কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক

ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১২ ফাল্গুন ১৪২৬

পাঠকের মতামত

কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক

নুরুল ইসলাম নূর ৮:৫৪ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ২৫, ২০২০

print
কক্সবাজারে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হোক

দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি, উপমহাদেশের প্যারিস খ্যাত দেশের সর্ব দক্ষিণের জেলা কক্সবাজার। সাগর-পাহাড়ের অপূর্ব মিতালি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধ ঐতিহ্য, নানা ধর্মের-বর্ণের মানুষের অসাম্প্রদায়িক সহাবস্থান, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্যের সমাহারসহ প্রকৃতির ভিন্নতর বৈশিষ্ট্যের কারণে কক্সবাজার একেবারেই অনন্য।

বলা হয়, স্বাস্থ্যকর স্থান এবং নৈসর্গিক সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত কক্সবাজার। মেরিন ড্রাইভ ধরে ভ্রমণ যেন হার মানিয়ে দেয় যেকোনো নয়নাভিরাম দৃশ্যকে। কক্সবাজার শহর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সাগর ও পাহাড়ের বুক চিরে চলে গেছে দীর্ঘ ৮০ কিলোমিটার সড়কটি। বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের পাশ দিয়ে তৈরি বিশ্বের দীর্ঘতম মেরিন ড্রাইভ। এরই পাশে গড়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্প; কুতুপালং। আর এ রোহিঙ্গা সংকটকে বলা হচ্ছে এই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট।

এ রকম নানা কারণে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি নিবদ্ধ হয়েছে কক্সবাজারে। এখানে রয়েছে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনসহ প্রধান ৭টি দ্বীপ। আর সাগর-পাহাড়কেন্দ্রিক নানা আয়োজন। বিশেষ করে সার্ফিং, প্যারাসাইলিং, স্কুবা ডাইভিংয়ের মত অ্যাডভেঞ্জার একেবারেই ভিন্নতর।

কক্সবাজার বাংলাদেশের একটি ঐতিহ্যবাহী জেলা। এর উপজেলা আটটি, থানা আটটি, ইউনিয়ন ৭১টি, গ্রাম ৯৯২টি। ২০১১ সমীক্ষা অনুযায়ী আয়তন ২৪৯১.৮৬ বর্গ কিলোমিটার এবং নাগরিক ২২,৮৯,৯৯০ জন। শিক্ষার প্রতিটি স্তরসহ সব সেক্টরে অবদান রেখে চলেছে কক্সবাজারের অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থীরা। নিজে সুশিক্ষিত হয়ে সারা দেশ এমনকি বিশ্বব্যাপী শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন অনেকজন। কক্সবাজারের রয়েছে অসংখ্য সম্ভবনাময় মানবসম্পদ। রয়েছে দেশসেরা ব্যারিস্টার, ম্যাজিস্ট্রেট, অ্যাডভোকেট, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কবি-সাহিত্যিক, লেখক-প্রাবন্ধিক, প্রতিষ্ঠিত সেরা ব্যবসায়ী, রয়েছে আরো কত স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব।

আরো রয়েছে রাজধানীর সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, দেশের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন শহর, আকর্ষণীয় পর্যটন নগরী, মনোরম পরিবেশ। একটি আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়ামও রয়েছে এ জেলায়। বিদ্যমান আকাশপথের পাশাপাশি শীঘ্রই চালু হচ্ছে মিটারগেজ রেলপথ। রপ্তানিযোগ্য হোয়াইট গোল্ড খ্যাত চিংড়ি, লবণ, সামুদ্রিক মাছ, মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদ, শামুক, রাবার বাগান, বনজ সম্পদ ইত্যাদিতে ভরপুর অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময়। বিশ্বের সর্ববৃহৎ সমুদ্রসৈকত, শীতল পানির ঝর্ণা, বিরল কোরাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন, রামু বৌদ্ধ মন্দির, আদিনাথ মন্দির, এবং দেশের প্রথম বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রসহ ভ্রমণপিয়াসীদের প্রধানতম পছন্দ।

কক্সবাজারে রয়েছে হাজারো স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, পলিটেকনিক, মেডিকেল কলেজসহ আরো নানা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু দুঃখজনক সত্যি হচ্ছে এত অদ্বিতীয় সমন্বিত ও সম্ভাবনাময় হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নেই। যেটি দারিদ্র্যপীড়িত ও সৃজনশীল, দেশপ্রেমিক আগামী প্রজন্মের জন্যে স্বশিক্ষিত হওয়ার প্রধান অন্তরায়।

কক্সবাজার জেলার হাজারো শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। তবুও অকালে ঝরে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিচ্ছু হাজারো শিক্ষার্থী। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিনের লালিত বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে যাচ্ছে। এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে কক্সবাজার একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি আকর্ষণ করছি যেন কক্সবাজারে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়।

নুরুল ইসলাম নূর : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
nurulislamnoor29@gmail.com