বায়ুদূষণের ভয়াবহতা ও প্রতিকার

ঢাকা, বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯ | ২৯ কার্তিক ১৪২৬

বায়ুদূষণের ভয়াবহতা ও প্রতিকার

রাশেদ আহমেদ ৯:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

print
বায়ুদূষণের ভয়াবহতা ও প্রতিকার

বায়ুদূষণ বরাবরই পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি। অভ্যন্তরীণ এবং বহিরাঙ্গনের বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী প্রায় সাত মিলিয়ন মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এছাড়াও দূষণজনিত কারণে স্ট্রোক, হৃদরোগ, ফুসফুস ক্যান্সার, ফুসফুসের অসুখ এবং তীব্র শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সংক্রমণ দেখা দেয়।

বায়ুদূষণ এড়ানো বেশ কঠিন। পৃথিবীর সব জায়গাতেই বায়ুদূষণজনিত সমস্যা রয়েছে। বায়ুতে থাকা বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান আমাদের শ্বাসযন্ত্রের গভীরে প্রবেশ করে দেহের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙে ফুসফুস, হার্ট এবং মস্তিষ্কে ক্ষতিসাধন করে।

২০১৯ সালের মার্চ মাসে প্রকাশিত এক বৈশ্বিক প্রতিবেদনে বিশ্বে সবচেয়ে দূষিত রাজধানীগুলোর মধ্যে ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। ঢাকার বায়ুদূষণের চিত্র নতুন কোনো বিষয় নয়। ‘বাংলাদেশে পরিবেশগত বিশ্লেষণ-২০১৮’ শিরোনামের বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ দেশে পরিবেশ দূষণজনিত রোগে প্রতি বছর ৮০ হাজার মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে। এক বছরে বাংলাদেশে বিভিন্ন রোগে বা চিহ্নিত কারণে যত মৃত্যু হয়, তার ২৮ শতাংশই হয় পরিবেশ দূষণজনিত রোগে, যা প্রতি বছর বৈশ্বিক দূষণজনিত মৃত্যুহারের (১৬) চেয়ে ১২ শতাংশ বেশি।

আমরা সবাই মনে করি অভ্যন্তরীণ বাতাসের চেয়ে বাইরের বাতাস বেশি বিষাক্ত, আসলে কি তাই? গবেষকরা বলছেন, অভ্যন্তরীণ কক্ষের অর্থাৎ সাধারণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের বায়ুদূষণের পরিমাণ বহিরাঙ্গনের বায়ুদূষণের চেয়ে ২-৫ গুণ বেশি এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে উন্মুক্ত স্থানের বাতাসের চেয়ে ১০০ গুণ বেশি হয়ে থাকে। অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ বিভিন্ন কারণে হয়ে থাকে। বাইরের ধুলোবালি এবং অভ্যন্তরীণ ধুলা উৎপাদক যেসব উপাদান রয়েছে যেমন ঘরদোর পরিষ্কার, নির্মাণাধীন বিভিন্ন স্থাপনার ধূলিকণা, রান্নার কাজে ব্যবহৃত জ্বালানি এবং প্রযুক্তি, তাপ উৎপাদনকারী বিভিন্ন সামগ্রী, আলোর বিভিন্ন ধরনের উৎস। এ ছাড়াও অন্যান্য অনেক উৎসের কারণে অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ হয়ে থাকে।

অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের কারণে গর্ভবতী নারী এবং শিশুরাও মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। উল্লেখ্য, বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় তিন মিলিয়ন শিশু স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে আগে জন্মগ্রহণ করে।

সামনে শীতের মৌসুম। শীতের কবল থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে এ সময় খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে রাখি। এ কারণে ঠাণ্ডা বাতাস আমাদের ঘরের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে না, যা অভ্যন্তরীণ বাতাসের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অভ্যন্তরীণ দূষিত বায়ু ঘর থেকে বেরুতে না পারলে তা আরও ক্ষতিকর রূপ ধারণ করে। এর ফলে সৃষ্ট ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক এবং ধূলিকণা খুব সহজেই যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে, যদি না তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়।

দূষণ সৃষ্টিকারী উপাদানসমূহ থেকে ঘরের অভ্যন্তরীণ বায়ুকে খুব সহজেই রক্ষা করা যায়। সাধারণত, অভ্যন্তরীণ বায়ুর মানের উন্নতির সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হলো দূষণে উৎসগুলো নির্মূল করা বা তাদের নির্গমন হ্রাস করা।

