আইন মানতে হবে যথাযথভাবে

ঢাকা, রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২০ | ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭

আইন মানতে হবে যথাযথভাবে

মাহবুব নাহিদ ৮:৫৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ০৭, ২০১৯

print
আইন মানতে হবে যথাযথভাবে

আইন, অপরাধ ও বিচার একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আইন অমান্য করলেই হয়ে যায় অপরাধ। আর অপরাধ করলে তার জন্য বিচার হয়। আইন হচ্ছে নাগরিক বাধ্যতা, নাগরিক শিষ্টাচার, করণীয়। সমাজের ভিত্তি নির্মাণের জন্য আইন প্রতিষ্ঠিত হয়। কিছু কিছু আইন হয় প্রাতিষ্ঠানিক আর কিছু হয় অপ্রাতিষ্ঠানিক।

প্রাতিষ্ঠানিক আইনের বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই লিখিত তথ্য থাকে। আইন প্রয়োগের জন্য থাকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান। আইন প্রয়োগ ও আইনের বাস্তবায়নের জন্যও ভিন্ন ভিন্ন দল থাকে। দেশীয়, আন্তর্জাতিক, সামাজিক, পারিবারিক, প্রাতিষ্ঠানিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবন পরিচালনা করতে হয় মানুষকে।

আইনের পরিপন্থী যে কোনো কাজই হচ্ছে অপরাধ। আইন অমান্য করলে তা অপরাধের আওতায় পড়ে। যদিও অপরাধের মধ্যে লঘু অপরাধ আর গুরু অপরাধ বলে কথা আছে। আর অপরাধ করলে আইনের নিয়মানুযায়ী তার জন্য বিচার পেতে হয়। একটা দেশ কিংবা প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একটি হচ্ছে বিচার বিভাগ। বিচার বিভাগ যদি স্বাধীন না হয়, বিচার বিভাগ যদি নিজের প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে তখন পুরো দেশ বা সমাজব্যবস্থা একদম ভেঙে পড়ে।

এবার আসি আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীলতার জায়গায় আমরা পৃথিবীতে র‌্যাংকিং করলে একদম তলানির দিকে থাকতে পারি। আইন মানতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। সামান্য ট্রাফিক আইন থেকে শুরু করে বড় বড় আইন, কোনো কিছুই আমরা সহজে মানতে চাই না। রাস্তায় ট্রাফিক সিগন্যাল দেখে আমাদের কাজ হয় না, তবে ট্রাফিক পুলিশ দেখলে ঠিকই নিয়ম মানি।

অপরাধ আমাদের দেশে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে। অপরাধী মানে শুধুই অপরাধী। অপরাধীদের অনেকে ধর্ম, বর্ণ, জাতি দিয়ে বিশ্লেষণ করতে চায়। কিন্তু অপরাধীদের কোনো বিশেষ পরিচয় থাকে না। আমাদের দেশে অপরাধ হতে হতে এখন চরম পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মানবিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত পর্যায়ে অবস্থান করছি আমরা। মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটছে।

একজন আরেকজনকে খুন করে ফেলতে দ্বিধাবোধ করে না। এই খুনের প্রক্রিয়া মিশে গেছে পরিবারের মধ্যেও মা ছেলেকে, বাবা সন্তানকে, স্বামী স্ত্রীকে খুন করছে এমন ঘটনা খুবই স্বাভাবিক পর্যায়ে চলে গেছে এখন। শুধু খুন করা নয়, ঘটছে আরও নানা ধরনের গর্হিত অপরাধ। সন্ত্রাস, মাদক বেড়ে চলছে দিন দিন। অপরাধ জগতের অন্যতম একটি পরিচিত ও বিকৃত নাম হচ্ছে ধর্ষণ। ধর্ষণের ঘটনা

আমাদের দেশে নৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তা, বাড়ি, গণপরিবহন যেখানেই হোক না কেন, একা একটা নারী মানেই বিপদের সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা। ধর্ষণের করাল গ্রাস থেকে রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও। একেবারে বাচ্চা শিশুকে ধর্ষণ করতেও কুণ্ঠা বোধ করে না এখনকার অপরাধীরা।

এবার আসি বিচারের বিষয়ে। অপরাধ ঘটার পর যদি দ্রুত ও যথাযথ বিচার না হয় তবে অপরাধীদের মানসিক শক্তি বেড়ে যায়। তাদের মানসিক শক্তি বাড়ার মানে হচ্ছে অপরাধও বেড়ে যাওয়া। অর্থাৎ বিচারহীনতা অপরাধ বাড়ার কারণ হিসেবে অন্যতম। বিচারে দেরি হওয়াও সঠিক বিচার না হওয়ার কারণ।

আমরা আজকাল কিছু কিছু অপরাধের ক্ষেত্রে কিছুটা দ্রুততা ও শাস্তি হওয়ার ঘটনা দেখতে পেয়েছি। তবে সাধারণত বিচারে দীর্ঘসূত্রতা, বিলম্ব হওয়া আমাদের দেশে সাধারণ বিষয়। বিশেষ আইনে বা বিশেষ আদালতে বিচার হলে হয়তো তাড়াতাড়ি বিচার আসা করা যায়। কিন্তু সে ক্ষেত্রেও আপিল করার সুযোগ থাকে বলে দেরি হতে পারে।

আলোচিত অনেকগুলো মামলাই অমীমাংসিত থেকে গেছে এখনো। এই ঘটনা কখনই আশাব্যঞ্জক নয়। বিচার বিভাগ নিয়ে কথা বলা সঠিক নয়। তবে বিচার যদি সঠিক না হয় তাহলে মানুষ কথা বলবেই।

সর্বোপরি, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে দেশের প্রত্যেক মানুষকে। আইন মানতে হবে যথাযথভাবে। আইন অমান্য করা এবং অপরাধে যুক্ত হওয়া যাবে না। অপরাধের সঠিক ও দ্রুত বিচারে সচেষ্ট থাকতে হবে বিচারিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে।

মাহবুব নাহিদ : কলাম লেখক।