, মনন, সাহস, ধৈর্য্য, দেশপ্রেম অতুলনীয়।

শেখ হাসিনার নিরলস প্রচেষ্টা দেশের উন্নয়নে অবদান শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও দৃষ্টি কেড়েছে। সারা বিশ্বের সফল ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রনায়কের তালিকায় শেখ হাসিনার নাম উঠে এসেছে যা আমাদের গর্ব। বিশ্বের শক্তিধর রাষ্টগুলো বিশেষ করে ভারত-চীন আমেরিকা-রাশিয়ার সঙ্গে বর্তমান সরকারের কাছে সুসম্পর্ক রয়েছে। এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করেন। এককথায় বলা যায়, শেখ হাসিনা তার দক্ষতার রাজনৈতিক দূরদর্শিতায় বাংলাদেশকে এমন উচ্চ স্থানে নিয়ে গেছেন যার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে তার প্রতি আত্মবিশ্বাস ও আস্থা তৈরি হয়েছে। টানা ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার কারণে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক দিক থেকে সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। তার দৃঢ়চেতা মনোভাব, সাহস, মৃত্যু-ভয়হীন, দেশের অগ্রগতি উন্নয়নে সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বদলে দিচ্ছে বাংলাদেশকে। দিন বদলের পথে এখন বাংলাদেশ। তার অতুলনীয় দেশপ্রেম, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দৃঢ় মনোভাব, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা বিশ্ববাসীর নিকট সঠিক নেতৃত্বের একজন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। 

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এক ও অভিন্ন। মুক্তিযুদ্ধের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার মধ্যে আমরা ইতোমধ্যেই অনেক কিছু অর্জন করেছি। শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন আর মঙ্গাপীড়িত দেশ বা তলাবিহীন ঝুড়ি নয়। বাংলাদেশ এখন বিশ্ববাসীর কাছে উন্নয়নের রোল মডেল।

যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নকল্পে বড় বড় প্রকল্পগুলোর বিশেষ করে পদ্মাসেতু নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের পথে, দারিদ্র্য বিমোচনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারের সাফল্য দৃশ্যমান। আগামী ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে বাংলাদেশ মধ্য আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শেখ হাসিনা। তাই বাংলাদেশ কোনো দিক থেকে আর পিছিয়ে নেই। উন্নতি সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে। দুর্বৃত্ত চক্র ও লুটেরা আমাদের অর্থনীতির গতিকে মন্থর করছে। দুর্নীতিবাজ, লুটেরাদের শৃঙ্খল ভাঙতে হবে। কারণ দুর্নীতিই উন্নতির প্রধান বাধা। বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি সুখী সমৃদ্ধ, আত্মনির্ভরশীল অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

তার এগিয়ে যাওয়া মানেই বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এগিয়ে যাওয়ার প্রধান বাধা দুর্নীতি। বঙ্গবন্ধুও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিলেন। তবে আশার কথা, দেশকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিমুক্ত করতে শেখ হাসিনা সম্প্রতি দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করেছেন যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ অভিযানে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ মূল দলের কেউ ছাড় পাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর এ অভিযানকে দেশবাসী স্বাগত জানিয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখতে সরকারি ও বেসরকারি সব সেক্টরে দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ব্যবস্থা ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী এ অভিযান পরিচালনা করছেন। এ সফলতার ধারা শেষ পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পারলে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের বুকে একটি উন্নয়নভিত্তিক আদর্শ ও গর্বিত দেশ।

মহান স্বাধীনতা দিবসে আসুন আমরা শপথ নিই, একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলার। দেশকে ভালোবাসি এবং শোষণ দুর্নীতিমুক্ত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে যার যার অবস্থান থেকে অবদান রাখি। আমাদের পেছনে ফিরে তাকানোর কোনো সময় নেই। সময় এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার। দিন বদলের পথে বাংলাদেশ। আজকের এ মহান দিনে স্মরণ করি স্বাধীনতা ও মুক্তির মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও লাখো শহীদদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা।

 

মোহাম্মদ নজাবত আলী : সহকারী শিক্ষক, চামরুল উচ্চ বিদ্যালয়, দুপচাঁচিয়া, বগুড়া