তাপ উৎপাদনকারী যেসব উৎস রয়েছে যেমন গ্যাস স্টোভ। এগুলোর নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে রাখা যায়। বাসাবাড়ি, অফিস এবং গাড়িতে সঠিকভাবে ভ্যান্টিলেশন ব্যবস্থা রাখলে বায়ুদূষণের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে। ধূলাবালিতে থাকা ব্যাকটেরিয়া নানা ধরনের অসুখের সৃষ্টি করে। ব্যাকটেরিয়াজনিত অসুখ থেকে বাঁচতে ঘরে লাগানো যেতে এয়ার পিউরিফায়ার। বাজারে অনেক রকমের এয়ার পিউরিফায়ার রয়েছে কিন্তু অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ থেকে রক্ষা পেতে প্রয়োজন ভালো মানের এয়ার পিউরিফায়ার। ভালো মানের এয়ার পিউরিফায়ার বায়ুবাহিত ধূলিকণা থেকে প্রায় ৯৯ শতাংশ সুরক্ষা প্রদান করবে। অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণ হ্রাস এবং সুস্বাস্থ্যের লক্ষ্যে, সিঙ্গার দেশে নিয়ে এসেছে সুইডিশ প্রযুক্তিতে নির্মিত ব্লু-এয়ার এয়ার পিউরিফায়ারের সম্ভার। বাজারে পাওয়া যাচ্ছে তিনটি মডেলের ব্লু-এয়ার এয়ার পিউরিফায়ার- ব্লু-এয়ার ক্লাসিক ২০৩ স্লিম, ব্লু-এয়ার ক্ল্যাসিক ৪০৫ এবং ব্লু-এয়ার ক্ল্যাসিক ৬৮০ আই।

ব্লু-এয়ার এয়ার পিউরিফায়ারে রয়েছে বায়ু প্রতিরোধী ফিল্টার। ফলপ্রসূভাবে সিগারেটের ধোঁয়া, যানবাহনের দূষণ, ধোঁয়া, রাসায়নিক পদার্থ থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া এবং দুর্গন্ধ প্রতিরোধে বাজারে থাকা অন্যান্য ব্র্যান্ডের এয়ার পিউরিফায়ার থেকে ব্লু-এয়ার এয়ার পিউরিফায়ার অধিক কার্যকর। পিউরিফায়ারগুলোর পেটেন্টেড এইচইপিএ সাইলেন্ট ফিল্টার অন্যান্য যেসব দূষণ রয়েছে যেমন-অ্যালার্জি সৃষ্টিকারী জীবাণু, পরাগ, জীবাণুর বীজ, ধুলা এবং পোষা প্রাণী থেকে সৃষ্ট অ্যালার্জি প্রতিরোধে কার্যকরি ভূমিকা পালন করে। যাদের রাসায়নিক পদার্থে সমস্যার সৃষ্টি হয় কিংবা যারা ধোঁয়া এবং দুর্গন্ধ থেকে নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চান তাদের জন্য নতুন এই পিউরিফায়ারগুলো একটি আদর্শ পণ্য। এই এয়ার পিউরিফায়ারগুলোর জন্য বেশি জায়গা প্রয়োজন পড়ে না এবং পণ্যগুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এবং শব্দহীন। ব্লু-এয়ার এয়ার পিউরিফায়ারগুলোর দাম শুরু হয়েছে ১৯,৯৯০ টাকা থেকে।

বহিরাঙ্গনের বায়ুদূষণ থেকে নিজেকে সুরক্ষিত রাখা প্রায় অসম্ভব। তবে আমরা চাইলেই অভ্যন্তরীণ দূষণের ঝুঁকি কমাতে পারব। যেহেতু আমরা দিনের বড় একটি সময় ঘরের ভেতরে পার করি, সেক্ষত্রে নিজের ও পরিবারের সুস্থতার জন্য অভ্যন্তরীণ বায়ুদূষণের ঝুঁকি যতটা সম্ভব কমানো উচিত। এজন্য সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াটা জরুরি। একটি সঠিক পদক্ষেপ নানা রোগ থেকে নিজেদের রক্ষার মাধ্যমে সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হতে সাহায্য করবে।

রাশেদ আহমেদ : সাংবাদিক