বিশ্বনন্দিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন

ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৪ অক্টোবর ২০১৯ | ৯ কার্তিক ১৪২৬

বিশ্বনন্দিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন

ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ ৮:২৫ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ২৮, ২০১৯

print
বিশ্বনন্দিত প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন

কখনো কখনো একটি জাতির ওপর অমানিশার ঘোর অন্ধকার নেমে আসে। মহান সৃষ্টিকর্তা সদয় হয়ে সে জাতিকে উদ্ধারে তার পছন্দনীয় কারও ওপর সে দায়িত্ব অর্পণ করেন। প্রণিধানযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে নিঃসন্দেহে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ও তার জ্যেষ্ঠ কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তুল্য কোনো রাজনীতিবিদ বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেননি, সেজন্য তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। তারই ঔরসজাত জ্যেষ্ঠ সন্তান কৃষকরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা, যিনি ১৯৪৭ সনের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় স্রষ্টার পক্ষ থেকে বর হয়ে বাঙালি জাতির ত্রাণকর্তা হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন।

জাতির জনক সারা জীবন বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন, নেতৃত্ব দিয়েছেন, সাড়ে ১৪ বছর জেল খেটেছেন এবং তার নির্দেশে কোটি জনতা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়ে যখন সার্বিক মুক্তি ও উন্নয়নের পথে অগ্রগামী হয়েছিল তখনই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী চক্রের ষড়যন্ত্রে তিনি সপরিবারে শহীদ হন। জাতির চরম সংকটে, অন্ধকারে নিমজ্জিত জাতিকে পুনরুদ্ধারে জীবনবাজি রেখে, দেশে ফিরে ১৯৮১ সালে মানবতার মা জননেত্রী শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে দেশকে আলোর পথে এগিয়ে নেন। তিনি বাঙালি জাতিকে পুনরুজ্জীবিত করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার পথে ধাপে ধাপে দেশকে উন্নীত করে চলেছেন অবিরামভাবে।

কেন তিনি অতুলনীয়? কোনো বাঙালি নারী তার অবদানের সমতুল্য? যদি বলি বিশ্বের কোনো নারী তার সমতুল্য? তার সততা, সাহস, ত্যাগ, দেশপ্রেম, মায়ামমতা, বিচক্ষণতা, মানবতা, সফল নেতৃত্ব, দৃঢ়তা, পরিশ্রম, ন্যায়নিষ্ঠা, নির্লোভ, সহজসরল জীবনযাপন, দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক উন্নয়নে ভূমিকা, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠাসহ প্রযুক্তিগত উন্নয়নে তার সমতুল্য কে? নারীপুরুষ নির্বিশেষে কয়জন তার সমতুল্য?

তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চারবার নির্বাচিত হয়েছেন। পৃথিবীর অন্য যে কোনো নারীর তুলনায় এটি ব্যতিক্রম। দেশ-বিদেশে তার অবদানের স্বীকৃতিই কি প্রমাণ করে না তিনি অতুলনীয়? তিনি ৩৮টি আন্তর্জাতিক পদক পেয়েছেন। তিনি নিজ দেশের কল্যাণে বিশেষ করে নারী ও শিশু উন্নয়নে আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতায় অবদানের জন্য, শান্তি প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নতকরণ, আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, মানবতা প্রতিষ্ঠা, নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা তৈরি, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস, আইসিটি ডেভেলপমেন্ট, লিঙ্গবৈষম্য হ্রাসকরণ, মাতৃমৃত্যু হ্রাস, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য নিরসন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, পরিবেশ উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য এসব পদক পেয়েছেন।

তিনি ১১টি বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ব্যবস্থাকরণসহ আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। সংবিধান সমুন্নতকরণসহ জাতির পিতার হত্যাকারীদের বিচারের সাহসী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। গঙ্গা নদীর পানিচুক্তি, পার্বত্য শান্তিচুক্তি, যমুনা নদীর ওপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ, পদ্মাসেতু নির্মাণের সাহসী পদক্ষেপ, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়া, রেকর্ড পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষক, ভূমিহীন ও দুস্থদের উন্নয়নে ভূমিকা, বিভিন্ন ভাতা প্রদান, শিক্ষা ও চিকিৎসা ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন, দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নয়ন, বর্ধিত সমুদ্রসীমা অর্জন, মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বৃদ্ধি, দরিদ্র হার হ্রাস, মানব উন্নয়ন, গবেষণা খাতে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানো, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে রেকর্ড, শিল্পায়ন ত্বরান্বিতকরণ, কৃষি উন্নয়ন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন, মহাশূন্যে স্যাটেলাইট প্রেরণ ইত্যাদি হাজারো বিষয়ে রেকর্ড পরিমাণ উন্নয়ন সারা বিশ্বে স্বীকৃত।

নারী উন্নয়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা ও শিক্ষার প্রসারে তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে নোবেল পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা উপযুক্ত বলে আমি মনে করি। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে টেকসই উন্নয়ন বাস্তবায়নে বিভিন্ন কর্মসূচি তিনি গ্রহণ করেছেন। আজ সারা জাতি আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার নির্দেশে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

বর্তমানে দেশের শান্তিময় পরিবেশকে অশান্ত করার লক্ষ্যে একটি পক্ষ অনবরত নানান কায়দায় প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব পন্থায় ব্যর্থ হয়ে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা তৈরির কৌশল অবলম্বন করছে, কোমলমতি ছাত্রছাত্রীর ওপর ভর করে। সরষে ভূত রয়েছে! সচেতন হওয়ার সময় নয় কি? আসুন আমরা সবাই ইতিবাচক কর্মকা-কে এগিয়ে নেই। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখি পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার শুভ জন্মদিনে এ প্রতিজ্ঞাই হোক সবার।

সবার প্রতি আহ্বান ভুল পথ পরিহার করে সত্যপথে, দেশগড়ার পথে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আস্থা রেখে এগিয়ে চলুন। তবেই এ অতুলনীয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিশ্রম সার্থকতায় রূপ নেবে। আমরা পাব বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। এই দিনে মহান আল্লাহতায়লার কাছে তাঁর দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য, সুখী ও শান্তিময় জীবন কামনা করি।

ড. কামাল উদ্দিন আহাম্মদ : উপাচার্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা
kuahamed@yahoo.com